কর্নেল বি সন্তোষের চরিত্রে সালমান, এলো ফার্স্টলুক
Published: 5th, July 2025 GMT
মাস তিনেক আগে মুক্তি পেয়েছিল সালমান খান ও রাশমিকা মান্দানা অভিনীত সিনেমা ‘সিকান্দার’। বক্স অফিসে তেমন সাড়া ফেলেনি সিনেমাটি। তবে সালমান তো সালমানই, তিনি সবসময়ই ফিরতে মরিয়া। তারই প্রমাণ মিললো আরও একবার। নতুন সিনেমা নিয়ে আসছেন সাল্লু ভাই।
আচমকাই ভক্তদের চমকে দিলেন যেন। নিজের পরের সিনেমা, ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’-এর ঘোষণা তো দিলেনই, সেইসাথে প্রকাশ করলেন ছবির ফার্স্টলুকও।
৫ জুন অভিনেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মোশন পিকচার শেয়ার করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান দিলেন, আবারও আসছেন তিনি।
জানা গেছে, ২০২০ সালে লাদাখে সংঘটিত ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘাতই ছবিতে তুলে ধরবেন নির্মাতা অপূর্ব লাখিয়া। এই প্রথম কোনও সত্য ঘটনার আলোকে, যুদ্ধ-পরিস্থিতি নিয়ে নির্মিত সিনেমায় অভিনয় করছেন সালমন। সিনেমায় তার বিপরীতে চিত্রাঙ্গদা সিংকে দেখা যেতে পারে।
সালমান এখানে কর্নেল বি সন্তোষ বাবুর চরিত্রে অভিনয় করছেন। যিনি চীনা সেনাদের সাথে সংঘর্ষের সময় ১৬টি বিহার রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।এটাও জানা গেছে, চলতি মাসেই লাদাখে ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে।
সিনেমার ফার্স্টলুকে সালমনকে দেখা যাচ্ছে একজন ভারতীয় সেনার পোষাকে।চেহারায় ক্ষত, রক্তের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া, পেরেক গাঁথা মুগুর দেখা যাচ্ছে কাঁধের ওপর।
স্বভবতই, ফার্স্ট লুক দেখে উচ্ছ্বসিত সালমান ভক্তরা। তারা আশা করছেন, এবার বোধ হয় খরা কাটতে চলেছে প্রিয় অভিনেতার।
ফার্স্টলুক দখে একজন মন্তব্য করছেন, ‘ভাই ফের বক্স অফিস জয় করতে আসছেন’। আরেকজন লিখেছেন, ওহ মাই গড! বলিউড সুলতান ফিরছেন!’ অন্য আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘বলিউডের আসল হিরো ফিরছেন।’
প্রসঙ্গত, ভারতের ইতিহাসে ‘গালওয়ান’ সংঘাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত চরমে পৌঁছায়। তখন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫ হাজার ফুচ উচ্চতায় দুই দেশের বাহিনী পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষেরই হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪৫ বছরের মধ্যে চীন-ভারত সীমান্ত সংঘাতে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। এমনকি, গালওয়ান সংঘর্ষ নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও শুরু হয়।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৩, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ১৯১ জন। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে সরকার।
ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, বন্যায় ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৮ হাজার মানুষকে সরকার পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিএমসির মুখপাত্র প্রদীপ কডিপিল্লি বলেছেন, বন্যায় সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া আরও ৭ লাখ ৯৮ হাজার মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় কুরুনেগালা জেলায় শনিবার বিকেলে বন্যায় প্লাবিত একটি বৃদ্ধাশ্রমের ১১ জন বাসিন্দাও আছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার বন্যায় আটকে পড়া ৬৯ বাসযাত্রীকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। তাঁদের মধ্যে একজন জার্মান পর্যটকও আছেন। তাঁরা অনুরাধাপুরা জেলায় আটকা পড়েছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন যাত্রী জানান, নৌবাহিনীর নাবিকেরা রশি ব্যবহার করে বন্যার পানি পার করিয়ে নিকটস্থ একটি বাড়ির ছাদে উঠতে তাঁদের সাহায্য করেছিলেন।
ডব্লিউ এম শান্থা নামের ওই যাত্রী বলেন, ‘আমরা খুব ভাগ্যবান ছিলাম…আমরা যখন ছাদে ছিলাম, তখন এর একটি অংশ ধসে পড়ে।…ওই সময় তিনজন নারী পানিতে পড়ে যান। কিন্তু তাঁদের আবার ছাদে উঠতে সাহায্য করা হয়েছিল।’
প্রাথমিকভাবে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁদের উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু পাখার বাতাসে ছাদটি উড়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়। পরে নৌবাহিনীর নৌকার সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুনশ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ৮০ জনের বেশি নিহত২১ ঘণ্টা আগে