অটোপাসের দাবিতে হামলার শিকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা যা ইচ্ছে করতে পারে কিন্তু কোনোভাবেই তাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে না। 

বুধবার (২১ মে) রাতে ফেসবুক পোস্টে হামলার সময় তোলা একটা ছবি শেয়ার করে তিনি এ তথ্য জানান। 

অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, “তোমরা হামলা করেছ, আমাকে আহত করেছ, আরো যা ইচ্ছে করতে পার, কর। অটোপাস আমরা দেব না।“

শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস হতে না দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত বরে তিনি বলেন, “চোখের সামনে একটা জাতির শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস হতে আমরা দেব না। দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান কোনো অবস্থাতেই অটোপাস দিতে পারে না।”

তার ওই লেখার নিচে অনেকে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন এবং তার দৃঢ় অবস্থানের প্রতি একত্মতা জানিয়েছে। 
 
আমিন আল রশিদ নামে একজন লিখেছেন, “এটাই মেরুদণ্ডটাই জরুরি স্যার। আপনাকে ধন্যবাদ।”

হোসেন জাকির নামে একজন লিখেছেন, “দিন দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গরু ছাগলের খামারে পরিণত হতে যাচ্ছে! শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার !”

এর আগে গতকাল দুপুরে অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হামলার শিকার হন তিনি। 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুরের ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ওপর হামলার তথ্য দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো.

মোস্তাফিজুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বুধবার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে গাড়ি থেকে নামার সময় স্নাতক (পাস)-২০২২ এর পরীক্ষার্থীরা অটোপাসের দাবিতে তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় তাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কিছু ছাত্র নামধারী দুষ্কৃতকারী অসৎ উদ্দেশ্যে উপাচার্যকে হামলার করেন। এতে তিনি পায়ে চোট পান।

দেশের কলেজগুলোতে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্য ধরে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এখন ২ হাজার ২৫৭টি কলেজ ও ইনস্টিটিউট রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৩২ জন। 

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর উপ চ র য

এছাড়াও পড়ুন:

ট্যাক্স ভিক্ষুকও দেন, আবার বিশাল শিল্পপতিও দেন: জামায়াতের আমির

দেশের অর্থনীতি যদি ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত না হয়, তাহলে সমাজে অবিচার চলতেই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের সব স্তরের মানুষ অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কিন্তু ন্যায্যতা না থাকায় প্রান্তিক মানুষ ও উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই অবিচার বন্ধ করার মূল দায় দায়িত্বশীলদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫–এ শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। এ অর্থনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা। সম্মেলনে জামায়াতের আমিরের সহযোগী বক্তা ছিলেন দলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মো. সফিউল্লাহ। তিনি ‘অর্থনীতিতে ন্যায্যতা’ বিষয়ে আলোচনা করেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে গরিব ও ধনী সবাই অবদান রাখছেন। ট্যাক্স একজন ভিক্ষুকও দেন, আবার একজন বিশাল শিল্পপতিও দেন। ভিক্ষুক সারা দিনে ১০, ২০ কিংবা ১০০ টাকা যা আয় করেন, সন্ধ্যায় দোকানে গিয়ে কিছু কিনলে ট্যাক্স দিতে হয়। নবজাতকের কিছু কিনলেও ট্যাক্স দিতে হয় অর্থাৎ নব্য শিশুও ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদেশি ঋণও সমভাবে সব বয়সী মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে; নবজাতক থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ—সবার ওপর ঋণের বোঝা পড়ে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে দায়িত্বটা কে নেবে, এটা সমাজ ও সরকারের যৌথ দায়িত্ব।’

১৮ কোটি মানুষের দেশকে পরিকল্পনা ছাড়া সাজানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। পরিকল্পনা থাকলে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যেতে পারে বলেন তিনি। তা না হলে ১৮ কোটি মানুষের জায়গায় ১৮ লাখ হলেও সমাজ সাজানো যাবে না বলেন তিনি।

দুর্নীতির কারণে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের এমনভাবে অনুৎসাহিত করছে যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বিনিয়োগ করছেন না। অনেকেই শুধু যে ব্যবসা আছে, তা বাঁচাতে ধরে রাখতে ব্যস্ত।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদাহরণ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যখন কথা হয়, তাঁরা বলেন, সেখানে বিনিয়োগ করেন, সেখানে স্থিতিশীলতা থাকবে, ফান্ডের সেফটি থাকবে। বাংলাদেশে এখন সেটা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সে রকম পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পারিনি। ফলে অনেক দেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত দেশ হিসেবে দেখে না। আমাদের দেশে লালফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তাঁরা বিনিয়োগ করতে চান না।’

আরও পড়ুনযাঁরা লুট করেছেন, তাঁদের ধরেন, কারখানাগুলো চালু থাকুক: ফখরুল১ ঘণ্টা আগে

দেশ পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা, দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, কারিগরি শিক্ষা জাতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর সঙ্গে যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে দুর্নীতিকে মূল থেকে দূর করতে হবে। তাহলে একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সাখাওয়াত স্যার, আপনার কাছে জাতির যত ঋণ
  • ঘাম ঝরে একজনের, নম্বর জোটে সবার
  • ৯ ক্রিকেটারের বিপিএলের নিলাম থেকে বাদ পড়ার ৩ কারণ
  • তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করায় কী প্রভাব পড়বে
  • সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়েছিল শুভচিন্তার মানুষের মনে
  • শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৩, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
  • বিপিএল নিলামের আগে সরাসরি চুক্তি করেছেন যাঁরা
  • সবাই আস্থা পায় এমন বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে
  • নরসিংদীতে বাস–অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে একজন নিহত
  • ট্যাক্স ভিক্ষুকও দেন, আবার বিশাল শিল্পপতিও দেন: জামায়াতের আমির