রাজনীতির মাঠে সন্ত্রাস, পেশিশক্তি ও অর্থের দাপট বন্ধ করে একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও জনগণভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

আজ রোববার বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার বলেন, ‘আমরা এমন একটি রাজনীতি চাই, যেখানে নেতৃত্ব আসবে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার মাধ্যমে। যেখানে দেশ ও জনগণের কল্যাণ থাকবে কেন্দ্রে। সন্ত্রাস, অর্থ বা গায়ের জোরের কোনো স্থান থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত রাজনীতি হলো ত্যাগ ও জনসেবার জায়গা থেকে পরিচালিত। নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, ভালো কাজের প্রতিযোগিতা থাকতেও পারে, কিন্তু সেখানে হিংসা, দ্বন্দ্ব, বিভাজন এবং প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতি চলতে পারে না। এনসিপি এ মূল্যবোধেই বিশ্বাস করে।’

‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শীর্ষক ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আখতার হোসেন নওগাঁ সফর করেন। এই পদযাত্রা উপলক্ষে শহরে প্রবেশের সময় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

আখতার বলেন, পদযাত্রা চলাকালে নওগাঁ শহরে জনসাধারণের ঢল নামে। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহর। এতে বোঝা যায় মানুষ নতুন রাজনৈতিক ধারার খোঁজে আছে। তারা আগের মতো আর বিভ্রান্ত হতে চায় না।

তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নওগাঁ শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। একটি সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে নওগাঁর উন্নয়ন খুবই জরুরি। এখানকার অবকাঠামোগত সংকট, বেকারত্ব এবং জীবনমানের চ্যালেঞ্জগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

আখতার হোসেন জানান, নওগাঁতে এনসিপির বার্তা ব্যাপকভাবে পৌঁছেছে এবং নানান শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। শুধু তরুণ নয়, প্রবীণ, মধ্যবয়সী, নারী-পুরুষ, এমনকি শহীদ পরিবারের সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এনসিপি যে কেবল তরুণদের দল, নওগাঁ সফর সে ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, রিকশাচালক, কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত আমাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আপন করে নিচ্ছেন। এটা আমাদের বড় অনুপ্রেরণা।

আখতার হোসেন জানান, ইতোমধ্যে নওগাঁয় এনসিপির একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তা দ্রুত মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা গ্রাম থেকে শহর প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছান এবং দেশের নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণে এনসিপির বার্তা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, এনসিপি হবে সাধারণ মানুষের প্ল্যাটফর্ম। যারা নিঃস্বার্থভাবে দেশকে ভালোবাসেন, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য এই দল হবে নতুন আশ্রয়।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: র জন ত এনস প আখত র হ স ন এনস প র র জন ত

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্‌যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগে

তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগে

মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ