জুলাই পদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে বুধবার ব্যাপক সাড়ার মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এদিনও পদযাত্রায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন তারা। সভায় দলটির নেতারা বলেন, স্বৈরাচার সরকারের পতন হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা এখনও রয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ, মাফিয়াতন্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এনসিপি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন করে চাঁদাবাজ কিংবা মাফিয়াতন্ত্রের ফ্যাসিবাদী সরকার গড়তে দেওয়া যাবে না। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্যই নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি। আমরা আপনাদের সমর্থন চাই।

দুপুরে কুড়িগ্রামের ঘোষপাড়ায় এক পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কোনো টালবাহানা এনসিপি মেনে নেবে না। বাস্তবসম্মত উপায়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা করতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় কুড়িগ্রাম তথা রংপুর অঞ্চলকে যাতে পিছিয়ে দেওয়া না হয়, সেভাবেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা করতে হবে। ভারতের দালালির দিন শেষ। আমরা স্বাধীন দেশ, মাথা উঁচু করে বাঁচব।’

এর আগে রাজারহাট উপজেলায় আরেক পথসভায় নাহিদ বলেন, ‘আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের জন্য আমরা ইশতেহার ঘোষণা করব। গণঅভ্যুত্থানকে যারা ব্যর্থ করতে চাচ্ছে, ষড়যন্ত্র করতে চাচ্ছে– তাদের বিরুদ্ধে ওইদিন প্রতিরোধ গড়ে তুলব শহীদ মিনারে।’ 

একই সভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘খুনি হাসিনা ফেরাউনের মতো অত্যাচারী ছিলেন। আমরা তাঁর পতন ঘটিয়েছি। আগামীতে এই ফেরাউনের মতো কোনো অত্যাচারী শাসক যেন বাংলার মাটিতে না আসে। নতুন বাংলাদেশে যেন নতুন স্বৈরাচারের জন্ম আর না হয়।’

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অতীতের স্বৈরাচার আমাদের পথ রুদ্ধ করেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধদের রাস্তার মধ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। আলেমদের দাড়ি-টুপি নিয়ে অপমানসহ মসজিদের ভেতর থেকে নামিয়েছে। আমাদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। নতুন বাংলাদেশে আর নতুন করে চাঁদাবাজি হতে দেওয়া যাবে না। খুনি-দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।’

পথসভা শেষে কুড়িগ্রাম-২ আসনে এনসিপির এমপি প্রার্থী হিসেবে ড.

আতিক মুজাহিদের নাম ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসুদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, কৈলাশ রবিদাসসহ জেলা ও উপজেলার নেতারা। 

বিকেলে এনসিপির পদযাত্রা লালমনিরহাট শহরের এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে এসে পৌঁছায়। পদযাত্রা প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের মিশন মোড় চত্বর এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় ট্রাকে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত বড় গণঅভ্যুত্থান, এত মানুষের রক্ত, এত আত্মত্যাগ; আমরা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন মেনে নেব না। রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, মানুষের জীবনের পরিবর্তন করতে হবে। তিনি জানান, নদী ও সীমান্ত সুরক্ষা আন্দোলন শুরু করবে এনসিপি। দেশকে  বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সংস্কার না হলে একতরফা নির্বাচনে এনসিপি অংশগ্রহণ করবে না। 

পথসভায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বক্তব্য দেন।

এদিন কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট উভয় জেলাতেই এনসিপি নেতারা এসে পৌঁছলে তাদের একনজর দেখতে রাস্তার পাশে শত শত মানুষ ভিড় করেন। স্কুলের শিক্ষার্থীরা ফুল নিয়ে অভিবাদন জানায় নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, তাজনুভা জাবীন ও সামান্তা শারমিনদের। দুপুরে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় এনসিপির পদযাত্রায় স্থানীয় বিপুল সংখ্যক মানুষকে অংশ নিতে দেখা যায়। 

সকালে রংপুর থেকে কুড়িগ্রাম আসার পথেও বিপুল সংখ্যক মানুষ এনসিপি নেতাদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। রংপুর সাতমাথার বালাটাড়ি এলাকায় এক কৃষক নিজের গাছের পাকা কাঁঠাল পেড়ে আপ্যায়ন করেন এনসিপি নেতাদের। এই আন্তরিকতায় অভিভূত হয়ে দলটির নেতাকর্মীরা বলেন, মানুষের এমন ভালোবাসাই তাদের পথচলার প্রেরণা। 

এর আগে মঙ্গলবার রংপুর থেকে এনসিপি তাদের জুলাই পদযাত্রা শুরু করে। 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: এনস প এনস প র পদয ত র পথসভ য় ন র জন আবদ ল

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্‌যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগে

তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগে

মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ