নবীগঞ্জে ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ১ জনের মৃত্যু
Published: 7th, July 2025 GMT
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ফারুক তালুকদার (৪২) নামে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল থেকে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ওই ব্যক্তি তিমিরপুর গ্রামের আওয়াল তালুকদারের ছেলে। পেশায় তিনি অ্যাম্বুলেন্সচালক ছিলেন। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেখালেখি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আশায়েদ আলীকে ৪ জুলাই নবীগঞ্জ উপজেলার আনমুন এলাকায় অপর গণমাধ্যমকর্মী সেলিম তালুকদার ও তাঁর লোকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ। এ সময় আনমুন গ্রামের লোকজন হামলাকারীদের মধ্য থেকে ২ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। পুলিশে দেওয়া এ দুই তরুণের বাড়ি উপজেলার তিমিরপুর গ্রামে। এতে তিমিরপুর গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন তাঁদের লোকজনকে আনমুন গ্রামের লোকজন ধরে পুলিশে দেওয়ায়। এ নিয়ে তিন দিন আগে ওই দুই গ্রামের লোকজন মারামারি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ মারামারির সূত্র ধরে সোমবার দুপুরে ঘোষণা দিয়ে আনমুন ও তিমিরপুর গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হতে থাকেন নিজ নিজ এলাকায়। একপর্যায়ে বিকেলে উপজেলা সদরে ওই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল, বল্লম, ধারালো অস্ত্রসহ নানা দেশি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেন। সংঘর্ষকালে ফারুক তালুকদারসহ উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক লোকজন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি দোকানপাট। এতে পুরো উপজেলা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপজেলা প্রশাসন এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নবীগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। এ ১৪৪ ধারা মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.
এদিকে সংঘর্ষকালে গুরুতর আহত ফারুক তালকুদারকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসামনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে তিনি ওই দিন রাত ৯টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর এলাকায় প্রাণ হারান।
নিহত ফারুক তালুকদারের বাবা আওয়াল তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলেকে সংঘর্ষকালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করা হয়। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলে নেওয়ার পথে মারা যান।
আরও পড়ুনফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, থামাতে নবীগঞ্জ সদরে ১৪৪ ধারা জারি৩ ঘণ্টা আগেউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: গ র ম র ল কজন স ঘর ষ র জন য ফ সব ক উপজ ল
এছাড়াও পড়ুন:
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬ শতাধিক
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ছয় শতাধিক ছাড়িয়েছে। রবিবার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
মালাক্কা প্রণালীতে এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিরল গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ের পর ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় ৪৩৫ জন, থাইল্যান্ডে ১৭০ জন এবং মালয়েশিয়ায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মকর্তারা রবিবারও অনেক বন্যা কবলিত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তিনটি দেশে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে দক্ষিণ থাইল্যান্ডে প্রায় ৩০ লাখ এবং পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ রয়েছে।
পৃথকভাবে, শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়ে আরো ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, ১৯১ জন নিখোঁজ এবং দেশব্যাপী পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় রবিবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যা শনিবার ৩০৩ জন ছিল। সরকারি ওয়েবসাইটে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা পশ্চিমাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপে হতাহতের এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন। এখানে বৃষ্টিপাতের পর ভূমিধস এবং বন্যায় তিনটি প্রদেশ বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টার ব্যবহার করে যেসব এলাকায় সড়কপথে পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেখানে মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।
থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৭০ জনে পৌঁছেছে, যা শনিবারের তুলনায় আটজন বেশি এবং আহতের সংখ্যা ১০২ জন। সোংখলা প্রদেশে সবচেয়ে বেশি- ১৩১ জন নিহত হয়েছে।
প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায়, দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মতে, এখনো প্রায় ১৮ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ শনিবার গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের সতর্কতা তুলে নিয়েছে, দেশের বেশিরভাগ অংশে আকাশ পরিষ্কার থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।
ঢাকা/শাহেদ