গ্রেটা থুনবার্গের লাগেজে ইসরায়েলি সেনারা লিখেছিল ‘বেশ্যা’
Published: 15th, October 2025 GMT
ইসরায়েলি সেনাদের হাতে আটকের পর কী পরিমাণ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তার বিবরণ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। সুইডিশ সংবাদমাধ্যম আফটোনব্লাডেটকে দেওয়া সাক্ষাাৎকারে এই বিবরণ দিয়েছেন তিনি।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের অবৈধ নৌ অবরোধ ভাঙা ও সাধারণ মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে সমুদ্রপথে গাজার দিকে রওনা দিয়েছিলেন বিশ্বের প্রায় ৫০০ অধিকারকর্মী। এদের মধ্যে ছিলেন গ্রেটা থুনবার্গ। গত ২ অক্টোবর গ্রেটা যেই জাহাজটিতে ছিলেন সেটি আটক করে ইসরায়েলি নৌ কমান্ডোরা। এরপরই শুরু হয় জাহাজে থাকা অধিকারকর্মীদের ওপর নির্যাতন।
গ্রেটা জানিয়েছেন, আটকের পর তার স্যুটকেস জব্দ করে ইসরায়েলি সেনারা। স্যুটকেসটি ফেরত দেওয়া হলে তিনি দেখেন সেখানে ‘বেশ্যা থুনবার্গ’ লিখে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার লাগেজের ওপর কালো মার্কার কলম দিয়ে ইসরায়েলি পতাকা এবং পুরুষাঙ্গের ছবি আঁকা ছিল।
তিনি জানান, আটকের পর তাকে কাঁটাতারের বেড়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অন্যান্য বন্দিদের হাত বেঁধে কপাল মেঝেতে ঠেকিয়ে রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল।
গ্রেটা বলেন, “সম্ভবত আমি ৫০ জনকে এক লাইনে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখেছি। তাদের হাতে হাতকড়া লাগানো। আর কপাল ছিল মাটির সঙ্গে লাগানো। তারা যেখানে বসেছিলেন তার উল্টো দিকে আমাকে নেওয়া হয়। তারা আমার শরীরে ইসরায়েলি পতাকা জড়িয়ে দেয়। তারা আমাকে লাথি মেরেছে, আঘাত করেছে। এরপর তারা আমার টুপি খুলে ফেলে মাটিতে ফেলে দেয়। টুপিটি মাড়িয়ে এটিতে লাথি দেয়।”
গ্রেটা আরও বলেছেন, “ইসরায়েলি রক্ষীদের মধ্যে কোনো ধরনের মায়া বা মানবতাবোধ নেই। তারা আমার সাথে সেলফি তুলতে থাকে। আরও অনেক কিছু ঘটেছে। যা আমার মনে নেই। একসঙ্গে অনেক কিছু হচ্ছিল। আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েলাম, ব্যথা পাচ্ছিলাম। কিন্তু ওই সময় শান্ত থাকার চেষ্টা করছিলাম।”
পানির জন্য ইসরায়েলি সেনাদের কাছে কাকুতি মিনতি করেছিলেন উল্লেখ করে গ্রেটা বলেন, “সেখানে অনেক গরম ছিল। প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। আমরা পুরোটা সময় পানির জন্য কাকুতি মিনতি করেছি। তাাদের বলেছিলাম, আমাদের পানি দিন, পানি দিন। আমরা চিৎকার করেছি। কিন্তু কারারক্ষীরা আমাদের রুমের সামনে দিয়ে হেঁটে যেত তাদের পানির বোতল নিয়ে। বোতল হাতে নিয়ে তারা হাসাহাসি করত।”
একটি ঘটনার কথা স্মরণ করতে গিয়ে গ্রেটা বলে,“আমার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল এবং যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তারপর আমাকে লোকজন যেখানে বসে ছিল সেখান দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তারা আমাকে দেখতে পেয়েছিল। সুইডিশ প্রতিনিধিদলের একজন মহিলা সদস্য ওই সময় বলেছিলেন, ‘আমরা তোমার সাথে আছি, গ্রেটা।’ এই কথার পর ওই নারীকে একপাশে নিয়ে গিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়।”
ঢাকা/শাহেদ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর থ নব র গ ইসর য় ল
এছাড়াও পড়ুন:
টাঙ্গাইলে বাবাকে হত্যায় ছেলের মৃত্যুদণ্ড
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সিনিয়র ও জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
আরো পড়ুন:
বরগুনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড
ঝিনাইদহে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
দণ্ডপ্রাপ্ত ওয়াহেদুজ্জামান উপজেলার দড়িপাড়া পশ্চিম পাড়ার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জেরে বাবা আব্দুস সামাদকে কুপিয়ে হত্যা করেন ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
টাঙ্গাইল আদালতের পিপি শফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘‘দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেছেন।’’
ঢাকা/কাওছার/রাজীব