রোহিঙ্গা সংকট ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ডব্লিউএফপি প্রধানের বৈঠক
Published: 15th, October 2025 GMT
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউয়ের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
কার্ল স্কাউ বলেছেন, “বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য খাদ্য সহায়তা জোগাতে সংস্থাটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।”
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ইতালির রোমে এক হোটেলে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ডব্লিউএফপি প্রধানের বৈঠক হয়।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, গাজা ও সুদানের দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক ক্ষুধা মোকাবিলায় তহবিল সংগ্রহের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
স্কাউ গত ১৫ মাসের অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন,“ রোহিঙ্গা মানবিক সংকট বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ফেরাতে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।”
উভয় নেতা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত মানুষের সহায়তায় তহবিল বৃদ্ধির জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
স্কাউ ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধ্যাপক ইউনূসের অনুরোধে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে বিষয়টি আন্তর্জাতিক এজেন্ডার শীর্ষে থাকে।”
বৈঠকে নতুন উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহের সম্ভাবনা, বিশেষ করে ধনী দেশ ও বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
স্কাউ জানান, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওই উচ্চপর্যায়ের জাতিসংঘ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নতুন মানবিক সহায়তার অঙ্গীকারের পর ডব্লিউএফপি প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে মাসে ১২ ডলার করে খাদ্য ভাতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
অধ্যাপক ইউনূস বৈশ্বিক ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় ডব্লিউএফপির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের নতুন স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংস্থাটির সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কিছু এশীয় দেশ স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। আমরাও এ উদ্যোগকে আরো শক্তিশালী করতে চাই, যাতে গুণগত মান নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা যায়।”
বৈঠকে বৈশ্বিক ক্ষুধা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
স্কাউ জানান, প্রায় ৩০ কোটি মানুষ বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গাজায় শত শত খাদ্যবাহী ট্রাক পাঠাতে ডব্লিউএফপি অব্যাহতভাবে কাজ করছে।
বৈঠকে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: বাসস
ঢাকা/ইভা
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
কড়াইল বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি খাদ্যসহায়তা ডব্লিউএফপির
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
ডব্লিউএফপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শুক্রবার জানানো হয়, ২৫ নভেম্বরের এই অগ্নিকাণ্ডের পর পার্শ্ববর্তী বিটিসিএল গার্লস হাইস্কুলে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মাঝে হাই এনার্জি বিস্কুট (এইচইবি) বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) সহযোগিতায় ডব্লিউএফপি ১ হাজার ৯০০ পরিবারের মাঝে এই বিস্কুট বিতরণ করে।
প্রতিটি পরিবার পাঁচ কেজি ওজনের একটি এইচইবি কার্টন পেয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, রান্না বা পানির প্রয়োজন হয় না বলে জরুরি পরিস্থিতিতে এই বিস্কুট অত্যন্ত কার্যকর।
প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ এইচইবি আগামী কয়েক দিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে বলে ডব্লিউএফপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ডব্লিউএফপি বাংলাদেশে ১৯৭৪ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জরুরি সহায়তা, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে লাখো মানুষকে সহায়তা দিয়ে আসছে।
শুধু ২০২৪ সালেই ঘূর্ণিঝড় রেমালসহ একাধিক বন্যার পর ২৮ লাখ মানুষের কাছে খাদ্য, অর্থ ও পুনরুদ্ধার সহায়তা পৌঁছে দেয় ডব্লিউএফপি।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট বলেন, ‘আজকের বিতরণের পরও আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও মানবিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে ডব্লিউএফপি অতিরিক্ত সহায়তা দিতেও প্রস্তুত।’