ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ নিতে ২০টির বেশি দেশের জরুরি সম্মেলন, থাকছে বাংলাদেশও
Published: 13th, July 2025 GMT
ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রতিবাদে আগামী সপ্তাহে কলম্বিয়ায় একটি জরুরি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে স্পেন, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, তুরস্ক, চীন, কাতারসহ ২০টির বেশি দেশ অংশ নেবে। সময় বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সম্মেলনে বাংলাদেশও প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকেরা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, সম্মেলন থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটায় আগামী ১৫-১৬ জুলাই এ সম্মেলন হবে। দ্য হেগ গ্রুপের যৌথ সভাপতি হিসেবে কলম্বিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সম্মিলিতভাবে এটি আয়োজন করছে। ইসরায়েল ও তার শক্তিশালী মিত্রদের পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধের ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ রোধে আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্দেশ্যে চলতি বছরের শুরুতে দ্য হেগ গ্রুপ গঠন করা হয়।
আরও পড়ুনইসরায়েলের সমালোচনা করায় জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা০৯ জুলাই ২০২৫চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে গ্রুপটি গঠিত হয়। গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আটটি দেশ। দেশগুলো হলো বলিভিয়া, কলম্বিয়া, কিউবা, হন্ডুরাস, মালয়েশিয়া, নামিবিয়া, সেনেগাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপটির ঘোষিত লক্ষ্য, ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে বাধ্য করা।
দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী রোলান্ড লামোলা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘জানুয়ারিতে দ্য হেগ গ্রুপ গঠিত হওয়া ছিল একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা। এটি বিশ্বব্যাপী বিশেষ সুবিধাভোগের সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবমাননার বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় প্রতিক্রিয়া হিসেবে হাজির হয়েছে।’
দ্য হেগ গ্রুপের ঘোষিত লক্ষ্য হলো, ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে বাধ্য করা।লামোলা বলেন, ‘একই মনোভাব থেকে বোগোটার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে উপস্থিত রাষ্ট্রগুলো একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে—কোনো দেশ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং সব অপরাধকেই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
‘আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করব, যার মাধ্যমে ইসরায়েলের হাতে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংসযজ্ঞ দ্রুত থামানো যাবে,’ বলেন লামোলা।
আরও পড়ুনইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের গাজা নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার কে এই আলবানিজ১১ জুলাই ২০২৫গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের তাণ্ডবে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ হত্যাযজ্ঞকে ক্রমেই আরও বেশিসংখ্যক বিশেষজ্ঞ ও দেশ গণহত্যা বলে নিন্দা জানাচ্ছে। ইসরায়েলের হামলায় অবরুদ্ধ উপত্যকাটির প্রায় সব জনসংখ্যা, তথা প্রায় ২১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেকে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেই সঙ্গে চলছে খাবার, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য পণ্যের তীব্র সংকট।
কলম্বিয়ার বহুপক্ষীয় সম্পর্কবিষয়ক উপমন্ত্রী মাওরিসিও জারামিলো জাসির মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা আমাদের সামগ্রিক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে।’
আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করব, যার মাধ্যমে ইসরায়েলের হাতে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংসযজ্ঞ দ্রুত থামানো যাবে।রোলান্ড লামোলা, দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রীবর্ণবাদ ও জাতিগত নির্মূলের এ ঘটনায় কলম্বিয়া নির্লিপ্ত থাকতে পারে না জানিয়ে জারামিলো জাসির বলেন, ‘বোগোটায় উপস্থিত দেশগুলো গণহত্যার বিরুদ্ধে শুধু আমাদের প্রতিরোধের অঙ্গীকারই পুনর্ব্যক্ত করবে না; বরং মুখের কথা থেকে যৌথ কর্মপরিকল্পনায় যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণেরও উদ্যোগ নেবে।’
আসন্ন সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠাতে সম্মত দেশগুলো হলো আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, কিউবা, জিবুতি, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, লেবানন, মালয়েশিয়া, নামিবিয়া, নিকারাগুয়া, ওমান, পর্তুগাল, স্পেন, কাতার, তুরস্ক, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, উরুগুয়ে ও ফিলিস্তিন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের (বাঁয়ে) সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস। ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, ১২ এপ্রিল ২০২৪.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ইসর য় ল র ক টন ত ক কলম ব য পদক ষ প ইসর য আইন র
এছাড়াও পড়ুন:
ইসরায়েল ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনকে রাষ্ট্রীয় নীতি’ হিসেবে ব্যবহার করছে
জাতিসংঘের নির্যাতন বিষয়ক কমিটি জানিয়েছে, ইসরায়েল কার্যত ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনের রাষ্ট্রীয় নীতি’ পরিচালনা করছে এবং এর প্রমাণ রয়েছে। শনিবার কমিটির বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
কমিটি নিয়মিতভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী সব দেশের রেকর্ড পর্যালোচনা করে, তাদের সরকার এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
ইসরায়েলের পর্যালোচনার সময় ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি উভয় অধিকার গোষ্ঠীই ইসরায়েলি আটক কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েল হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে।
প্রশাসনিক আটক এবং অবৈধ যোদ্ধাদের - সন্দেহভাজনদের যাদের যুদ্ধবন্দী হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায় না - ইসরায়েলের আইন অনুসারে, তাদের আইনজীবী বা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা যেতে পারে।
অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার জানিয়েছে, তারা মাসের পর মাস অপেক্ষা করেছে। এমনকি জানতেও পারেনি যে তাদের প্রিয়জনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টিকে জাতিসংঘের কমিটি ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ বলে অভিহিত করেছে।
কমিটি বিশেষভাবে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং বয়স্কদেরসহ পুরো ফিলিস্তিনিদের আটক করার জন্য ইসরায়েলের অবৈধ যোদ্ধা আইন ব্যবহারের সমালোচনা করেছে।
কমিটি প্রাপ্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের নিয়মিতভাবে খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং তাদের প্রচণ্ড মারধর, কুকুরের আক্রমণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা, জল সরবরাহ এবং যৌন সহিংসতার শিকার হতে হয়। কিছু বন্দিকে স্থায়ীভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, টয়লেটে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং ডায়াপার পরতে বাধ্য করা হয়।
কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে এই ধরনের আচরণ ‘যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।’ এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনের রাষ্ট্রীয় নীতি’ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে গণহত্যার অপরাধের একটি।
ইসরায়েল বারবার গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ঢাকা/শাহেদ