বিচারব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কারের জন্য উচ্চ আদালতকেও সংস্কার করতে হবে: আসিফ নজরুল
Published: 15th, October 2025 GMT
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, শুধু নিম্ন আদালতের সংস্কার করলেই হবে না, উচ্চ আদালতের সংস্কার না হলে তাতে কোনো লাভ হবে না। নিম্ন আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হলেও উচ্চ আদালতে তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। বিচারব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কারের জন্য উচ্চ আদালতকেও সংস্কার করতে হবে।
আজ বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মতো ‘ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা বিচারব্যবস্থায় সময় কমাতে এবং বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি হ্রাস করতে অনেক কাজ করছি। ফৌজদারি কার্যবিধিতে পরিবর্তন এনে অনলাইনে সরকারি (বিচারক, চিকিৎসক ও পুলিশ) সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিভিল ও ক্রিমিনাল আদালত পৃথক করা হয়েছে, যাতে বিচারকেরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতে পারেন।’
‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করার কারণ ব্যাখ্যা করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জকে আমরা একসময় নির্যাতনের প্রতীক হিসেবে জানতাম। এখানে অনেক বড়, কুখ্যাত গডফাদার ছিল। এখানে নির্যাতন-অত্যাচারের ঘটনা, আলোচিত সাত খুনের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। আমরা নির্যাতনের বদলে মুক্তির জায়গা হিসেবে দেখতে চাই। এখন সেটিকে মুক্তির প্রতীকে পরিণত করতে চাই। সেই কারণেই অনলাইন ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করা হয়েছে।’
উচ্চ আদালতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা বলেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন উচ্চ আদালতের সংস্কারের জন্য ১৫টি প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু তার একটিও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। উচ্চ আদালতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যাঁরা আছেন, তাঁরা সচেতন হবেন। তিনি বলেন, ‘সংস্কার কাজ শেষ হয়নি, আমরা শেষ সময় পর্যন্ত সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাব।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ‘ই-বেইলবন্ড’ হলো বিচারব্যবস্থায় প্রবর্তিত একটি নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি, যার মাধ্যমে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর জামিননামা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কারাগারে চলে যাবে। এতে প্রচলিত ১২ ধাপের জটিল, সময়সাপেক্ষ ও হয়রানিমূলক প্রক্রিয়াটি বাদ পড়বে, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব বলেন, ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের সঙ্গে মুঠোফোন অ্যাপ তৈরি করা গেলে জনগণ আরও সহজে এ সেবা পাবেন। সাইবার সুরক্ষা আইন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ব্যক্তিগত উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন ক্যাবিনেটে পাস হয়েছে, তা গেজেট হওয়ার অপেক্ষায়। এই আইনগুলোর মাধ্যমে আন্তমন্ত্রণালয়ের তথ্য আদান-প্রদান সহজ ও সুশৃঙ্খল হবে।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানি ত্বরান্বিত করতে হবে বলে অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো.
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোতাহার হোসেন, জেলা দায়রা জজ আবু মো. শামীম আজাদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধানসহ বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ন র য়ণগঞ জ অন ষ ঠ ন ব যবস থ র জন য সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
বন্দরে কারানির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা সমাবেশ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর বন্দর থানা ও বন্দর উপজেলার কারানির্যাতিত সাহসী নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা উপলক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের অপরাধে অন্যায়ভাবে কারাভোগ করা এসব নেতাকর্মীদের সম্মাননা দিতে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, গণমানুষের প্রতিনিধি এবং তৃণমূল কর্মীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
অনুষ্ঠানে মাসুদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, এবং আমাদের অভিভাবক তারেক রহমানের প্রতি।
আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করছি - গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তাই আপনারা সবাই তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।
বন্দর ও নগর একই মায়ের দুই সন্তান। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে একটি আধুনিক ও স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জে রূপান্তরিত করা সম্ভব। আমি জানি আপনাদের গ্যাস সমস্যা, সুপেয় পানি, সেতু এবং পরিকল্পিত নগরীর প্রয়োজন রয়েছে।
সমস্যা আছে, কিন্তু সমাধানের পথও আছে। আপনারা যদি বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেন, তবে আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব জাতীয় সংসদে।
আমি গতানুগতিক নয়, পরিবর্তনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। বন্দরে এখনো একটি পরিকল্পিত নগরী গড়ার সুযোগ আছে, এবং আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে চাই।
আমরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি না এবং করবোও না, তবে প্রিয় বন্দরবাসী, নগরবাসী - আপনারা সচেতন থাকবেন যাতে কেউ ধর্মকে বিভ্রান্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনমানুষের দল - আমরা মানুষের অন্তরে আছি। ইন শা আল্লাহ, আগামী নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে পারব যে জনগণ বিএনপিকেই তাদের প্রত্যাশার জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক; আব্দুস সবুর খান সেন্টু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সদস্য; হাজী ফারুক হোসেন, অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, মনোয়ার হোসেন শোখন, মো: আলমগীর হোসেন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু।
প্রবীণ বিএনপি নেতা, বন্দর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন, বন্দর থানা বিএনপির; সভাপতি শাহেন শাহ্, মহানগর যুবদল সভাপতি মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম রানা, মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ- সাবেক কাউন্সিলর, সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মুরাদ, কৃষকদলের সভাপতি এনামুল খন্দকার স্বপন। ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিএনপির মহানগর, থানা, ওয়ার্ডসহ কৃষকদল, যুবদল, মহিলাদল এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কারাভোগ করা নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনের প্রেরণা তুলে ধরেন। উপস্থিত জনতারা বলেন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের সংগ্রাম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।