কিংবদন্তি বাবাকে ব্রাজিল জাতীয় দলে রেখে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবের দায়িত্ব নিলেন ছেলে
Published: 8th, July 2025 GMT
বাবার ছায়াতল থেকে বের হওয়ার ইচ্ছাটা তিনি জানিয়েছিলেন আগেই। বাবার সহকারীর ভূমিকায় আর না থেকে কোনো দলের প্রধান কোচ হতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত এই ইচ্ছাটা পূরণ হলো ডেভিড আনচেলত্তির।
ব্রাজিলের ক্লাব বোতাফোগোর প্রধান কোচ হিসেবে ডেভিডের সই করার খবরটি জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম গ্লোবো। গত রোববার দুই পক্ষের মধ্যে এ চুক্তি সম্পাদিত হয়। ৩৫ বছর বয়সী ডেভিড শিগগিরই রিও ডি জেনিরোয় যাবেন। এ সপ্তাহেই তিনি বোতাফোগোর প্রধান কোচ হিসেবে কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
আরও পড়ুনজার্মানি ৭-১ ব্রাজিল: যে বেদনা চিরন্তন, যে যন্ত্রণার শেষ নেই৪ ঘণ্টা আগেওহ, ডেভিডের বাবার নামটা বলাই হয়নি। এতক্ষণে অবশ্য বুঝে ফেলার কথা—কার্লো আনচেলত্তি। ইতালির এই কিংবদন্তি কোচ এসি মিলানের (২০০১-২০০৯) দায়িত্বে থাকতে ক্লাবটি বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেন ডেভিড। ফুটবলার হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার বেশি দূর এগোয়নি। বাবার মতো কোচিংয়ে নামতে ২০০৯ সালে অবসর নেন। ক্রীড়াবিজ্ঞানে ডিগ্রি আছে ডেভিডের।
কোচিংয়ে তাঁর শুরুটা হয় ২০১২ সালে বাবার হাত ধরেই। কার্লো আনচেলত্তি তখন পিএসজির কোচ, সেখানে ফিটনেস কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ডেভিড। ২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদ কোচের দায়িত্ব নেন আনচেলত্তি, ডেভিড সেখানে ফিটনেস কোচের সহকারীর দায়িত্ব নেন। ক্লাসের শীর্ষে থেকে ২০১৬ সালে উয়েফার এ লাইসেন্স পান ডেভিড এবং তারপর থেকে শুরু হয় সহকারী হিসেবে তাঁর পথচলা। সে বছরই বায়ার্ন মিউনিখে প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন তাঁর বাবা। ডেভিডও হয়ে যান বাবার সহকারী। এভাবে পরবর্তী সময়ে নাপোলি, এভারটন, রিয়াল মাদ্রিদে বাবার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ডেভিড।
গত মে মাসে কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। ডেভিডও ব্রাজিল জাতীয় দলে তাঁর বাবার সহকারী কোচ হন। তার আগেই জানা গিয়েছিল, বাবার ছায়াতল থেকে বের হয়ে একাই একটি দলের সব দায়িত্ব নিতে চান ডেভিড। অর্থাৎ বাবার মতোই কোনো দলের প্রধান কোচ হতে চান। তখন স্কটল্যান্ডের রেঞ্জার্স ও ইতালির ক্লাব কোমো থেকে নাকি প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে এসব প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে বাবার মতোই ব্রাজিলে থিতু হলেন ডেভিড।
আরও পড়ুনব্রাজিলের চরম দুঃখ, ব্রাজিলের পরম আনন্দ—দুটিরই যখন সাক্ষী ৬ ঘণ্টা আগেবোতোফোগোয় একজনের বেশি সহকারী কোচ পাবেন ডেভিড। নিজের কোচিং দলে কাদের রাখবেন, তা এখনো তিনি চূড়ান্ত করেননি। পরিবার নিয়ে আপাতত ইউরোপে ছুটি কাটাচ্ছেন ডেভিড। গ্লোবো জানিয়েছে, ব্রাজিল জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে তাঁর সঙ্গে স্থায়ী চুক্তি করেনি দেশটির ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। জাতীয় দলের ম্যাচ সামনে রেখে সিবিএফ থেকে ডাক পেলে গিয়ে কাজ করেন। সে জন্য বাবার মতো ব্রাজিলে থাকারও বাধ্যবাধকতা ছিল না তাঁর।
ব্রাজিল জাতীয় দলে আনচেলত্তির সহকারীর দায়িত্বে ছিলেন তাঁর ছেলে.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব র জ ল জ ত য় দল ব ব র সহক র ব ব র মত
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগেতারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগেমহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে