ঢাকায় আয়োজিত বসতি মেলায় অংশ নিয়েছিলো দেশের সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটন। মেলায় ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচারসমৃদ্ধ লিফট এবং এসি প্রদর্শন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি দুই দিনব্যাপী এ মেলায় গ্রাহক ও দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে  অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। মেলার মাধ্যমে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ওয়ালটনের ব্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণের।

আরো পড়ুন:

ওয়ালটন বাংলাদেশের গর্বের প্রতিষ্ঠান, বললেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

ওয়ালটন লিফটসহ অন্যান্য পণ্য উৎপাদন প্ল্যান্টস পরিদর্শন করলেন ডেভেলপাররা 

বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৫ উপলক্ষে গত ৬ ও ৭ অক্টোবর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ওই বসতি মেলা। এতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট এবং ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতের সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটনসহ  বিভিন্ন স্তরের মোট ৩৬টি কোম্পানি অংশ নেয়। মেলায় দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনে স্টল স্থাপন করেছিলো ওয়ালটন।

জানা গেছে, মেলার প্রথম দিন ওয়ালটনের স্টল পরিদর্শন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। এসময় তিনি দেশের ইলেকট্রনিক্স খাতে ওয়ালটনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। সেসময় আরো উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো.

রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরসমূহের প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীগণ।

ওয়ালটনের স্টল পরিদর্শনকালীন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি বিশ্বমানের পণ্য  প্রস্তুত, বাজারজাত ও রপ্তানি করছে ওয়ালটন। এটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বাংলাদেশে এরকম বেশি সংখ্যক আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে একসময় দেশ অনন্য উচ্চতায় উঠবে। ওয়ালটনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স খাতে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করছে বাংলাদেশ। আমাদের প্রত্যাশা, ওয়ালটন তাদের পণ্যের আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেবে।”

মেলায় ওয়ালটন এসির চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মো. তানভীর রহমান বলেন, “ওয়ালটন এআই, আইওটি বেজড বিশ্বের সর্বাধুনিক ও উদ্ভাবনী টেকনোলজির পরিবেশবান্ধব এসি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। ওয়ালটন এসির কম্প্রেসরে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বস্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব আর-২৯০ গ্যাস। যা বায়ুমন্ডলে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস করে ওজোন স্তর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ওয়ালটন এসি বিটিইউ স্ট্যান্ডার্ড শতভাগ কুলিং ক্যাপাসিটি নিশ্চিত করবে। ওয়ালটন এসি অর্জন করেছে বিএসটিআইয়ের ৬-স্টার অ্যানাজিং রেটিং সনদ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী এসি। এ জন্য এসি কেনার সময় অবশ্যই বিএসটিআই কর্তৃক অ্যানার্জি রেটিং দেখে কেনা উচিত।”

তিনি আরো বলেন, “দেশেই আন্তর্জাতিকমানের ব্যাপকমাত্রায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ভিআরএফ (ভেরিয়্যাবল রেফ্রিজারেট ফ্লো) এসি উৎপাদন করছে ওয়ালটন। ওয়ালটনের আছে সোলার হাইব্রিড এসি। ওয়ালটনের এসি রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে সর্বাধুনিক ও উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন চিলার টাইপ কমার্শিয়াল এসি রপ্তানি করেছে ওয়ালটন।”

মেলায় ওয়ালটন লিফটের সিবিও জেনান উল ইসলাম জানান, ওয়ালটন লিফট ম্যানুফ্যাকচারিং প্রজেক্টে কয়েকশত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার গতি সম্পন্ন লিফট টেস্টিং টাওয়ার রয়েছে। বর্তমানে বাৎসরিক এক হাজারেরও বেশি ইউনিট লিফট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ওয়ালটনের। ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণে তৈরি ওয়ালটন লিফট সাশ্রয়ী মূল্যে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টে সর্বোচ্চ মানের কাঁচামাল, অত্যাধুনিক মোটর এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের লিফট তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে ওয়ালটনের বিভিন্ন ধরনের লিফট পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে প্যাসেঞ্জার ও কার্গো লিফট, হাইড্রোলিক কার লিফট, হোম, হাসপাতাল ও ক্যাপসুল লিফট। এসব লিফট বাসাবাড়ি, বহুতল বিপণিবিতান, হাসপাতাল ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মেলায় প্রযুক্তিপণ্য দিয়ে গ্রাহক-দর্শনার্থীদের বিস্মিত করেছে ওয়ালটন। তাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে ওয়ালটনের নিরাপত্তাঝুঁকিহীন পরিবেশবান্ধব লিফট ও এসিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য।

ঢাকা/ইভা 

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

দুনিয়া কাঁপানো চ্যাটজিপিটির জন্মদিন আজ

প্রযুক্তি–দুনিয়াকে পুরোপুরি বদলে দেওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’-এর জন্মদিন আজ। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর যাত্রা শুরু করা চ্যাটজিপিটি চালুর মাত্র দুই মাসের মধ্যে ১০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বর্তমানে বয়স-পেশানির্বিশেষে অনেকেই চ্যাটজিপিটি নিয়মিত ব্যবহার করেন, ফলে মাত্র তিন বছরের মধ্যে ৮০ কোটির বেশি সক্রিয় সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর মাইলফলক অর্জন করেছে চ্যাটজিপিটি।

ওপেনএআইয়ের তৈরি চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর থেকে প্রযুক্তি, সমাজ ও অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন হয়েছে। এটি কেবল একটি চ্যাটবট নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এখন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে এনে দেওয়া এক যুগান্তকারী হাতিয়ার। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি এআই চ্যাটবট বাজারে আনলেও চ্যাটজিপিটি নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

চ্যাটজিপিটির মূল ভিত্তি হলো বিশাল তথ্যভান্ডারযুক্ত জিপিটি কাঠামো, যা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (এলএলএম) মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তাই চ্যাটজিপিটি মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাষায় কথোপকথনের পাশাপাশি কোড লেখা, জটিল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং সৃজনশীল লেখা তৈরি করতে পারে। দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের কারণে বর্তমানে চ্যাটজিপিটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশিবার ভিজিট করা ওয়েবসাইটের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে চ্যাটজিপিটি।

চ্যাটজিপিটি যেকোনো বার্তার উত্তর দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দিতে পারে। নিজ থেকে বার্তা, নিবন্ধ বা কবিতাও লিখে থাকে। নির্ভুল শব্দচয়ন ও ভাষা ব্যবহার করায় চ্যাটজিপিটির লেখা মানুষের মতোই হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভার্চ্যুয়াল শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সৃজনশীল বিষয়বস্তু তৈরিসহ দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণেও ভূমিকা রাখছে।

মানবজাতির কল্যাণে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’। সংস্থাটির উদ্যোক্তা সংখ্যা মোট ১১ জন, যাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন গ্রেগ ব্রকম্যান (বর্তমান প্রেসিডেন্ট), স্যাম অল্টম্যান (বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) ও ইলন মাস্ক (পেপাল, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা) অন্যতম। পরে কোম্পানি থেকে সরে দাঁড়ান ইলন মাস্ক, কিন্তু অল্টম্যান থেকে যান। তাঁর হাত ধরেই আসে চ্যাটজিপিটি।

সান ফ্রান্সসিসকোতে অবস্থিত ওপেনএআই শুরু থেকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করলেও গত অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ওপেনএআইয়ের ২৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে মাইক্রোসফটের দখলে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার।

সম্পর্কিত নিবন্ধ