জেন্ডার সংবেদনশীল সাংবাদিকতা পুরস্কার: ‘অত্যাচারের শিকার নারীরা, তাই চাই সংবেদনশীল সাংবাদিকতা’
Published: 13th, October 2025 GMT
কন্টেন্ট ক্রিয়েশন ও ভাইরালের তোড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীরা এক প্রকার ‘অত্যাচারের শিকার’ হচ্ছেন বলে এক অনুষ্ঠানে আলোচনায় উঠে এসেছে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও সংবেদনশীল হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অনুষ্ঠানটির বক্তারা।
আজ সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গণমাধ্যম পুরস্কার ২০২৫ (জেন্ডার সংবেদনশীল সাংবাদিকতা) প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিদের কথায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও জাগো ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালটি’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ পুরস্কার দেওয়া হয় ঢাকার নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী হেনস্তার দিকটি তুলে ধরে তা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন।
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যে অত্যাচার, তাতে মূলধারার মিডিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে। সরকার ব্যবস্থা নেয় না। ঐকমত্য কমিশনে নারী নেই। এটা নিয়ে অনেকবার বলার পরেও কোনো জবাব নেই। নারী কমিশনকে যেভাবে গালিগালাজ করা হয়েছে, তাতে সরকারের প্রতিবাদ দেখা যায়নি। নারীরা প্রতিবাদ করেছেন। সেটা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা হেনস্তা করা হয়েছে। নাগরিক সমাজ থেকেও এসব বিষয়ে সরকারের দায়বদ্ধতার বিষয়টি সেভাবে বলা যায়নি।’
সাংবাদিকদের সংবেদনশীল হওয়ার ওপর জোর দিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠানের কনটেন্টে সংবেদনশীলতার অভাব আছে এবং ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াতে দেখা যায়। এখন ভাইরালের সময় যাচ্ছে, যাচাই হচ্ছে না। কনটেন্ট ক্রিয়েশন যে পর্যায়ে গেছে, তাতে বিদ্বেষ ও ঘৃণা চাষের জায়গা তৈরি হয়েছে। নারীরা বেশি শিকার হচ্ছেন। এর বিপদগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। কোনটা সাংবাদিকতা আর কোনটা অপপ্রচার, তা বের করতে মিডিয়া লিটারেসির উদ্যোগ নিতে হবে।’
ঢাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আজ সোমবার জেন্ডার সংবেদনশীল সাংবাদিকতায় গণমাধ্যম পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে রাশেদা কে চৌধূরী.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: স ব দনশ ল স র স ব দনশ ল প রস ক র অন ষ ঠ ন সরক র র ব দ কত
এছাড়াও পড়ুন:
হাতীবান্ধায় সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকদের মহাসড়কে বিক্ষোভ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চাহিদা মতো সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলো কৃষকরা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার অডিটরিয়াম চত্বর এলাকায় ‘মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর’-এর সামনের সড়ক অবরোধ করেন তারা।
আরো পড়ুন:
নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে আশুগঞ্জ সার কারখানায় সমাবেশ
মাদকের বিনিময়ে সার পাচারকালে আটক ৯
কৃষকরা জানান, লালমনিরহাটের ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টা চাষ। ভুট্টা চাষের মৌসুম শুরু হয়েছে। জেলার সবচেয়ে বেশি ভুট্টার আবাদ হয় হাতীবান্ধা উপজেলায়। ভুট্টা চাষের শুরুতেই সার সংকটের খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। হাতীবান্ধা উপজেলা সদরে বিএডিসি ও বিসিআইসির পরিবেশক মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর থেকে সার বিক্রি করা হয়। কয়েকদিন ধরে কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না।
বিক্রয়কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আজ রবিবার সকালে সিংগিমারী ইউনিয়নের চাষিদের কাছে সার বিক্রি করা হবে। এ খবরে সিংগিমারী ইউনিয়নের কৃষকেরা সকালে সেখানে উপস্থিত হন। কয়েকজন কৃষককে তাদের চাহিদামতো সার না দিয়েই হঠাৎ বিক্রয়কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, পরিবেশক সার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবেশককে অপসরণ দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
কৃষক আব্দুর রহিম ও জাহিদুল ইসলাম জানান, তাদের তিন বিঘা জমির জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। কয়েক দিন ধরে ঘুরেও তারা সার পাননি। আজ সকালে সার পাওয়া যাবে শুনে বিক্রয় কেন্দ্রে আসেন। চাহিদামতো সার না থাকায় ফিরে আসতে হয়।
তারা অভিযোগ করে বলেন, কৃষকদের না দিয়ে বেশি দামে সার খুচরা ও কালো বাজারে বিক্রি করছেন ডিলাররা। দুর্নীতিবাজ ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তাদের অপসরণ দাবি করেন তারা।
কৃষক কসমত আলী বলেন, “ভুট্টা ক্ষেতে এখনই সার দেওয়ার সময়। আজ-কালকের মধ্যে সার না পেলে ভুট্টা রোপণই সম্ভব হবে না। আমার মতো অনেক কৃষকই সার পাচ্ছেন না। এবারে ভুট্টার আবাদ কি হবে আল্লাহ জানেন।”
মেসার্স মোর্শেদ সার ঘরের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর মোর্শেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাইখুল আরেফিন বলেন, “জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মাসের শেষ দিন তাই এমনটা হতে পারে। একদিন পরেই নতুন মাসের অধিক বরাদ্দের সার আসছে। সুতরাং, কোনো সংকট নেই এবং সংকট থাকবেও না।”
তিনি বলেন, “কিছু মানুষ ডিলারের প্রতি ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে বা তার ডিলার পয়েন্ট বাতিল করতে এমনটা করতে পারেন বলেও তথ্য রয়েছে।”
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা বলেন, “সারের মজুত ও বিক্রির হিসাব নেওয়া হচ্ছে। হিসাবের গড়মিল পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত কৃষকদের শান্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।”
ঢাকা/সিপন/মাসুদ