মিরপুরে আগুন লাগা রাসায়নিকের গুদাম থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে
Published: 16th, October 2025 GMT
আগুন লাগার ৪৮ ঘণ্টা পরও রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ির রাসায়নিকের গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গুদামের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গুদামের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বেলা ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ভেতরে বিভিন্ন রাসায়নিকের বিক্রিয়া হচ্ছে। সেখান থেকে ধোঁয়া ও গ্যাস সৃষ্টি হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিকেলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল এখানে আসবে।
আরও পড়ুনরাসায়নিক গুদামটি অবৈধ, তিনবার নোটিশও দেওয়া হয়েছিল: ফায়ার সার্ভিস১৮ ঘণ্টা আগেসকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্যকে বিশেষ পোশাক পরে অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে গুদামের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রায় ২০ মিনিট পর তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ভেতরে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ভেতরে ক্রিমের মতো প্রায় হাঁটুসমান কেমিক্যাল রয়েছে। তাঁরা ফটক থেকে মাত্র দু-তিন ফুট ভেতরে যেতে পেরেছেন। গুদামের ভেতরটা ধোঁয়ায় ভরা। কিছু দেখা যাচ্ছে না। তাঁরা বাতাস স্প্রে করে ভেতরটা দেখার চেষ্টা করেন। বিস্ফোরণে এলোমেলো হয়ে যাওয়া রাসায়নিকের বস্তা-ড্রাম দেখেছেন।
আজও সকাল থেকে ঘটনাস্থলের সামনের রাস্তায় উৎসুক লোকজনের ভিড় রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাইকিং করে বিষাক্ত গ্যাসের বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করছেন। সেখান থেকে সবাইকে চলে যেতে বলছেন। লোকজনের ভিড়ে রূপনগর সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও পড়ুনমিরপুরে আগুনে ১৬ মৃত্যু: ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগ এনে মামলা১২ ঘণ্টা আগেআরও পড়ুন৬ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নেবে সিআইডি১৪ ঘণ্টা আগেগত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। গুদামে আগুন ধরে বিস্ফোরিত হয়ে পাশের চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চারতলা ভবনের দোতলা ও তিনতলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় রাসায়নিক গুদামের মালিক শাহ আলম ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে নিহত একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে এ মামলা করা হয়। মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুনপায়ে থাকা নূপুর দেখে বোনের লাশ শনাক্তের দাবি২২ ঘণ্টা আগেআরও পড়ুনমিরপুরে রাসায়নিক গুদামের ফটকের তালা ভাঙা হয়েছে, ভেতরে বিষাক্ত ধোঁয়া: ফায়ার সার্ভিস২১ ঘণ্টা আগে.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: গ দ ম র ভ তর সদস য
এছাড়াও পড়ুন:
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬ শতাধিক
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ছয় শতাধিক ছাড়িয়েছে। রবিবার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
মালাক্কা প্রণালীতে এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিরল গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ের পর ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় ৪৩৫ জন, থাইল্যান্ডে ১৭০ জন এবং মালয়েশিয়ায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মকর্তারা রবিবারও অনেক বন্যা কবলিত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তিনটি দেশে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে দক্ষিণ থাইল্যান্ডে প্রায় ৩০ লাখ এবং পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ রয়েছে।
পৃথকভাবে, শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়ে আরো ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, ১৯১ জন নিখোঁজ এবং দেশব্যাপী পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় রবিবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যা শনিবার ৩০৩ জন ছিল। সরকারি ওয়েবসাইটে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা পশ্চিমাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপে হতাহতের এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন। এখানে বৃষ্টিপাতের পর ভূমিধস এবং বন্যায় তিনটি প্রদেশ বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টার ব্যবহার করে যেসব এলাকায় সড়কপথে পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেখানে মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।
থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৭০ জনে পৌঁছেছে, যা শনিবারের তুলনায় আটজন বেশি এবং আহতের সংখ্যা ১০২ জন। সোংখলা প্রদেশে সবচেয়ে বেশি- ১৩১ জন নিহত হয়েছে।
প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায়, দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মতে, এখনো প্রায় ১৮ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ শনিবার গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের সতর্কতা তুলে নিয়েছে, দেশের বেশিরভাগ অংশে আকাশ পরিষ্কার থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।
ঢাকা/শাহেদ