Samakal:
2025-11-30@11:11:28 GMT

লিটনরা বল বুঝতে পারেন না

Published: 4th, July 2025 GMT

লিটনরা বল বুঝতে পারেন না

‘শান্তর আউট দেখে গোসলে গেছি, এসে দেখি শেষ।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লন্ডন থেকে মোহাম্মদ আশরাফুল পরিস্থিতি তুলে ধরেন এভাবে। ১ উইকেটে ১০০ রানে পৌঁছানো দল ৮ উইকেট হারায় ১০৫ রানে। মেহেদী হাসান মিরাজদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের ঘটনা রীতিমতো কৌতুকে পরিণত হয়েছে।

আশরাফুলের মতো হাবিবুল বাশারও একটি গল্প শোনান ঢাকা থেকে। তিনি বলেন, ‘২ উইকেটে ১০০ রান দেখে বাড়ির কাছে বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলাম। যে রিসিভ করতে এসেছে হঠাৎ সে বলে ৮। আমি বলি ৮ না ১১ তে যাব। সে বলে না না স্যার, ৮ উইকেট পড়েছে (হাসি)।’ 

লিটন কুমার দাসদের ব্যাটিং বিপর্যয় এবং বাংলাদেশের পরাজয় নিয়ে সবচেয়ে মোক্ষম ‘ডায়ালগ’ জাতীয় দলের সাবেক পেস বোলিং কোচ চম্পকা রমানায়েকে দিলেন গতকাল সমকালকে সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, ‘এভাবে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করতে পারে কেবল বাংলাদেশ। একবার না বহুবার করেছে।’ 

টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০– তিন সংস্করণের ব্যাটিংয়েই দুর্বল বাংলাদেশ। পঞ্চপাণ্ডবের কারণে মাঝে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও বর্তমানে ব্যাটিং ব্যর্থতা জাতীয় দলের ভয়াবহ রোগ। উইকেট পড়তে থাকলে মুহূর্তে তা বিপর্যয়ে রূপ নেয়। বুধবার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ঘটেছে সেই অবর্ণনীয় বিপর্যয়।

 স্বাগতিক দুই স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও কামিন্দু মেন্ডিস ভোজবাজির মতো গেম পরিবর্তন করেন। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় খুব সহজে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন তারা। কেন এই বিপর্যয় সে কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘বলতে খারাপ লাগে কিন্তু না বলেও পারছি না। ছেলেরা এত প্রতিভাবান অথচ কেউ ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেন না। বোলারদের হাত দেখে যদি না-ই বুঝতে পারেন কোনটা গুগলি আর কোনটা লেগ স্পিন তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকা কঠিন। এত বছর ধরে খেলছেন, ১৪ থেকে ১৫ বছর হয়ে গেছে ক্রিকেটে এখনও হাত দেখে বুঝে গুগলি ডেলিভারি না বুঝলে হবে কী করে। এখানে কোচ কিছু করতে পারবেন না।’

জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক হতাশা নিয়ে আরও বলেন, ‘আমরা যে ভুল করতাম ওরাও একই ভুল করলে তো হবে না। ওদের আরেকটু আপগ্রেড হওয়া দরকার। হাসারাঙ্গা ৬০টি বল করলে ৪০টি থাকে গুগলি। ওই ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল। বোলারদের ভালোভাবে স্টাডি করলে এরকম ভুল হওয়ার কথা না। হাসারাঙ্গা প্রতি ম্যাচে আমাদের বিপক্ষে তিন চারটি করে উইকেট নেয়। তার বল রিড করা তো অত কঠিন না। সে তো মুরালি ধরন না।’

তাঁর মতে বোলার ভালো জায়গায় বল করবে, ব্যাটারকে খেলতে হবে বুদ্ধি খাটিয়ে, ‘আমার যেটা মনে হয়, আরেকটু গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত ব্যাটারদের। পরিস্থিতিগুলো একটু আগে থেকে বোঝার সক্ষমতা থাকতে হবে। গত ম্যাচের পরিস্থিতি ছিল ২ উইকেটে ১০০ রান। ওই সময়টি টিকে থাকতে হতো। বল তো ভালো জায়গায় করবেই। তার মানে এই না বল এক জায়গায় ব্যাট আরেক জায়গায় থাকবে। গেল ম্যাচের পারফরম্যান্স খুবই হতাশ করা।’

লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্তরা সাত-আট বছর হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন। তাওহীদ হৃদয়ও দেখতে দেখতে পরিণত। এত বছর খেলার পরও বোলারকে ভালোভাবে রিড করতে না পারা ব্যাটিং বিপর্যয়কে হতাশার বলছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ‘এখন কেউই ভালো খেলছে না। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা একেবারে নেই। ছয় মাস ধরে ব্যাটিংয়ের শৃঙ্খলা নেই। এই জায়গা থেকে উত্তরণের একটাই পথ টিম ম্যানেজমেন্টকে ওয়ান টু ওয়ান কাজ করতে হবে।’ 

প্রথম ওয়ানডের হতাশা ভুলে নতুন উদ্যমে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলার পরামর্শ তাঁর, ‘প্রেমাদাসার উইকেট একটু স্লো। এখানে ভালো ব্যাটিং করতে হলে পরিকল্পনা করে খেলতে হবে। এসেই মারা যাবে না।’

হাবিবুল বাশারের দৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয় ব্যাখ্যাতীত। তাঁর মতে, ‘ওরা কেউ মুরালিধরন না। হাসারাঙ্গা গুগলি মারে আমরা সবাই জানি। ব্যাটাররা কেউ তাকে রিড করতে পারেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে মনোযোগের অভাবে এটি হয়েছে। কারণ হাসারাঙ্গা গুগলিই করে। ও লেগ স্পিন খুব কম করে। ছয়টার মধ্যে পাঁচটা গুগলি থাকে একটি লেগ স্পিন। বা চারটি গুগলি, একটি লেগ স্পিন ও একটি সোজা মারে।’ 

জাতীয় দলের সাবেক পেস বোলিং কোচ চম্পকার ব্যাখ্যা হলো, ‘বোলাররা সব সময় ভালো করে। ব্যাটিং তেমন হয় না। ১০০ রান হওয়ার পর ম্যাচ ৮ উইকেটে জেতার কথা বাংলাদেশের। তানজিদ হাসান তামিমের উচিত ছিল ইনিংস টেনে নেওয়া। খুব বাজে খেলেছে ওরা। বাংলাদেশ ছাড়া এভাবে কেউ ম্যাচ হারে না।’

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: জ ত য় দল র ১০০ র ন উইক ট

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কমবে কীভাবে

সেদিন এক বন্ধু বললেন, বাংলাদেশের জনগণের নাকি উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বসবাস এখন সহ্য হয়ে গেছে। তিনি এটিও যুক্তি দিলেন যে জনগণের মাথাপিছু আয় বা ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এই সহ্যের একটি অবলম্বন। তাঁর মতে, এত চাপের মধ্যেও মানুষ বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করতে পারছে বা বাজারে চাহিদা রয়েছে।

বাজারে ভিড় দেখেই তিনি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, মানুষ বুঝি সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। বিগত সরকারের কিছু কর্তাব্যক্তির মুখেও এ ধরনের বক্তব্য আমরা শুনেছি—‘মুদ্রাস্ফীতি বাড়লেও মানুষের আয় বেড়েছে, তাই চাপ ততটা নেই।’ কিন্তু বিষয়টি কি এতটা সরল?

আমরা তো দুই বছর ধরে ১১-১২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির অভিজ্ঞতা বয়ে বেড়াচ্ছি। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিবিএসের অফিশিয়াল হিসাবের চেয়ে বাস্তব বাজারদর অন্তত আরও ৬-৭ শতাংশ বেশি ছিল। বেশ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের দামে ২০ শতাংশেরও বেশি ছাড়িয়ে যেতে দেখা গেছে।

তুলনা করতে গেলে দেখা যায়, শ্রীলঙ্কা কিংবা তুরস্কে মূল্যস্ফীতি ৫০–৬০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলেছিল, কিন্তু সেখানে কৃচ্ছ্রসাধন, কঠোর রাজস্ব ও ব্যয় সংকোচন এবং সুসংহত জন-অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার ফলে আবার তা কমতেও শুরু করেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার অপ্রতিরোধ্য সংকট থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।

আরও পড়ুনমূল্যস্ফীতি কমানো কীভাবে সম্ভব১৭ অক্টোবর ২০২৪

ভারতের নামও আলোচনায় আসে। ভারত তাদের খুচরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছে। ইকোনমিক টাইমসের তথ্যমতে, অক্টোবর মাসে ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশে, অর্থাৎ ১ শতাংশেরও নিচে। এটি তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশের চেয়েও অনেক কম। লাগাতার ৭ মাস মূল্যস্ফীতি আরবিআইয়ের সহনসীমার নিচে থাকায় এবং বাজারের পূর্বাভাসের (শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ) অনেক নিচে নেমে আসায় এটিকে ঐতিহাসিক সাফল্য বলা হচ্ছে।

খাদ্যদ্রব্যের মূল্যপতন, শুল্কছাড় এবং কিছু নিত্যপণ্যে কর হ্রাস—এ সব মিলিয়ে ভারতের ঘরোয়া চাহিদা এখন আরও শক্তিশালী হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আরবিআই আগামী মাসেই নীতি সুদ কমাতে পারে, এমন প্রত্যাশাও করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ঘরেই আটকে আছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে এটি সামান্য কমে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ হলেও সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ১০ শতাংশের ঘর থেকে নেমে এলেও ৮ শতাংশের মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য স্বস্তি আনতে পারছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো দামই বাস্তবে আগের অবস্থায় ফিরছে না। বরং বাজারে একধরনের নতুন ‘স্বাভাবিকতা’ তৈরি হয়ে গেছে—উচ্চ দামের মধ্যেই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। এটাই হয়তো আমার বন্ধুটির পর্যবেক্ষণের সত্যতা, তবে এর পেছনের বাস্তবতা আরও গভীর।

সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর অস্ত্র বাংলাদেশে অনেকটাই ভোঁতা হয়ে গেছে। আমাদের মূল্যস্ফীতির কারণ ‘হেথা নয়, হেথা নয়—অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে।’ তাই প্রকৃত সমাধানও অন্য কোথাও খুঁজতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে গেছে। কিন্তু সুদ বাড়ালেই মূল্যস্ফীতি কমবে—এ তত্ত্ব অন্তত আমাদের বাস্তবতায় কার্যকর হয়নি। কারণ, আমাদের মূল্যস্ফীতির মূল উৎস চাহিদাজনিত নয়, বরং সরবরাহ ঘাটতি, আমদানি ব্যয়, বিনিময় হারে অস্থিতিশীলতা, বাজার সিন্ডিকেট এবং দুর্বল বাজার তদারকি। ফলে সুদ বাড়ালে ঋণের প্রবাহ কমে যায়, বিনিয়োগ শ্লথ হয়, কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়; কিন্তু মূল্যস্ফীতির মূল সমস্যায় তেমন আঘাত লাগে না।

পত্রিকান্তরে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সবাই নীতি সুদ কমানোর পক্ষেই মত দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, সুদ বাড়াতে বাড়াতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এমন জায়গায় নেমে এসেছে যে অর্থনীতিতে কার্যকর গতি ফিরিয়ে আনতে এখন উল্টো সুদ কমানোই জরুরি। তবু কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদ অপরিবর্তিত রেখেছে, যদিও বাজারের বেশির ভাগ ব্যাংক আমানতের সুদ কমিয়ে ফেলেছে। আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কিন্তু অর্থনীতির কোথাও তার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুনমূল্যস্ফীতি নাহয় ঠিক হবে, কিন্তু মনঃস্ফীতি ঠিক করবে কে১৭ জানুয়ারি ২০২৪

এখন প্রশ্ন—মূল্যস্ফীতি কমাতে আসলে কী করতে হবে? বহুদিন ধরে বলা হচ্ছে, মুদ্রানীতির সঙ্গে সমন্বিত রাজস্বনীতি প্রয়োজন। অতিরিক্ত কর ও শুল্কভার কমিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, অযৌক্তিক মজুতদারি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা—এসব না করলে মুদ্রানীতি একা কিছুই করতে পারবে না। বাজার ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতি এবং সঠিক চাহিদা-উৎপাদন তথ্যের অভাব আজও দূর হয়নি। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও বলা যায় না পরিসংখ্যানের প্রতি জনসাধারণের আস্থাহীনতা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছে।

আরও একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন, এমনকি জমিজমা বিক্রি করতেও বাধ্য হচ্ছেন। গ্রাম-শহর উভয় জায়গাতেই আয়বৈষম্য আরও চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। শহরে ভিক্ষুকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামাজিক-অর্থনৈতিক দুর্বলতার সরাসরি সূচক। অন্যদিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় দুর্নীতিও কমেনি। বরং অনেকে বলছেন, পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় এটি আরও বেড়ে গেছে।

আগেও বলেছি, সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর অস্ত্র বাংলাদেশে অনেকটাই ভোঁতা হয়ে গেছে। আমাদের মূল্যস্ফীতির কারণ ‘হেথা নয়, হেথা নয়—অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে।’ তাই প্রকৃত সমাধানও অন্য কোথাও খুঁজতে হবে।

মোদ্দাকথা, উৎপাদন বাড়াতে হবে, বিশেষ করে খাদ্য ও শিল্পপণ্য। সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের আধিপত্য কমে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান বহুমুখী করতে হবে, আমদানি-রপ্তানি নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের জনগোষ্ঠী মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় ভেঙে না পড়ে। আর প্রয়োজনে বাজারে অরাজকতা সৃষ্টি করা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও জরুরি হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কোনো স্বাভাবিকতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের গঠনতান্ত্রিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। এটাকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সাহসী নীতিগত সিদ্ধান্ত, স্বচ্ছ পরিসংখ্যান, এবং আজ না হলে কাল আমাদের শক্তিশালী বাজার সুশাসনের দিকে এগোতেই হবে।

মামুন রশীদ অর্থনীতি বিশ্লেষক।

সম্পর্কিত নিবন্ধ