জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস স্নাতকের (সম্মান) তৃতীয় ব্যাচের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত ও সুনির্দিষ্টভাবে চালুর দাবিতে আবারও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

এর আগে শিক্ষার্থীরা গত শনিবার অবস্থান কর্মসূচি ও পরদিন রোববার আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন। আমরণ অনশনে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই দিন বিকেলে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ। পরে আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুনজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন২৫ মে ২০২৫

আজ সকালে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী অফিউল হাসান, শাহরিয়ার রহমান, ফাহিম ফয়সাল, মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

শিক্ষার্থীরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রাম ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হলেও এখন পর্যন্ত তৃতীয় ব্যাচের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। বর্তমান শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন এই দাবিতে আন্দোলন করলেও আশ্বাস ছাড়া কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। এতে বর্তমান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নতুন ব্যাচ চালু না থাকলে বর্তমান ব্যাচগুলোর শিক্ষার্থীরা পরিচয়হীনতায় ভুগবেন এবং সনদের অবমূল্যায়নের আশঙ্কা আছে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য নূরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে এর আগে তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘অন-ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রামে ৩০০ শিক্ষার্থী আছেন। এই শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি আছে। এটাকে আইনের মধ্যে থেকে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে ধাপে ধাপে কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে বৈঠক করেছি। ইউজিসি আইনি ব্যাখ্যার জন্য বিষয়টি পাঠিয়েছে। ব্যাখ্যা পেলে কার্যক্রম শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। ইউজিসি সিদ্ধান্ত নিলে দাবিগুলো পূরণ সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুনঅটোপাসের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ওপর হামলা২১ মে ২০২৫.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: অন ক য ম প স

এছাড়াও পড়ুন:

আবেদ রাজাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিএনপির একাংশের অনশন

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপির নেতা আবেদ রাজাকে প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে অনশনে বসেছেন তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলাউড়া পৌর শহরের ডাকবাংলো মাঠে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

মৌলভীবাজার-২ আসনে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকতুল ইসলাম দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি প্রথমবারের মতো দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যদিকে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবেদ রাজা ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান।

আবেদ রাজাকে প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে আজ দুপুর ১২টার দিকে ‘মৌলভীবাজার-২ আসনে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা পরিষদ’ ব্যানারে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচিতে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ শহীদুল, কুলাউড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অলিউর রহমান চৌধুরী, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সিরাজুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ৫০ থেকে ৬০ নেতা-কর্মী অংশ নেন।

বিএনপি নেতা বদরুল হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদ রাজা দলের ত্যাগী নেতা। দলের কঠিন সময়ে তিনি নেতা-কর্মীদের মনোবল জুগিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন। নানা আন্দোলন-কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন। আমাদের বিশ্বাস, মনোনয়ন পুনর্বিবেচনায় দল তাঁকে মনোনয়ন দেবে। সেই ঘোষণার আগপর্যন্ত আমাদের অনশন কর্মসূচি চলবে।’

এর আগে দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে গত ২৩ মার্চ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ‘রোডমার্চ’ করেন মনোনয়নবঞ্চিত আবেদ রাজা। একই দাবিতে তাঁর অনুসারীরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মশালমিছিল, বিক্ষোভ মিছিল, সংবাদ সম্মেলন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আবেদ রাজাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিএনপির একাংশের অনশন