হোয়াইট হাউসে ‘ভূত’ দেখার দাবির কতটা সত্য
Published: 13th, October 2025 GMT
হোয়াইট হাউস—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি আবাস। রাজধানী ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক এ ভবনে প্রেসিডেন্ট কেবল তাঁর পরিবার নিয়েই থাকেন না; বরং প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তরও এটি। হোয়াইট হাউসের দোতলায় একটি বিশেষ শয়নকক্ষ (বেডরুম) রয়েছে। নাম ‘লিংকন বেডরুম’। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের নামে এ কক্ষের নাম।
এ শয়নকক্ষটি বিশেষ কেন, সেটা জানার আগে আসুন, প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন সম্পর্কে কিছু দরকারি তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট। তাঁর জন্ম কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে, ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। তাঁর বাবা–মা ভার্জিনিয়ায় জন্মেছিলেন। লিংকনের বয়স যখন আট বছর, তখন তাঁরা সপরিবার ইন্ডিয়ানায় পাড়ি জমান। ১০ বছর বয়সে মাকে হারান লিংকন। পরে লিংকন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে চলে যান।
একসময় খামারে কাজ করতেন লিংকন। যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ইলিনয়ের আইনসভায় আট বছর কাজ করেছেন। আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরে রিপাবলিকান দলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ইলিনয় থেকেই প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
আব্রাহাম লিংকন নির্বাচনে জিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন ১৮৬১ সালের ৪ মার্চ। সাফল্যের সঙ্গে প্রথম দফা কাটান তিনি। মার্কিন সমাজ থেকে দাসপ্রথার চূড়ান্ত বিলোপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল প্রেসিডেন্ট লিংকনের। নিজ দল রিপাবলিকান দলকে জাতীয় পর্যায়ে শক্ত ভিত্তি গড়ে দিতেও ভূমিকা ছিল তাঁর।
১৮৬৪ সালের নির্বাচনে আবারও জয় পান লিংকন। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে যান তিনি। সঙ্গী হন ফার্স্ট লেডি ম্যারি অ্যান টড লিংকন। কিন্তু এবার আর বেশি দিন হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা থাকতে পারেননি আব্রাহাম ও মেরি লিংকন।
১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল। দিনটা ছিল শুক্রবার। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম কালো একটি দিন হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে দিনটি। ওই দিন ওয়াশিংটনের ফোর্ড থিয়েটারে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট লিংকন। সেখানে আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।
এর পর থেকে বছরের পর বছর ধরে হোয়াইট হাউসে বসবাস করা ও কর্মরত অনেকেই বলেছেন, তাঁরা সাদা এ বাড়িতে ভূতের দেখা পেয়েছেন। ভুতুড়ে ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত যাঁর নাম, তিনি প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ‘ভূত’!
হোয়াইট হাউসে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন জেরি স্মিথ। তিনিই প্রথমবারের মতো আব্রাহাম লিংকনের ‘ভূত দেখার’ কথা প্রকাশ্যে জানান। ১৯০৩ সালের এ ঘটনা পত্রপত্রিকায় শোরগোল ফেলেছিল। ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
আরও পড়ুনঘরে বসে হোয়াইট হাউস ঘুরে দেখার সুযোগ২৮ অক্টোবর ২০২৩যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: য ক তর ষ ট র র
এছাড়াও পড়ুন:
পাখি ও প্রজাপতির বিলুপ্তিতে রাসায়নিক কৃষির দায়
আমাদের চারপাশের প্রকৃতি আজ আর আগের মতো সজীব নেই। যে রঙিন প্রজাপতিগুলো একসময় বাগানে বাগানে উড়ে বেড়াত, যে পাখিদের কলকাকলিতে ভোরবেলা জেগে উঠতাম আমরা, সেই দৃশ্য ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে।
গ্রামের মাঠে এখন আর আগের মতো দোয়েল, শালিক কিংবা বাবুই পাখির দেখা মেলে না। ফুলের বাগানে প্রজাপতির সংখ্যাও কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এই বিষাদময় পরিস্থিতির পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকলেও সবচেয়ে বড় দায় রয়েছে কৃষিক্ষেত্রে অতিমাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহারের।
একদিকে যেমন জনসংখ্যার সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে সীমিত জমিতে বেশি ফসল ফলানোর চাপও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আধুনিক কৃষিব্যবস্থায় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকেরা নানা রকম রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহার করছেন। কিন্তু এই রাসায়নিকগুলো শুধু ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড়কেই মারছে না, উপকারী পতঙ্গ ও পাখি মারছে। এগুলো সামগ্রিক পরিবেশের জন্য হয়ে উঠছে মারাত্মক হুমকি।
কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রজাপতি ও মৌমাছির মতো পরাগায়নকারী পতঙ্গরা। এই ছোট প্রাণীগুলো আমাদের বাস্তুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজাপতি ও মৌমাছি ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়ায় এবং পরাগায়নে সাহায্য করে।
এই পরাগায়নের মাধ্যমেই ফলমূল ও শস্যের উৎপাদন সম্ভব হয়। কিন্তু যখন কৃষিজমিতে বিষাক্ত রাসায়নিক ছিটানো হয়, তখন সেই বিষ প্রজাপতি ও মৌমাছির শরীরে প্রবেশ করে। অনেক সময় তারা সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়, আবার কখনো বিষক্রিয়ায় তাদের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা কমতে থাকে এবং পুরো প্রজাতিই বিলুপ্তির হুমকিতে পড়ে। প্রজাপতির বিভিন্ন প্রজাতি এখন আর চোখে পড়ে না, যেগুলো একসময় সচরাচর দেখা যেত।
পাখিদের অবস্থাও কম করুণ নয়। গ্রামীণ এলাকায় যেসব পাখি একসময় খুব সহজেই দেখা যেত, তাদের অনেকেই এখন বিলুপ্তির পথে। শালিক, দোয়েল, বাবুই, চড়ুই এবং আরও অনেক প্রজাতির পাখির সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গেছে। এর পেছনেও রাসায়নিক কীটনাশকের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। পাখিরা পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে।
কিন্তু যখন সেই পোকামাকড়ের শরীরে কীটনাশকের বিষ থাকে, তখন পাখিরা সেই বিষযুক্ত খাবার খেয়ে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রজাপতির মতোই অনেক সময় তারা সরাসরি মারা যায়, আবার কখনো তাদের প্রজননক্ষমতা হ্রাস পায়। এ ছাড়া অনেক পাখি প্রয়োজনীয় খাবার না পেয়ে অপুষ্টিতে ভুগছে এবং মারা যাচ্ছে। এ ছাড়া আগাছানাশক ব্যবহারের ফলে মাঠের চারপাশের লতাপাতা ও ঝোপঝাড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যেগুলো পাখিদের বাসা বানানো ও আশ্রয়ের জন্য অত্যাবশ্যক ছিল।
রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু পাখি ও প্রজাপতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি পুরো বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে। যখন পরাগায়নকারী পতঙ্গ কমে যায়, তখন ফসলের উৎপাদনও কমে যায়। যখন পাখি কমে যায়, তখন পোকামাকড়ের সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যায়। এতে আবার বেশি কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় এবং এভাবে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়। মাটির স্বাস্থ্যও নষ্ট হতে থাকে। কারণ, রাসায়নিক সার মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা ও মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীবদের মেরে ফেলে।
এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে কৃষিতে টেকসই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। জৈব কৃষি বা অর্গানিক ফার্মিং এর একটি ভালো বিকল্প। এতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে প্রাকৃতিক সার, জৈব কীটনাশক ও ফসলের বৈচিত্র্যের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয়। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন যে স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করা ঠিক নয়। সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে এবং জৈব কৃষিতে ভর্তুকি ও সহায়তা দিতে হবে।
কারণ, একটি সুস্থ পরিবেশ ছাড়া মানুষও টিকে থাকতে পারবে না। তাই কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহার কমিয়ে টেকসই পদ্ধতি অবলম্বন করা এখন সময়ের দাবি। সবাই মিলে এই ছোট্ট প্রাণীগুলোকে রক্ষা করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রয়ে যাবে সুন্দর, সবুজ ও প্রাণবন্ত একটি পৃথিবী।
তামান্না ইসলাম শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়