হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের, কিন্তু কীভাবে তা বললেন না
Published: 15th, October 2025 GMT
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (১৩ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষে এই অঞ্চলের জন্য একটি ‘নতুন দিন’ উদযাপন করেছেন। কারণ তার মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির যে চুক্তি হয়েছে, তার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে সাংবাদিকদের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হোন।
আরো পড়ুন:
গাজা চুক্তির ‘দ্বিতীয় পর্যায়’ শুরুর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির দাবি এড়িয়ে গেলেন ট্রাম্প
গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ। ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় এর উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু চুক্তির প্রথম পর্যায়ে বিষয়টি খোলাসা করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘দ্বিতীয় পর্যায়’ শুরুর ঘোষণা দেন।
মার্কিন চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজায় একটি নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠন এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা কারেন ট্র্যাভার্স মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে কত সময় লাগবে এবং হামাস যে এটি করবে, তার গ্যারান্টি তিনি দিচ্ছেন কিনা।
উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “হামাস নিরস্ত্র হতে যাচ্ছে, কারণ তারা বলেছিল যে তারা নিরস্ত্র হবে। যদি হামাস অস্ত্র নামিয়ে না রাখে, তাহলে আমরাই তাদেরকে নিরস্ত্র হতে বাধ্য করবো।”
তিনি এটি কীভাবে করবেন, এবিসি নিউজের সাংবাদিক তা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটার ব্যাখ্যা আপনাকে দেব না। কিন্তু যদি হামাস নিরস্ত্র না হয়, আমরা তাদের নিরস্ত্র করব। তারা জানে আমি খেলা খেলছি না। তারা যদি অস্ত্র না ছাড়ে, তাহলে আমরা তাদেরকে নিরস্ত্র করব এবং এটি দ্রুত ও সম্ভবত সহিংসভাবে ঘটবে।”
হামাসকে নিরস্ত্র করার জন্য কতদিন লাগতে পারে, তা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “বেশ দ্রুত। একটি যুক্তিসঙ্গত সময়কাল।”
ট্রাম্প গাজায় পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তিনি জানান, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র এবং গাজা উপত্যকার শাসনব্যবস্থার জটিল বিষয়গুলো পরে সমাধান করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আমি বলতে চাচ্ছি, অনেক মানুষ এক-রাষ্ট্রীয় সমাধান পছন্দ করে। কিছু লোক দুই-রাষ্ট্রীয় সমাধান পছন্দ করে। বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে।”
এই ব্যবধান কীভাবে পূরণ করা যায় সে সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘আমি যা সঠিক বলে করি’ সেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ এবং গাজা পরিচালনা সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আরো কিছু বলার জন্য এবিসি নিউজের সাংবাদিক অনুরোধ করলে ট্রাম্প কেবল জানান, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার মিশরে জড়ো হওয়া বিশ্ব নেতাদের দলে ‘প্রচুর ক্ষমতাবান’ রয়েছেন।
তিনি বলেন, “আপনি জানেন, তারা সত্যিই ধনী দেশ এবং তারা এটি পরিচালনা করতে পারবে।”
ট্রাম্প এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিশরের পর্যটন শহর শারম আল-শেখে গাজা শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন জানাতে এই সম্মেলনে ২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রনেতা উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো শান্তি চুক্তির নথিতে স্বাক্ষর করেন।
ট্রাম্প এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি বলে অভিহিত করেছেন। তবে অনেকের কাছে এটিকে ‘প্রতীকী’ বলে মনে হয়েছে। কারণ এতে কেবল যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, তুরস্ক এবং কাতারের ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নীতির উপর ভিত্তি করে এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা’ নিশ্চয়তার ব্যাপক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু গাজা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ ছিল না।
মিসরের গাজা শান্তি সম্মেললে ইসরায়েল ও হামাসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ফলে এতে ইসরায়েল ও হামাস স্বাক্ষর করেনি।
সোমবার ইসরায়েল এবং গাজায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এদিন গাজায় জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস, একইসঙ্গে ইসরায়েলও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেয়। টানা কয়েক মাসের উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার পর ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।
ঢাকা/ফিরোজ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ইসর য় ল ট র ম প বল ন ইসর য় ল র জন য পর য য় স মব র
এছাড়াও পড়ুন:
বিপিএল নিলাম আজ, যা যা জানা প্রয়োজন
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১২তম আসরের খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া ‘প্লেয়ার্স অকশন’ বা খেলোয়াড় নিলাম আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। ছয় ফ্রাঞ্চাইজিদের নিয়ে হবে বিপিএলের পরবর্তী আসরের খেলোয়াড় নিলাম।
এই প্রক্রিয়া আগে ছিল, প্লেয়ার্স ড্রাফট। প্লেয়ার্স ড্রাফট ছিল অনেকটাই ভাগ্যের পরীক্ষা। সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করতো ভাগ্যের ওপর। নতুন করে বিপিএল শুরুর অপেক্ষায় থাকা বিপিএলে তাই পুরোনো দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বাদ। ড্রাফট বাদ দিয়ে নিলামের মাধ্যমে দল গোছানোর সুযোগ পাচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজিরা। সেখানে অবশ্য নির্দিষ্ট সীমানা ঠিক করে দিয়েছে বিসিবি।
নিলামের আগে যা যা জানা প্রয়োজন এক নজরে তা দেখে নেওয়া যাক,
নিলাম কবে, কখন, কোথায়:
৩০ নভেম্বর, বিকেল ৪টা, হোটেল র্যাডিসন
নিলামে অংশগ্রহণ করবে কারা:
ঢাকা ক্যাপিটালস, সিলেট টাইটান্স, রংপুর রাইডার্স, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
নিলামে কত ক্রিকেটার
বিসিবির পাঠানো চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা থেকে জানা গেছে, নিলামে উঠবেন ১৪৭ স্থানীয় ক্রিকেটার। বিদেশি ক্রিকেটার আছেন ২৬০ জন।
ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য
স্থানীয় ১৪৭ ও বিদেশি ২৬০ ক্রিকেটারের জন্য আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি এবং আলাদা আলাদা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছে বিসিবি। স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য পারিশ্রমিকের ছয়টি ক্যাটাগরি করেছে বোর্ড। এ ক্যাটাগরির পারিশ্রমিক ৫০ লাখ। এরপর যথাক্রমে ৩৫, ২২, ১৮, ১৪ ও ১১ লাখ। বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য পাঁচটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৩৫ হাজার ডলার। এরপর রয়েছে বি, সি, ডি এবং ই। পারিশ্রমিক যথাক্রমে ২৫, ২০, ১৫ ও ১০ হাজার ডলার।
কীভাবে হবে নিলাম
স্থানীয় ক্রিকেটারদের এ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকে মূল্য বাড়ানো যাবে ৫ লাখ টাকা। বি ক্যাটাগরির প্রতিটি ডাক মূল্য ৩ লাখ টাকা। এরপর সি ক্যাটাগরিতে ১ লাখ, ডি-ই-এফ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকের মূল্যা ৫০ হাজার টাকা। বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুসারে যথাক্রমে প্রতি ডাকে বাড়বে ৫ হাজার ডলার, ৩ হাজার ডলার, ২ হাজার ডলার, ১ হাজার ৫০০ ডলার এবং ১ হাজার ডলার।
সরাসরি চুক্তিতে স্থানীয় ক্রিকেটার
মেহেদী হাসান মিরাজ (সিলেট টাইটান্স), নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স), মোস্তাফিজুর রহমান (রংপুর রাইডার্স), নুরুল হাসান সোহান (রংপুর রাইডার্স), তাসকিন আহমেদ (ঢাকা ক্যাপিটালস), সাইফ হাসান (ঢাকা ক্যাপিটালস), হাসান মাহমুদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), সৌম্য সরকার (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), শেখ মেহেদী হাসান (চট্টগ্রাম রয়্যালস), তানভীর ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস), নাজমুল হোসেন শান্ত (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) ও তানজিদ হাসান তামিম (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স)।
সরাসরি চুক্তিতে বিদেশি ক্রিকেটার
অ্যালেক্স হেলস (ঢাকা ক্যাপিটালস), উসমান খান (ঢাকা ক্যাপিটালস), আহমেদ আবরার (চিটাগং রয়্যালস), মোহাম্মদ নওয়াজ (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), শাহিবজাদা ফারহান (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), খাজা নাফি (রংপুর রাইডার্স), শাফিয়ান মুকিম (রংপুর রাইডার্স), সাইম আইয়ুব (সিলেট টাইটান্স), মোহাম্মদ আমির (সিলেট টাইটান্স), কুশল মেন্ডিস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) ও জনসন চার্লস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস)।
স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্রয়সীমা
সর্বনিম্ন ১৪ জন স্থানীয় ক্রিকেটার ফ্রাঞ্চাইজিতে থাকতেই হবে। সর্বোচ্চ ১৬ জন স্থানীয় ক্রিকেটার রাখা হবে। সরাসরি সাইন করা বাদে দলগুলো স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য খরচ করতে পারবে সাড়ে চার কোটি টাকা। নিলাম থেকে অন্তত ১২ জন খেলোয়াড়কে কিনতেই হবে।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা নিয়মও আছে। এ এবং বি ক্যাটাগরি থেকে ২ জন স্থানীয় ক্রিকেটার থাকতেই হবে। সি এবং ডি ক্যাটাগরির খেলোয়াড় থাকতে হবে ৬ জন। ই এবং এফ ক্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড় থাকতে হবে ৪ জন।
বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য পৃথক নিময়
যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো বিদেশি ক্রিকেটার রেজিস্ট্রি করে বিপিএলে অংশ নিতে পারবে। নিলাম থেকে দলগুলোকে অন্তত ২ জন বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে হবে। সরাসরি সাইন করা খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক মিলিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করতে পারবে।
পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশনা
খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা দিয়েছে বিসিবি। মাঠে নামার আগেই ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন ক্রিকেটাররা। আরো ৫০ শতাংশ টাকা পেয়ে যাবেন ফাইনাল লিগ খেলার আগে এবং বাকি ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন টুর্নামেন্ট শেষ হবার ৩০ দিনের মধ্যে।
পরবর্তী আসরের জন্য..
বিপিএলের পরের আসরে যারা অংশগ্রহণ করবে তারা স্কোয়াড থেকে দুজন খেলোয়াড়কে রিটেইন করতে পারবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। নতুন করে যদি কোনো দল আসে তারা আগেভাগেই সরাসরি সাইনে দল বাছাই করতে পারবে।
নিলাম পরিচালনা করবেন
বিপিএলে নিলাম পরিচালনা করবেন রাফে নিজাম। এর আগেও তিনি বিপিএলে কাজ করেছেন।
ঢাকা/ইয়াসিন