ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারে বিলম্ব হওয়ায় ক্যাম্পাসে প্রতীকী বোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টায় ক্যাম্পাসের বটতলায় এ বোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

দুই স্ত্রীর বিবাদে প্রাণ গেল যুবদল নেতার

মানিকগঞ্জে ৫ লাশ উদ্ধার 

বোর্ডটিতে বড় অক্ষরে লেখা আছে, “সাবধান! সাজিদ হত্যার ৯০তম দিন, এরপর কি আমি?”

এছাড়া নিচে হ্যাশট্যাগে ইংরেজিতে লেখা হয়েছে, “জাস্টিজ ফর সাজিদ।”

এ সাইনবোর্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তারা বলছেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এমন হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী বোরহান কবির বলেন, “সাজিদের মৃত্যুর ৯০ দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সাজিদ হত্যার ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি বোর্ড গঠন করেছে।”

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক ও ন্যায়বিচার বিলম্বিত করার উদাহরণ হয়ে থাকবে।”

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক ফেরদৌস ইমনের বলেন, “সাজিদ হত্যার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা একটি বোর্ড স্থাপন করেছে, যেখানে প্রতিদিন দিন গণনা বদলে দেখানো হবে কতদিন পার হচ্ছে। এই বোর্ডের মাধ্যমে তারা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, বিচার বিলম্ব ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরতে চায়।”

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখা সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, “আজ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ৯০ দিন হয়ে গেল। এই উপস্থাপিত বোর্ড আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে- একজন শিক্ষার্থী হারিয়ে গেলেন, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের কোনো হদিস বা কারা হত্যা করল এটা আমরা এখনো জানি না।”

তিনি বলেন, “এ বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের ভাবিয়ে তোলে। এটি আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। আরো কেউ বলির পাঠা হবে কিনা? এভাবে কেউ হারিয়ে যাবে কিনা? প্রশাসনকেও ভাবিয়ে তোলে। সেখানে এ বিষয়ে এমন অভিনব প্রতিবাদকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি।”

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাজিদ আব্দুল্লাহকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই, যা প্রশাসনের ব্যর্থতা নির্দেশ করে। মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর হলেও তদন্তের গতি সন্তোষজনক নয়।”

তিনি প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও সিআইডির তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে।”

ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহকে বিশ্ববিদ্যালয়েই শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনার ৯০ দিন পার হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন ও পুলিশ কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাই সাজিদের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। যতদিন দাবি পূরণ না হবে, ততদিন আন্দোলন ও অবস্থান চালিয়ে যেতে শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে একজোট থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।” 

গত ১৭ জুলাই বিকেলে শাহ আজিজুর রহমান হল পুকুর থেকে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকা/তানিম/মেহেদী

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর হত য স জ দ হত য র ব শ বব দ য ইসল ম তদন ত

এছাড়াও পড়ুন:

‘একটা চাদর হবে’র গায়ক জেনস সুমন মারা গেছেন

‘একটা চাদর হবে চাদর’খ্যাত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেনস সুমন মারা গেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। গায়কের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সংগীত পরিচালক ঈশা খান দূরে।

‘একটা চাদর হবে’—এই একটি গানই তাঁকে দেশের ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। ১৯৯৭ সালে তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘আশীর্বাদ’ প্রকাশের পর একের পর এক শ্রোতাপ্রিয় অ্যালবাম উপহার দেন তিনি ‘আকাশ কেঁদেছে’, ‘অতিথি’, ‘আশাবাদী’, ‘একটা চাদর হবে’, ‘আয় তোরা আয়’, ‘চেরী’সহ আরও অনেক গান।

২০০২ সালে বিটিভির একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে প্রচারের পর সাড়া ফেলে ‘একটা চাদর হবে’ গানটি। রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন গানটির গায়ক জেনস সুমন। তারপর আরও কিছু গান করেছেন। এরপর দীর্ঘ বিরতি।
জেনস সুমনের প্রথম একক অ্যালবাম ‘আশীর্বাদ’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। তারপর একে একে আসে ‘আকাশ কেঁদেছে’, ‘অতিথি’, ‘আশবাদী’, ‘একটা চাদর হবে’, ‘আয় তোরা আয়’, ‘চেরী’ ইত্যাদি।

২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সবশেষ অ্যালবাম ‘মন চলো রূপের নগরে’। এরপর কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়লেও শ্রোতাদের মনে জায়গা ছিল অটুট।
১৬ বছরের বিরতি ভেঙে ২০২৪ সালে প্রকাশ পায় তাঁর গান ‘আসমান জমিন’। জি-সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি মুক্তি পায়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটি স্থগিত
  • রেলক্রসিংয়ে উঠতেই বন্ধ হয়ে যায় মোটরসাইকেল, অতপর...
  • মাছ শিকারের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ইগল, পাঠানো হলো হাসপাতালে
  • বিপিএল নিলাম আজ, যা যা জানা প্রয়োজন
  • চন্দ্র কেন কম আলো দেয়
  • খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও স্থিতিশীল, চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারছেন: নাসীরুদ্দীন
  • ফ্রিল্যান্সিং করে ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় লাখ টাকা
  • ‘একটা চাদর হবে’র গায়ক জেনস সুমন মারা গেছেন
  • সাড়ে ৩ কেজি সোনা পরেন রাজস্থানের ফল ব্যবসায়ী, এখন চাঁদা দাবি করছে সন্ত্রাসীরা
  • নোয়াখালীতে বিদ্যালয়ের শৌচাগার থেকে ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার