জাবিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের বিচার দাবি
Published: 12th, October 2025 GMT
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সেনা সদস্যের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের অধীনে বিচার নিশ্চিতের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানববন্ধন করা হয়েছে।
রবিবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পাদদেশে এই কর্মসূচির আয়োজন করে জাবি শাখা বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)।
আরো পড়ুন:
খুলনায় শিশু জিসান হত্যা: আসামির বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
শিশু তায়েবা হত্যার বিচার দাবিতে আদালত চত্বরে মানববন্ধন
এ সময় বাগছাস জাবি শাখা সদস্য এবং জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী আমাদের সেনাবাহিনী। তাদের সমর্থনে জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। সেনাবাহিনীর যারা জাতীয় বীর তাদের মূল্যায়ন করা হোক। তবে বিগত সময়ে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য গুম, খুন, হত্যা ও লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল।”
তিনি বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সোপর্দ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। আগামীদিনে কেউ বাংলাদেশ পন্থার বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে না পারে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।”
বাগছাস জাবি শাখা সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব ফারহানা বিনতে জিগার ফারিনা বলেন, “আমাদের দেশের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও আওয়ামী শেষ পেরেক মারে সরকারের অধীনে থাকা ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে গুম ও খুনের মাধ্যমে। আমাদের আফসোসের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, গুম, খুনের সঙ্গে যে-সকল কর্মকর্তা এবং তাদের আন্ডারে যারা কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রমাণ দিতে ব্যর্থতা এবং অপারগতা দেখা যাচ্ছে। আমরা গোয়েন্দাদের বলতে চাই— আপনারা জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের অজপাড়াগাঁ থেকে খুঁজে খুঁজে আনতে পারেন, কিন্তু অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের খুঁজে পাচ্ছেন না।”
তিনি বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগ এবং গোয়েন্দাদের কঠিন হুঁশিয়ারি সুরে বলতে চাই, আপনারা যারা এসব নাটক খেলছেন, ছাত্রসমাজ এসব বুঝে। আপনারা আদালত থেকে ছাড় পেলেও ছাত্রসমাজ থেকে ছাড় পাবেন না। দীর্ঘ ১৫ বছরে নির্যাতিত বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরাও মুখে কুলুপ এঁটে আছে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। কিন্তু আমরা যারা ভুক্তভোগী এবং আপামর জনগণের সময় এসেছে এ বিষয়ে কথা বলার, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের বিচার নিশ্চিত হচ্ছে।”
বাগছাস জাবি শাখার সিনিয়র সদস্য সচিব এবং জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন-বিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, “আমরা গুম কমিশনের রিপোর্টে দেখেছি কীভাবে বিরোধী মতের মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বাসা থেকে তুলে এনে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে আয়না ঘরে। নারীদের আয়না ঘরে ধর্ষণ করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তবে বিগত হাসিনা সরকার তাদের কিছু অফিসারকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক সেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায়া জারি করেছে। আমরা চাই, তাদের বিচার মার্শাল কোর্টে নয়, অপরাধ আদালতের মাধ্যমে হতে হবে।”
ঢাকা/আহসান/মেহেদী
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর আম দ র অপর ধ সদস য
এছাড়াও পড়ুন:
সিদ্ধিরগঞ্জ মসজিদ ভাঙ্গায় যুবদল নেতার শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়াকফকৃত জমিতে নির্মিত মসজিদ ভেঙে ফেলায় সাবেক যুবদল নেতা শহিদুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বাদ জুম্মা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সালু হাজী রোড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বক্তরা বলেন, মসজিদ ভাঙার মূলহোতা শহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে ক্ষামা চাইতে হবে। তারা নিজ অর্থে পুনরায় মসজিদ নির্মাণ করে দিতে হবে। পাশাপাশি এমন জগন্ন কাজ করার অপরাধে তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যতায় ধর্মপ্রাণ মানুষ চুপ করে বসে থাকবে না।
কর্মসূচি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির গৃহায়ন ভূমি ও পুনর্বাসন সম্পাদক আবুল খায়ের শান্ত বলেন, আমরা প্রথমে ধারণা করেছিলাম সরকারিভাবে পুন:নির্মাণের জন্য মসজিদটি ভাঙা হচ্ছে।
পরে জানতে পারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের সাবেক যুগ্নসম্পাদক দাবিদার ভূমি খেকো শহিদুল ইসলামের নেতৃতে আব্দুল হান্নান ও সুমন সন্ত্রাসী কায়দায় মসজিদ ভেঙে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তখন মসজিদ ভাঙার কারণ জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম জমির মালিক দাবি করেন। এ নিয়ে বারাবারি না করার জন্য বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেন।
স্থানীয় মার্কাজুল আজিজ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১৯৯২ সালে মসজিদের জন্য ৭ শতাংশ জমি দান করেন শিল্পপতি হাজী সালাউদ্দিন মিয়া।
স্থানীয় বাসিন্দা ও তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নামাজ আদায় করার জন্য ওই জমিতে একটি দুতলা মসজিদ নির্মাণ করেন তিনি। পরে ২০০২ সালের ৪ এপ্রিল ৫ শতাংশ জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন।
শহিদুল ইসলাম জাল দলিল সৃজন করে জমির মালিকানা দাবি করে কিছুদিন আগে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে হুমকি ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। মসজিদের জমি দাতার ছেলে মোতওয়াল্লি জসিম মিয়াসহ এলাকার কাউকে না জানিয়ে মসজিদ ভেঙে ফেলে।
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন বলেন, মসজিদ ভেঙে ফেলা হলেও এ জমিতে কোন ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। কারণ এটা ওয়াকফ করা মসজিদের জমি। কেউ যদি সহায়তা নাও করে আমি আমার নিজের অর্থ দিয়ে হলেও পুনরায় মসজিদ নির্মাণ করবো।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, মসজিদটি নিচু হয়ে গেছে। বর্ষকালে পানি উঠে। তাই পুনঃনির্মাণের জন্য ভাঙা হয়েছে। সামাজিকভাবে আলোচনা না করে আপনি একক সিদ্ধান্তে ভেঙেছেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্রয়সূত্রে এ জমির মালিক আমি।
এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। তবে নিচ ও দ্বিতীয় তলাটি মসজিদ হিসেবেই থাকবে। মসজিদের দেখা শোনা আমিই করবো। স্থানীয় কিছু লোকজন তা মানছেন না।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন, মুফতি বশির উল্লাহ, হাফেজ জাহের আলী, মাওলানা নূর হোসেন নুরানী, মুফতি আহসান উল্লাহ, মাওলানা কাশেম আল হোসাইন, মাওলানা জুনায়েদ, গণ অধিকার পরিষদের নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান মিল্কি, ৪ আসনের এমপি প্রার্থী আরিফ ভূঁইয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন প্রমুখ।