গাজা যখন ধ্বংসপ্রায়, বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চার নৈতিক অবস্থান নিয়েও গভীর প্রশ্ন উঠছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জেনোসাইডের (গোষ্ঠীনিধন বা প্রচলিত বাংলায় গণহত্যা) অভিযোগ করা যায় কি না, এই প্রশ্নে পণ্ডিতদের মধ্যে সাম্প্রতিক কালে যে বিভেদ তৈরি হয়েছে, তা জেনোসাইড স্টাডিজ বা গণহত্যা অধ্যয়নকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীভৎসতা থেকে জন্ম নেওয়া এই অধ্যয়নক্ষেত্রটি দীর্ঘদিন হলোকাস্টের ‘ব্যতিক্রমবাদের’ আলাপে মগ্ন ছিল। এর পক্ষের গবেষকদের যুক্তি ছিল, যেহেতু হলোকাস্টের মতো সংগঠিত ধ্বংসযজ্ঞের অন্য কোনো নজির নেই, তাই তা এককভাবে বিশ্লেষণযোগ্য। অন্য কথায়, হলোকাস্টই একমাত্র জেনোসাইড। 

হলোকাস্ট গবেষণার ইতিহাসে একটা উল্লেখযোগ্য প্রবণতা হলো, গণহত্যাবিষয়ক অনেক বিখ্যাত পণ্ডিত ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে, এই অধ্যয়নক্ষেত্রের শুরুর দিকের গবেষকেরা হলোকাস্ট বা শোয়াহর (ধ্বংসযজ্ঞ) পর ইসরায়েলকে ‘তেকুমা’ (একধরনের পুনর্জন্ম বা পুনরুজ্জীবন) হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁদের লেখায় ইসরায়েলকে সব সময় সর্বোচ্চ ভুক্তভোগী ও নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, যেখানে ইসরায়েল নিজে কখনোই আক্রমণকারী নয়। এই ধারার সমর্থকদের অনেকে ইসরায়েলকে একটি বিশেষ নৈতিক অবস্থানের অধিকারী মনে করেন এবং এর সমালোচনামূলক যেকোনো পদক্ষেপকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। 

তবে নব্বইয়ের দশকে বসনিয়া ও রুয়ান্ডার গণহত্যার মতো ঘটনাগুলো হলোকাস্টের সেই ব্যতিক্রমবাদী চিন্তাভাবনায় চিড় ধরায় এবং হলোকাস্টের তুলনামূলক বিশ্লেষণের এক নতুন প্রবণতা দেখা দেয়। অর্থাৎ, হলোকাস্ট অন্যান্য জেনোসাইডের মধ্যে একটি, কাজেই ‘অনন্য’ নয়। এই ধারার অনেকে বরং ইসরায়েলকে একটি বসতি স্থাপনকারী ঔপনিবেশিক কাঠামোর অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত পদক্ষেপগুলোকে গণহত্যার সংজ্ঞার আওতাধীন ধরা হয়। 

তাই স্টকটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলোকাস্ট ও গণহত্যা বিষয়ের অধ্যাপক রাজ সেগাল যখন ৭ অক্টোবর-পরবর্তী ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপকে গণহত্যার ধ্রুপদি দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন যে ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশনে বর্ণিত ‘অভিপ্রায়’ নিয়েই ইসরায়েল এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তখন হলোকাস্ট ও গণহত্যাবিষয়ক পণ্ডিতদের দীর্ঘদিনের সুপ্ত বিভেদ যেন নতুন করে সামনে চলে এল। বলা বাহুল্য, রাজ একা নন। একই শিবিরে নিজস্ব মতামতসহ অন্তর্ভুক্ত আছেন ওমের বার্তভ, ডির্ক মোজেস কিংবা অ্যামোস গোল্ডবার্গের মতো প্রভাবশালী ইতিহাসবিদেরাও। 

ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা এই অধ্যয়নক্ষেত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের জন্য অপরিহার্য। এটি গণহত্যা অধ্যয়নক্ষেত্রটির জন্য একটি সুযোগও বটে, যা এই বিষয়কে আরও ব্যাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গণহত্যা প্রতিরোধের জন্য আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। গাজার রক্তক্ষরণ আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার জন্য জ্ঞানজাগতিক নীরবতা কোনো বিকল্প নয়। 

বলে রাখা ভালো, ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন অনুযায়ী জেনোসাইড বা গণহত্যার পেছনে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে একটি জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার ‘অভিপ্রায়’ থাকতে হবে। এই ‘বিশেষ অভিপ্রায়’ প্রমাণ করা আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় খুবই জটিল। ডির্ক মোজেস, যিনি ‘জার্নাল অব জেনোসাইড রিসার্চ’-এর সম্পাদক, যুক্তি দেন যে ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রগুলো ‘সামরিক প্রয়োজনের’ নামে কিংবা ‘স্থায়ী নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার অজুহাতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও গণহত্যা বা জেনোসাইডের অভিযোগ থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। 

মোজেস উল্লেখ করেন, হলোকাস্টের আদলে তৈরি এই কঠোর সংজ্ঞা, যা ‘গোষ্ঠী হিসেবে’ ধ্বংসের অভিপ্রায়কে মূল শর্ত হিসেবে দেখে, তা ব্যাপক বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের নানা ঘটনাকেও গণহত্যার সংজ্ঞার বাইরে রেখে দিতে পারে। মোজেসের এই বিশ্লেষণ গণহত্যার আইনি সংজ্ঞা এবং এর বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে এক বিশাল ফারাক তুলে ধরে, যা বর্তমান গাজার পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। 

আবার অনেক বিশ্লেষক, বিশ্বের বিভিন্ন ভুক্তভোগী গোষ্ঠী কর্তৃক গণহত্যার স্বীকৃতি পাওয়ার অবিরাম দাবি তোলার বিকল্প হিসেবে ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি বা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ বিষয়ে আরও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। কেননা এর আওতায় অপরাধ প্রমাণ করতে, গণহত্যার সংজ্ঞার মতো, অপরাধীর বিশেষ অভিপ্রায় প্রমাণ করার বাধ্যবাধকতা নেই। 

এ ছাড়া গণহত্যার সংজ্ঞায় যে নির্দিষ্ট কিছু ভুক্তভোগী শ্রেণি (যেমন জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠী) উল্লেখ করা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। আর এটি শুধু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়, শান্তিকালেও এর প্রয়োগ সম্ভব। ফলে এটি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন বা ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকেও আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে অনেক বেশি উপযোগী।

অবশ্য ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য ‘অমানবিক’ মন্তব্য এবং গাজায় সংঘটিত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞকে গণহত্যার ‘অভিপ্রায়ের’ সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবেই দেখা সম্ভব। স্মরণ করিয়ে দিই, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ফিলিস্তিনিদের ‘মানবপশু’ বলে অভিহিত করেছিলেন। 

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য সমগ্র গাজাবাসীকেই ‘দায়ী’ বলে দাবি করেছিলেন। এমনকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে কথা বলার সময় বাইবেলের ‘আমলেক’ কাহিনির উল্লেখ করেন, যা মূলত একটি গণহত্যার ঘটনা। অর্থাৎ, ইসরায়েলি পক্ষ থেকে গণহত্যার ইঙ্গিত বহন করে এমন অনেক বিবৃতি এসেছে, যা আইনি প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

গাজায় ইসরায়েলি হামলার ফলে নতুন করে তৈরি হওয়া এসব তর্কবিতর্কের পটভূমিতে আবদুল ওয়াহাব আল-আফেন্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ লেখক গণহত্যা অধ্যয়নের নিষ্ফলতা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, যদি প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো ‘প্রায় গণহত্যামূলক’ কর্মকাণ্ডকেও বৈধ নীতি হিসেবে দেখে, তাহলে এই অধ্যয়নক্ষেত্রটির সংহতি ভেঙে পড়বে এবং এর প্রাসঙ্গিকতা হারাবে। 

আল-আফেন্দি জোর দেন যে কোনো পদক্ষেপকে যদি সম্ভাব্য গণহত্যা বলেও বিবেচনা করা হয়, তবে তা প্রশ্নাতীতভাবে নিন্দনীয়, বিশেষ করে যখন তা একটি অন্যায্য ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, যদি প্রভাবশালীরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন, তবে এটি শুধু এই অধ্যয়নক্ষেত্রের জন্য নয়, বরং মানবতার জন্য একটি বড় বিপর্যয়। তাই তিনি মনে করেন, গণহত্যা অধ্যয়নকে অবশ্যই অপরাধী এবং তাদের সমর্থকদের বয়ানগুলোকে মৌলিকভাবে প্রশ্ন করে যেতে হবে। 

তাহলে গণহত্যা অধ্যয়ন কি হলোকাস্টের ব্যতিক্রমবাদের ধারণায় আটকে থাকবে, নাকি ফিলিস্তিনিদের মতো ‘অযোগ্য ভুক্তভোগীদের’ অভিজ্ঞতাকেও অন্তর্ভুক্ত করবে? গাজাকেন্দ্রিক বিতর্কের ফলে অধ্যয়নক্ষেত্রটির মোড় ঘুরছে বলেই মনে হয়। রাজ সেগাল এবং লুয়িগি ড্যানিয়েলের মতে, গাজার সংঘাত হলোকাস্ট ও গণহত্যা অধ্যয়নের ‘নজিরবিহীন সংকট থেকে নজিরবিহীন পরিবর্তনের’ দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাঁরা মনে করেন, ইসরায়েল প্রশ্নে ব্যতিক্রমবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। 

কাজেই গণহত্যা অধ্যয়নের ক্ষেত্রকে অবশ্যই হলোকাস্টের পাশাপাশি অন্যান্য গণহত্যার তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য একটি উন্মুক্ত এবং সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করতে হবে। এটি করতে পারলে আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং রাজনৈতিক অভিপ্রায় ও কর্মের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। 

ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা এই অধ্যয়নক্ষেত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের জন্য অপরিহার্য। এটি গণহত্যা অধ্যয়নক্ষেত্রটির জন্য একটি সুযোগও বটে, যা এই বিষয়কে আরও ব্যাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গণহত্যা প্রতিরোধের জন্য আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। গাজার রক্তক্ষরণ আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার জন্য জ্ঞানজাগতিক নীরবতা কোনো বিকল্প নয়। 

মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান পিএইচডি গবেষক, স্ট্রসলার সেন্টার ফর হলোকাস্ট অ্যান্ড জেনোসাইড স্টাডিজ, ক্লার্ক ইউনিভার্সিটি এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: গণহত য র স জ ঞ ন ত ক অবস থ ন র জন য একট হল ক স ট র ইসর য় ল র ধ ব সযজ ঞ ও গণহত য ব তর ক অন ক ব উল ল খ পদক ষ ব ষয়ক অপর ধ

এছাড়াও পড়ুন:

ইসরায়েল ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনকে  রাষ্ট্রীয় নীতি’ হিসেবে ব্যবহার করছে

জাতিসংঘের নির্যাতন বিষয়ক কমিটি জানিয়েছে, ইসরায়েল কার্যত ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনের রাষ্ট্রীয় নীতি’ পরিচালনা করছে এবং এর প্রমাণ রয়েছে। শনিবার কমিটির বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

কমিটি নিয়মিতভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী সব দেশের রেকর্ড পর্যালোচনা করে, তাদের সরকার এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

ইসরায়েলের পর্যালোচনার সময় ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি উভয় অধিকার গোষ্ঠীই ইসরায়েলি আটক কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে।

প্রশাসনিক আটক এবং অবৈধ যোদ্ধাদের - সন্দেহভাজনদের যাদের যুদ্ধবন্দী হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায় না - ইসরায়েলের আইন অনুসারে, তাদের আইনজীবী বা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা যেতে পারে।

অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার জানিয়েছে, তারা মাসের পর মাস অপেক্ষা করেছে। এমনকি জানতেও পারেনি যে তাদের প্রিয়জনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টিকে জাতিসংঘের কমিটি ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ বলে অভিহিত করেছে।

কমিটি বিশেষভাবে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং বয়স্কদেরসহ পুরো ফিলিস্তিনিদের আটক করার জন্য ইসরায়েলের অবৈধ যোদ্ধা আইন ব্যবহারের সমালোচনা করেছে।

কমিটি প্রাপ্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের নিয়মিতভাবে খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং তাদের প্রচণ্ড মারধর, কুকুরের আক্রমণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা, জল সরবরাহ এবং যৌন সহিংসতার শিকার হতে হয়। কিছু বন্দিকে স্থায়ীভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, টয়লেটে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং ডায়াপার পরতে বাধ্য করা হয়।

কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে এই ধরনের আচরণ ‘যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।’ এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনের রাষ্ট্রীয় নীতি’ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে গণহত্যার অপরাধের একটি।

ইসরায়েল বারবার গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।


 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ইসরায়েল ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনকে  রাষ্ট্রীয় নীতি’ হিসেবে ব্যবহার করছে