কেন্দ্রীয় খাদ্য পরিবহন ঠিকাদারদের ১২ কোটি টাকা লোপাট
Published: 11th, May 2025 GMT
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার এসোসিয়েশন (রেজি-বি-১৯১০) এর বর্তমান কমিটিকে অবৈধ উল্লেখ করে এই কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ তুলেছেন নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি।
এ সংক্রান্তে রবিবার (১১ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো খাদ্য গুদাম এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় এ অভিযোগ করেন নব গঠিত কমিটির আহ্বায়ক আঃ হাই রাজু।
এরআগে সভায় বিগত ১০ (দশ) বছরে সমিতির আদায়কৃত অর্থ বর্তমান কমিটির নিকট হতে পুনঃরুদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন এবং আগামী দিনে ঠিকাদারদের ব্যবসায়ীক স্বার্থ সংরক্ষনের লক্ষে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে মোঃ আঃ হাই রাজুকে আহবায়ক, এম এম মোঃ আজিজুর স্বপন, এস এম আতাউর রহমান মল্লিক, মোঃ শাহ আলম, চৌধুরী মোহাম্মদ মমিনুল্লাহ’কে যুগ্ম আহবায়ক এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্য সচিব করা হয়।
সভায় আহ্বায়ক কমিটি দাবি করে, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি গত ২০১৫-২০১৬ ও ২০১৬-২০১৭ সালের জন্য নির্বাচিত হয়। তারা ৮ আট বছর যাবৎ নির্বাচন না দিয়ে অবৈধভাবে সমিতি পরিচালনা করছে। সমিতির সংবিধান অনুযায়ী সদস্যদের মাসিক চাঁদা দুইশত টাকা হারে নির্ধারিত রয়েছে।
বিগত দশ বছরে ৬৪০ জন ঠিকাদার হতে মোট ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা মাসিক চাঁদা আদায় করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সদস্যদের উন্নয়নমূলক কাজের অযুহাতে দীর্ঘ দশ বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা সাধারণ সদস্যদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আদায় করেছে।
আর অবৈধ টাকা আদায়ের নেতৃত্ব দেয় সমিতির অবৈধ সাধারণ সম্পাদক কাজী সাহিদুর রহমান, সহ-সভাপতি ফজলুল আজিজ খাঁন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আলীনুর, কোষাধ্যক্ষ মোঃ হারুন অর রশিদ ও প্রচার সম্পাদক মোঃ কেরামত আলী সহ আরো অনেকে।
তাদের অপকর্ম থেকে সমিতিকে পুনঃরুদ্ধার করার লক্ষে আবদুল হাই রাজুর আহ্বানে সাধারণ ঠিকাদারদের (সদস্য) নিয়ে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: স দ ধ রগঞ জ ন র য়ণগঞ জ সদস য
এছাড়াও পড়ুন:
বাবার ডিপিএসের টাকায় ফ্রিল্যান্সিং শুরু শফিকুলের, এখন চালাচ্ছেন স্থানীয় স্পোর্টিং ক্লাব
যশোরের কাজীপাড়া মহল্লার এক মৎস্য ব্যবসায়ী বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন ছেলে বড় কিছু করবে। কিন্তু মধ্যবিত্তের সংসারে স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ, তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। ২০১৬ সাল। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও ছেলের আবদার ফেলতে পারেননি বাবা নুরুল ইসলাম। নিজের শেষ সম্বল, তিলে তিলে জমানো ডিপিএস ভেঙে ছেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার। সেই ল্যাপটপ আর বাবার বিশ্বাসকে পুঁজি করেই শুরু হয়েছিল মো. শফিকুল ইসলামের জীবনযুদ্ধ।
আজ সেই শফিকুল ইসলাম কেবল সফল ফ্রিল্যান্সারই নন, তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। মাসে আয় করেন এক লাখ টাকার বেশি। নিজের উপার্জনের সিংহভাগ খরচ করে গড়ে তুলেছেন ‘কাজীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব’, যেখানে তিনি এলাকার তরুণদের দেখাচ্ছেন আলোর পথ। বর্তমানে ওয়েবসাইট ব্লগিং ও গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন শফিকুল ইসলাম।
ডিপিএস ভেঙে স্বপ্নের শুরুসুজনের শুরুর পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। যশোর উপশহর কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর স্নাতক শ্রেণিতে পড়ার সময় ফ্রিল্যান্সিংয়ের পোকা মাথায় চাপে। বাবার ডিপিএস ভেঙে কিনে দেওয়া ল্যাপটপে রাতদিন এক করে খাটতেন। কিন্তু সফলতা যেন মরীচিকা। ২০১৬ থেকে ২০১৮—টানা তিন বছর শুধুই ব্যর্থতা। এর মধ্যেই ভালোবেসে বিয়ে করেন শামসুন্নাহারকে। কিন্তু বেকার ছেলের হাতে মেয়ে তুলে দিতে নারাজ ছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
শফিকুলের ভাষায়, ‘জীবনে সফলতা না থাকায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আমাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। স্ত্রীকে এক কাপড়ে আমার বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিল।’
এরপর আসে করোনা মহামারি। টিকে থাকার লড়াইয়ে দুই ছোট ভাইকে নিয়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু করেন, সেখানেও ব্যর্থতা। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে যখন দিশাহারা, তখন আবারও ঢাল হয়ে দাঁড়ান বাবা। বাবার সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতিদান দিতে সুজন মরিয়া হয়ে ওঠেন। গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজ শুরু করেন, কিন্তু সেখানেও হোঁচট। যাদের তিনি কাজ শিখিয়েছিলেন, তাদের অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হলেও তাঁর নিজেরটা বারবার রিজেক্ট হতো। মানুষ তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করত, পাগল বলত। তবে আব্দুল্লাহ আল মুন্না ও আলামিন—এই দুই মেন্টরের প্রতি সুজন আজীবন কৃতজ্ঞ।
মেয়ের আগমনে ভাগ্যবদল২০২১ সালের সেপ্টেম্বর। সুজনের ঘর আলো করে আসে প্রথম সন্তান নুসাইবা শফিক। সুজন বিশ্বাস করেন, মেয়ের জন্মই ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। মেয়ের জন্মের পরের মাসেই হাতে আসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিশাল পেমেন্ট। যে সুজনকে একসময় কেউ গুনত না, সেই সুজনই হয়ে ওঠেন এলাকার সফল মুখ।
সুজন বলেন, ‘আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, বাস্তবতা বুঝি। তাই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, নিজের আয়ের একটা অংশ মানুষের জন্য খরচ করব।’
তারুণ্যকে বাঁচাতে খেলার মাঠের ডাকনিজের জীবনের মোড় ঘোরার পর সুজন নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি ছিল তাঁর অদম্য টান। এলাকার বড় ভাই সোহাগ, রনি, রুমন ও তুষারদের দেখতেন কাজীপাড়ার প্রতি গভীর ভালোবাসা লালন করতে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে তাঁরা দূরে সরে গিয়েছিলেন। বড় ভাইদের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন কাঁধে তুলে নেন শফিকুল।
মাদক ও খারাপ কাজ থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে ২০২৩ সালের বিজয় দিবসে প্রতিষ্ঠা করেন ‘কাজীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব’। বর্তমানে ৭০ সদস্যের এই ক্লাবের কোনো বাহ্যিক বিনিয়োগকারী নেই। সুজন নিজের ফ্রিল্যান্সিং আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেন এই ক্লাবের পেছনে।
একটি টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতার পর শফিকের কাজীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব