এক শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সহপাঠীদের বিক্ষোভ
Published: 14th, October 2025 GMT
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অস্ত্র রাখার অভিযোগে আজীবন বহিষ্কারাদেশ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছেন সহপাঠীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা একটায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এরপর সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সহ-উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে দাবি জানায়। এর আগে একই দাবিতে দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে একটি মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুনশাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ২৫ শিক্ষার্থীর সাজা৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটের ২৩৭তম সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, হলের কক্ষে অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ জনকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে মামুন মিয়া নামে এক শিক্ষার্থী আছেন। তিনি বর্তমানে লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি শাহপরান হলে থাকতেন। তাঁর সহপাঠীদের দাবি, মামুন মিয়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আগেই হল ছেড়ে মেসে ওঠেন। আন্দোলনেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পরে কক্ষে অস্ত্র পেলে সেই দায়ভার মামুনের নয়।
বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা ‘মামুনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করো, করতে হবে’, ‘বহিষ্কারাদেশ, মানি না মানব না’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও লড়াই করো’—ইত্যাদি স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুস সবুর বলেন, ‘মামুন ভাইকে বহিষ্কার করা অযৌক্তিক। আমরা অপরাধীদের পক্ষ নিচ্ছি না, তবে যিনি নির্দোষ, তাঁকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা অন্যায়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নির্দোষ মামুন ভাইয়ের জন্যই আমরা দাঁড়িয়েছি। সিন্ডিকেটে বিষয়টি উত্থাপন করে দ্রুতই মামুন ভাইয়ের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হোক।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, হলের কক্ষে অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৯ নেতা–কর্মীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থীকে চার সেমিস্টার, ১ জনকে তিন সেমিস্টার, ১১ জনকে দুই সেমিস্টার, ১৫ জনকে সাময়িক বহিষ্কার এবং ৮ জনকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ পাওয়া শিক্ষার্থীদের আপিল পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
সিদ্ধিরগঞ্জ মসজিদ ভাঙ্গায় যুবদল নেতার শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়াকফকৃত জমিতে নির্মিত মসজিদ ভেঙে ফেলায় সাবেক যুবদল নেতা শহিদুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বাদ জুম্মা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সালু হাজী রোড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বক্তরা বলেন, মসজিদ ভাঙার মূলহোতা শহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে ক্ষামা চাইতে হবে। তারা নিজ অর্থে পুনরায় মসজিদ নির্মাণ করে দিতে হবে। পাশাপাশি এমন জগন্ন কাজ করার অপরাধে তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যতায় ধর্মপ্রাণ মানুষ চুপ করে বসে থাকবে না।
কর্মসূচি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির গৃহায়ন ভূমি ও পুনর্বাসন সম্পাদক আবুল খায়ের শান্ত বলেন, আমরা প্রথমে ধারণা করেছিলাম সরকারিভাবে পুন:নির্মাণের জন্য মসজিদটি ভাঙা হচ্ছে।
পরে জানতে পারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের সাবেক যুগ্নসম্পাদক দাবিদার ভূমি খেকো শহিদুল ইসলামের নেতৃতে আব্দুল হান্নান ও সুমন সন্ত্রাসী কায়দায় মসজিদ ভেঙে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তখন মসজিদ ভাঙার কারণ জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম জমির মালিক দাবি করেন। এ নিয়ে বারাবারি না করার জন্য বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেন।
স্থানীয় মার্কাজুল আজিজ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১৯৯২ সালে মসজিদের জন্য ৭ শতাংশ জমি দান করেন শিল্পপতি হাজী সালাউদ্দিন মিয়া।
স্থানীয় বাসিন্দা ও তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নামাজ আদায় করার জন্য ওই জমিতে একটি দুতলা মসজিদ নির্মাণ করেন তিনি। পরে ২০০২ সালের ৪ এপ্রিল ৫ শতাংশ জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন।
শহিদুল ইসলাম জাল দলিল সৃজন করে জমির মালিকানা দাবি করে কিছুদিন আগে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে হুমকি ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। মসজিদের জমি দাতার ছেলে মোতওয়াল্লি জসিম মিয়াসহ এলাকার কাউকে না জানিয়ে মসজিদ ভেঙে ফেলে।
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন বলেন, মসজিদ ভেঙে ফেলা হলেও এ জমিতে কোন ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। কারণ এটা ওয়াকফ করা মসজিদের জমি। কেউ যদি সহায়তা নাও করে আমি আমার নিজের অর্থ দিয়ে হলেও পুনরায় মসজিদ নির্মাণ করবো।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, মসজিদটি নিচু হয়ে গেছে। বর্ষকালে পানি উঠে। তাই পুনঃনির্মাণের জন্য ভাঙা হয়েছে। সামাজিকভাবে আলোচনা না করে আপনি একক সিদ্ধান্তে ভেঙেছেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্রয়সূত্রে এ জমির মালিক আমি।
এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। তবে নিচ ও দ্বিতীয় তলাটি মসজিদ হিসেবেই থাকবে। মসজিদের দেখা শোনা আমিই করবো। স্থানীয় কিছু লোকজন তা মানছেন না।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন, মুফতি বশির উল্লাহ, হাফেজ জাহের আলী, মাওলানা নূর হোসেন নুরানী, মুফতি আহসান উল্লাহ, মাওলানা কাশেম আল হোসাইন, মাওলানা জুনায়েদ, গণ অধিকার পরিষদের নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান মিল্কি, ৪ আসনের এমপি প্রার্থী আরিফ ভূঁইয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন প্রমুখ।