বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। রুপালি পর্দায় দীর্ঘসময় রাজত্ব করা এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী এবার পাড়ি জমালেন কানাডা। উদ্দেশ্য, অবসরের সময়টুকু প্রিয়জনের সান্নিধ্যে থেকে কিছুটা প্রশান্তি ও আনন্দ নিয়ে কাটানো। জানা গেছে, আজ ছয় মাসের জন্য কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন ববিতা। সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন তাঁর একমাত্র পুত্র অনিক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাস করছেন।

ছোটবেলা থেকেই কানাডায় বেড়ে ওঠা অনিক বর্তমানে ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং সেখানে শিক্ষকতা করছেন। সম্প্রতি মা ববিতাকে সঙ্গে নিয়ে দেশে আসেন অনিক। এবার মা-পুত্র একসঙ্গে ফিরে যাচ্ছেন কানাডায়।

এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘অনেক দিন হলো এক জায়গায় থিতু হয়ে থেকেছি। এবার মনে হলো একটু নিজের মতো করে সময় কাটাই। ছেলের সঙ্গে কানাডায় থাকব, মাঝে মাঝে ওর কাজের ফাঁকে ঘুরে বেড়াব। পাশাপাশি আমেরিকায় প্রবাসী আমার ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করব। অনেকদিন হলো তাদের সান্নিধ্য পাই না।’ তবে শুধু ঘুরে বেড়ানোই নয়, দায়িত্বের অংশ হিসেবে ববিতা এবার যুক্তরাষ্ট্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নেবেন।

তিনি জানান, ‘আমি ডিসিআইআই এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। এবারও কিছু সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে ডিসিআইআই-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ববিতা। এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও নারীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ববিতাও একজন সেলিব্রেটি অ্যাম্বাসাডর হিসেবে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রচারণা, ফান্ড রেইজিং ও সচেতনতামূলক প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন।

১৯৬৮ সালে ‘সংসার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ববিতার। এরপর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি উপহার দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী সিনেমা—অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, নতুন সুর, তিতাস একটি নদীর নাম, শঙ্খনীল কারাগার, রামের সুমতি, অমানুষ, অলাতচক্রসহ অসংখ্য ছবি।

ববিতার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা নার্গিস আক্তার পরিচালিত ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’। এই চলচ্চিত্রে ২০১৫ সালে অভিনয়ের পর থেকে ববিতা আর নতুন কোনো সিনেমায় কাজ করেননি। ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন অভিনয় থেকে। এখন সময়টা কাটাচ্ছেন নিজের মতো করে—পরিবার, সমাজসেবা আর স্মৃতিময়তার আবহে।

চিরসবুজ এই তারকার কাছে অভিনয় নয়, এখন পরিবারের কাছে থাকাই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য। কানাডার প্রকৃতির মাঝে, সন্তানের পাশে থেকে তিনি খুঁজে নিতে চান জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায়।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: বব ত অভ ন ত র চলচ চ ত র

এছাড়াও পড়ুন:

সরকারকে টেকসই সমাধান বের করতে হবে

ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষাকে মেগা প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করার বিকল্প নেই। অথচ দশকের পর দশক ধরে আমাদের নীতিনির্ধারকদের কাছে শিক্ষা খাত গৌণ বিষয় হিসেবেই থেকে গেছে। এর একটা চাক্ষুষ দৃষ্টান্ত হতে পারে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর–সুবিধা পেতে ভোগান্তি বাড়ার ঘটনাটি। শিক্ষকেরা সারা জীবন ধরে পড়ান, সমাজের নানা জায়গায় শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন, অথচ অবসরের পর তাঁদেরকেই প্রাপ্য সুবিধার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়—এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় আর কী হতে পারে?

প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অবসর ও কল্যাণসুবিধা পান। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে তাঁদের অবসর–সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে এই সুবিধা পেতে তিন–চার বছর সময় লেগে যায়। স্কুলপর্যায়ের ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত যেসব শিক্ষক-কর্মচারী আবেদন করেছেন, তাঁরা সুবিধা পেয়েছেন। কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। অবসর–সুবিধার জন্য নিষ্পত্তি না হওয়া আবেদনের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৭৭৫। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ক্ষেত্রে ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন অপেক্ষায় আছে। ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরাই এখান থেকে টাকা পেয়েছেন।

দেখা যাচ্ছে যে অবসরে যাওয়ার পর অবসর–সুবিধা পেতে শিক্ষকদের তিন–চার বছর পার হয়ে যাচ্ছে। ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ–সুবিধা কম। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অবস্থাটা আরও শোচনীয়। ফলে বেশির ভাগ এমপিওভুক্ত শিক্ষককে নিম্ন বেতনে কষ্ট করেই জীবন চালাতে হয়। অবসরের পর সময়মতো অবসর ভাতা না পাওয়ায় তাঁদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও বিয়ে, হজ ও অন্যান্য ধর্মীয় ব্রত পালনে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতেই জানা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষক অবসর–সুবিধার টাকা পাওয়ার আগেই মারা যান।

এই ট্র্যাজিক বাস্তবতা সৃষ্টির কারণ হলো তহবিল–সংকট। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবসর–সুবিধার জন্য ৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার তহবিল চেয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, তহবিলের ঘাটতিটা এত বড় অঙ্কের হলো কীভাবে? শিক্ষক–কর্মচারীদের অবসর–সুবিধার টাকাটা কীভাবে আসবে, তার একটা উপায় ঠিক করা আছে। অবসর ও কল্যাণ–সুবিধা মিলিয়ে প্রতি মাসে শিক্ষকদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখা হয়। এ ছাড়া প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। বাকি টাকা সরকারের থোক বরাদ্দ ও চাঁদা জমার সুদ থেকে সমন্বয় করে দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা অবসরের পর যে সুবিধাটা পান, এর বেশির ভাগটাই নিজেদের অর্থ।

শিক্ষকদের অবসর–সুবিধার ক্ষেত্রে তহবিলের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেটা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বন্ড করেছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সেটা অপ্রতুল। শিক্ষকেরা অবসরের পর ছয় মাসের মধ্যেই যাতে তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ–সুবিধাগুলো বুঝে পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আমরা আশা করি, অবসরে যাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষককেরা প্রতিদিন যেসব রূঢ় ও দুঃসহ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন, সরকার অনুধাবন করে বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেবে। তবে মাঝেমধ্যে থোক বরাদ্দ এ ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নয়। সরকারকে অবশ্যই টেকসই সমাধান বের করতে হবে।  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সরকারকে টেকসই সমাধান বের করতে হবে