বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে মেধা যাচাই কর্মসূচি ‘এপেক্স অ্যাস্ট্রো অলিম্পিয়াড’–এর ২০তম আসর। স্কুল ও কলেজের ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবে। বাছাই করা ৫ জন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আফতাব নগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান এবং এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রায়হান কবির।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশহুরুল আমিন। তিনি জানান, এবার দুটি গ্রুপে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। জুনিয়র গ্রুপে থাকবে ২০১০-২০১১ সালে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীরা (১৪-১৫ বছর), সিনিয়র গ্রুপে ২০০৭-২০০৯ সালে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীরা (১৬-১৮ বছর)।

প্রথম রাউন্ডের প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে ১১ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এ রাউন্ড থেকে নির্বাচিত ৩০০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবে জাতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় রাউন্ড এবং পরে ক্লোজড ক্যাম্প।

ক্লোজড ক্যাম্পের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত পাঁচজন শিক্ষার্থী যাবে রাশিয়ায়। তারা আগামী ২০ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে প্রতিযোগিতা করবে। একই সঙ্গে ২৯তম আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াড এবং এশিয়ান-প্যাসিফিক অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।

অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন ফি ১০০ টাকা, যা বিকাশ নম্বর ০১৯১৫-৬৫৩৬০৭–এ পাঠাতে হবে।

গত বছরের মতো এবারের আয়োজনেও টাইটেল স্পনসর হিসেবে রয়েছে এপেক্স। আয়োজনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে গার্ডিয়ান লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড, পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, এডিএন টেলিকম, কেদারপুর টি স্টেট ও ওয়াচেস ওয়ার্ল্ড।

সহযোগী গণমাধ্যম হিসেবে থাকছে প্রথম আলো, দুরন্ত টেলিভিশন, চ্যানেল আই, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: অল ম প য় ড

এছাড়াও পড়ুন:

গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে গতকাল শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বৈশ্বিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ হয়। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই বিক্ষোভ হলো।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এ পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

গতকাল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রধান সড়কগুলোতে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘গাজা, গাজা; প্যারিস তোমার সঙ্গে আছে’ এবং ‘প্যারিস থেকে গাজা, প্রতিরোধ’ স্লোগান দেন। তাঁরা ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে ইসরায়েলি ‘জাতিহত্যার’ নিন্দা জানান।

এক বিক্ষোভকারী আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখনো ন্যায়বিচার বা জবাবদিহি থেকে অনেক দূরে।’

আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি, এটি (ইসরায়েলের যুদ্ধ) খারাপ। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা কেন এটি বুঝতে পারেন না?’

ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যান তুয়াইলোঁ বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাত সপ্তাহ পরেও কোনো কিছুরই সমাধান হয়নি।

প্রায় ৮০টি বেসরকারি সংস্থা, ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দল এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এগুলোর একটি ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রধান তুয়াইলোঁ যুদ্ধবিরতিকে ‘শুভংকরের ফাঁকি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক লাখ মানুষ এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ‘অপরাধের’ জবাবদিহি দাবি করেন। অবরুদ্ধ গাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষার দাবি জানান।

ইতালিতে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের নেতাদের নেতৃত্বে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

দেশটির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত মূল বিক্ষোভ সমাবেশে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টার ফ্রানচেসকা আলবানিজ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন।

আরও পড়ুনগাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ, লন্ডনে ৫০০ গ্রেপ্তার০৫ অক্টোবর ২০২৫

আলবানিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিহত্যা চালাচ্ছে।

এ ছাড়া জেনেভা, লিসবনসহ ইউরোপের অন্যান্য শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৮৯ জন। এই সময়ে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

আরও পড়ুনগাজায় ইসরায়েলের হামলা চলছেই, নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭০ হাজার৬ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যা, পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার বাস্তুচ্যুত করা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় এখনো জাতিহত্যা চালাচ্ছে। নতুন করে হামলা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

আরও পড়ুনগাজায় নিহতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হতে পারে: জার্মানির শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য২৬ নভেম্বর ২০২৫

সম্পর্কিত নিবন্ধ