কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে মানত গ্রহণের নামে প্রতারণা ঠেকাতে এবং মানতকারীদের ভোগান্তির অবসানে এবার উদ্বোধন করা হলো ডোনেশন ওয়োবসাইট। মসজিদ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান শুক্রবার সকালে মসজিদ প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে নামে ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেছেন। 

এ সময় জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, বিভিন্ন প্রতারক চক্র অনলাইন ব্যাংকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পাগলা মসজিদের মানতকারীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। এ ছাড়া দূরের বহু মানুষকে কষ্ট করে এসে মানতের টাকা দিতে হতো। আবার দেশ-বিদেশের অনেকের পক্ষে মানত পৌঁছে দেওয়া সম্ভবও হতো না। প্রতারক চক্রের প্রতারণা বন্ধ এবং দেশ-বিদেশের মানতকারীদের সুবিধার জন্য এই ওয়েবসাইটটি ভূমিকা রাখবে। এখন অনলাইনে যে কেউ অনুদান বা মানতের টাকা পাঠাতে পারবেন। 

প্রতি তিনমাস অন্তর পাগলা মসজিদের ৮ থেকে ১০টি দানবাক্স খুলে কয়েক কোটি টাকা পাওয়া যায়। সাথে সোনা-রূপা আর ডায়মন্ডের অলঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতিদিনই হাঁস-মুরগি আর গবাদি পশুসহ বিভিন্ন সামগ্রি পাওয়া যায়। সর্বশেষ ১২ এপ্রিল পাওয়া গিয়েছিল ৯ কোটি ১৭ লাখ, ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সাথে অলঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা ছিল।

ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, পাগলা মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আশরাফ আলী, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আলমগীর হোসেন তালুকদার, আল জাতিয়াতুল ইমদাদিয়ার মহাপরিচালক মাওলানা সাব্বির আহমেদ রশিদ, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দিলু প্রমুখ।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: মসজ দ

এছাড়াও পড়ুন:

বিশ্বে কি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বাড়ছে

ইন্দোনেশিয়া ও ইথিওপিয়ায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুটি বড় আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা বাড়ছে বলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেকে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা বৃদ্ধির কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি সম্ভাব্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। বর্তমানে পর্যবেক্ষণপদ্ধতি উন্নত হওয়ায় আগের তুলনায় মনে হচ্ছে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সেমেরু আগ্নেয়গিরিতে মাত্র চার বছরের ব্যবধানে গত ২২ নভেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। অপরদিকে ইথিওপিয়ার হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে প্রথমবারের মতো। দুটি আগ্নেয়গিরিতেই বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে।

ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য মতে, পৃথিবীর গভীরে তাপমাত্রা এত বেশি যে কিছু শিলা ধীরে ধীরে গলে গিয়ে ম্যাগমা নামে পরিচিত একটি ঘন, প্রবাহিত পদার্থে পরিণত হয়। যেহেতু এটি চারপাশের কঠিন শিলার চেয়ে হালকা, তাই এই ম্যাগমা ওপরে উঠে ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা চেম্বারে জমা হয়। অবশেষে তার কিছু অংশ ছিদ্র ও ফাটলের মাধ্যমে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তখনই অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। একবার ম্যাগমা মাটির ওপরে বেরিয়ে এলে, তাকে লাভা বলা হয়।

কিছু আগ্নেয়গিরি ঘন ঘন বিস্ফোরিত হয়। আবার হায়লি গুব্বির মতো আগ্নেয়গিরি হাজার হাজার বছর শান্ত থাকতে পারে। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল ভলকানিজম প্রোগ্রাম ১৯৬৮ সাল থেকে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত নথিভুক্ত করছে।

ইউএসজিএসের তথ্য মতে, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বাড়ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। বিশ্বজুড়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর বেশির ভাগই প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ার বরাবর অবস্থিত। এই অঞ্চলে বিশ্বের মোট সক্রিয় বা সুপ্ত আগ্নেয়গিরির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৭৫০ থেকে ৯১৫টির মতো আগ্নেয়গিরি রয়েছে। ইউরোপের আইসল্যান্ডেও নিয়মিত অগ্ন্যুৎপাত হয়ে থাকে। জলবায়ু ও জনসংখ্যার চাপ বাড়ার কারণে বর্তমানে অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব বেশি অনুভূত হলেও সামগ্রিক সংখ্যা বাড়ছে না।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সম্পর্কিত নিবন্ধ