১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে ব্রিটিশদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উপমহাদেশে উপনিবেশবাদের নতুন অধ্যায়। এই বিজয়ের ফলে মুসলিমরা হয়ে ওঠে ব্রিটিশদের প্রধান সন্দেহভাজন।
ফলে প্রতিটি পদে তাদের অগ্রযাত্রায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ক্রমাগত বৈষম্যের শিকার হয়ে বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমরা শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের অঙ্গনে পিছিয়ে পড়ে।
এই পশ্চাদপসরণ থেকে মুসলিম সমাজকে উদ্ধারের প্রয়াস যিনি প্রথম গ্রহণ করেন, তিনি হলেন নবাব আবদুল লতিফ। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল, মুসলিম সমাজের জাগরণ ও অগ্রগতির স্বপ্নে নিবেদিত। আজ ১০ জুলাই, তার প্রয়াণ দিবসে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এই মহান সংস্কারককে, যিনি ছিলেন বাংলা মুসলমানদের নবজাগরণের পথ প্রদর্শক।
আরো পড়ুন:
সাধারণ ছুটিসহ ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ ঘোষণা
বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাবির ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ব্রিটিশ শাসনামলে মোগল কর্তৃক প্রচলিত বিচারব্যবস্থা কিছু সময় পর্যন্ত বলবৎ ছিল। সেই সময়ে কাজীরা ছিলেন সমাজের প্রভাবশালী ও সম্মানিত শ্রেণির অংশ। এমন একটি কাজী পরিবারে ১৮২৮ সালের মার্চ মাসে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন নবাব আবদুল লতিফ।
তার পিতা ছিলেন কলকাতা সদর দেওয়ানি আদালতের আইনজীবী। পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তিনি আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাও শিখতে আগ্রহী হন এবং দ্রুতই পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি ঝোঁক তৈরি করেন।
তিনি কর্মজীবন শুরু করেন ১৮৪৬ সালে শিক্ষকতা দিয়ে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তার মেধা ও কর্মদক্ষতায় নজর পড়ে ব্রিটিশ প্রশাসনের। ১৮৪৯ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ১৮৭৭ সালে প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদোন্নতি পান।
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নীলকরদের অত্যাচারে জর্জরিত কৃষকদের পক্ষে অবস্থান নেন। সরকারি চাকরিতে থেকেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে নীলকরদের নিপীড়নের প্রতিবাদ করেন এবং সরকারের প্রতি সমাধান চেয়ে আহ্বান জানান। এরই ফলস্বরূপ ১৮৬০ সালে ‘নীল কমিশন’ গঠিত হয়, যা নীলকরদের দমন ও কৃষকদের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।
নবাব আবদুল লতিফ অনুভব করেন, পলাশীর প্রান্তর পরবর্তী সময়ে মুসলমানরা শিক্ষা ও চিন্তাচর্চায় মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করেন।
১৮৬২ সালে তিনি বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য মনোনীত হন এবং ১৮৬৫ সালে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের ‘জাস্টিস অব দ্য পিস’ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ১৮৭৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
১৮৫৩ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক থাকাকালে তিনি মাদ্রাসার নানা সমস্যার কথা সরকারকে জানান এবং ১৮৫৪ সালে ফারসি ও আরবি বিভাগ খোলার উদ্যোগ নেন। সেই সময় তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করেন মুসলিমদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য।
তার উদ্যোগেই ১৮৫৪ সালে হিন্দু কলেজের পরিবর্তে প্রেসিডেন্সি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সব সম্প্রদায়ের ছাত্রদের ভর্তি অনুমোদন দেওয়া হয়।
১৮৫৭ ও ১৮৬৭ সালে যখন ব্রিটিশ সরকার আলিয়া মাদ্রাসাকে সন্দেহের চোখে দেখে বন্ধ করে দিতে চায়। তখন নবাব লতিফ এর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন। তার যুক্তিপূর্ণ অবস্থানে সরকার মাদ্রাসার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।
১৮৬১ সালে ছোট লাট জে.
নবাব লতিফ মুসলিম সমাজে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চার প্রসারের জন্য ১৮৬৩ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি অফ ক্যালকাটা (মুসলিম সাহিত্য সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন, যা মুসলমানদের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণে মুখ্য ভূমিকা রাখে।
তিনি পরবর্তীতে ‘মিস মেরি কার্পেন্টার সমিতি’, ‘রিফরমেটরি ফর জুভেনাইল অফেন্ডারস’, ‘সেন্ট্রাল টেক্সটবুক বোর্ড’, ‘ভারতীয় বিজ্ঞান অনুশীলন সমিতি’, ‘আলবার্ট টেম্পল অব সায়েন্স’, ‘ন্যাশনাল ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ প্রভৃতি সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে কাজ করেন।
১৮৮৪ সালে অবসর নেওয়ার পর তিনি ১৮৮৫ সালে ভোপালে গভর্নর জেনারেলের প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হন। তবে বাংলা ও মুসলিম সমাজের টানে তিনি আর কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেননি। বরং নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমাজ সংস্কারমূলক কাজে নিয়োজিত করেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের উন্নয়নের জন্য সরকারের বিরোধিতা নয়, বরং সরকারের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। তিনি সবসময় মুসলিম সমাজকে ইংরেজি শিক্ষা, আধুনিক চিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্কতায় উদ্বুদ্ধ করেছেন।
তার জীবনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটিশ সরকার ১৮৮০ সালে তাকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করে এবং ১৮৮৭ সালে প্রদান করে ‘নবাব বাহাদুর’ উপাধি।
আজ ১০ জুলাই, ১৮৯৩ সালের সেই বিষাদের দিনটিতে তিনি আমাদের ছেড়ে বিদায় নেন। বাংলার মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তনের যে সূচনা তিনি করেছিলেন, তা আজো ইতিহাসের পাতায় দীপ্তিমান। কিন্তু তার মতো আর কোনো সংস্কারক বাংলার আকাশে আবির্ভূত হয়নি, যিনি মুসলিম সমাজকে আপন করে, সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন। তাই আমরা আজ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি এই মহান সংস্কারক, শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও সমাজহিতৈষী নবাব আবদুল লতিফকে।
সূত্র: An image of Latif from the 1910 book ‘Twelve Men of Bengal in the Nineteenth Century’ By Francis Bradley Bradley-Birt
(লেখক: শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি))
ঢাকা/মেহেদী
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর দ বস সরক র র র জন য
এছাড়াও পড়ুন:
বিপিএল নিলাম আজ, যা যা জানা প্রয়োজন
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১২তম আসরের খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া ‘প্লেয়ার্স অকশন’ বা খেলোয়াড় নিলাম আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। ছয় ফ্রাঞ্চাইজিদের নিয়ে হবে বিপিএলের পরবর্তী আসরের খেলোয়াড় নিলাম।
এই প্রক্রিয়া আগে ছিল, প্লেয়ার্স ড্রাফট। প্লেয়ার্স ড্রাফট ছিল অনেকটাই ভাগ্যের পরীক্ষা। সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করতো ভাগ্যের ওপর। নতুন করে বিপিএল শুরুর অপেক্ষায় থাকা বিপিএলে তাই পুরোনো দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বাদ। ড্রাফট বাদ দিয়ে নিলামের মাধ্যমে দল গোছানোর সুযোগ পাচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজিরা। সেখানে অবশ্য নির্দিষ্ট সীমানা ঠিক করে দিয়েছে বিসিবি।
নিলামের আগে যা যা জানা প্রয়োজন এক নজরে তা দেখে নেওয়া যাক,
নিলাম কবে, কখন, কোথায়:
৩০ নভেম্বর, বিকেল ৪টা, হোটেল র্যাডিসন
নিলামে অংশগ্রহণ করবে কারা:
ঢাকা ক্যাপিটালস, সিলেট টাইটান্স, রংপুর রাইডার্স, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
নিলামে কত ক্রিকেটার
বিসিবির পাঠানো চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা থেকে জানা গেছে, নিলামে উঠবেন ১৪৭ স্থানীয় ক্রিকেটার। বিদেশি ক্রিকেটার আছেন ২৬০ জন।
ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য
স্থানীয় ১৪৭ ও বিদেশি ২৬০ ক্রিকেটারের জন্য আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি এবং আলাদা আলাদা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছে বিসিবি। স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য পারিশ্রমিকের ছয়টি ক্যাটাগরি করেছে বোর্ড। এ ক্যাটাগরির পারিশ্রমিক ৫০ লাখ। এরপর যথাক্রমে ৩৫, ২২, ১৮, ১৪ ও ১১ লাখ। বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য পাঁচটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৩৫ হাজার ডলার। এরপর রয়েছে বি, সি, ডি এবং ই। পারিশ্রমিক যথাক্রমে ২৫, ২০, ১৫ ও ১০ হাজার ডলার।
কীভাবে হবে নিলাম
স্থানীয় ক্রিকেটারদের এ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকে মূল্য বাড়ানো যাবে ৫ লাখ টাকা। বি ক্যাটাগরির প্রতিটি ডাক মূল্য ৩ লাখ টাকা। এরপর সি ক্যাটাগরিতে ১ লাখ, ডি-ই-এফ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকের মূল্যা ৫০ হাজার টাকা। বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুসারে যথাক্রমে প্রতি ডাকে বাড়বে ৫ হাজার ডলার, ৩ হাজার ডলার, ২ হাজার ডলার, ১ হাজার ৫০০ ডলার এবং ১ হাজার ডলার।
সরাসরি চুক্তিতে স্থানীয় ক্রিকেটার
মেহেদী হাসান মিরাজ (সিলেট টাইটান্স), নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স), মোস্তাফিজুর রহমান (রংপুর রাইডার্স), নুরুল হাসান সোহান (রংপুর রাইডার্স), তাসকিন আহমেদ (ঢাকা ক্যাপিটালস), সাইফ হাসান (ঢাকা ক্যাপিটালস), হাসান মাহমুদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), সৌম্য সরকার (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), শেখ মেহেদী হাসান (চট্টগ্রাম রয়্যালস), তানভীর ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস), নাজমুল হোসেন শান্ত (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) ও তানজিদ হাসান তামিম (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স)।
সরাসরি চুক্তিতে বিদেশি ক্রিকেটার
অ্যালেক্স হেলস (ঢাকা ক্যাপিটালস), উসমান খান (ঢাকা ক্যাপিটালস), আহমেদ আবরার (চিটাগং রয়্যালস), মোহাম্মদ নওয়াজ (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), শাহিবজাদা ফারহান (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), খাজা নাফি (রংপুর রাইডার্স), শাফিয়ান মুকিম (রংপুর রাইডার্স), সাইম আইয়ুব (সিলেট টাইটান্স), মোহাম্মদ আমির (সিলেট টাইটান্স), কুশল মেন্ডিস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) ও জনসন চার্লস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস)।
স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্রয়সীমা
সর্বনিম্ন ১৪ জন স্থানীয় ক্রিকেটার ফ্রাঞ্চাইজিতে থাকতেই হবে। সর্বোচ্চ ১৬ জন স্থানীয় ক্রিকেটার রাখা হবে। সরাসরি সাইন করা বাদে দলগুলো স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য খরচ করতে পারবে সাড়ে চার কোটি টাকা। নিলাম থেকে অন্তত ১২ জন খেলোয়াড়কে কিনতেই হবে।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা নিয়মও আছে। এ এবং বি ক্যাটাগরি থেকে ২ জন স্থানীয় ক্রিকেটার থাকতেই হবে। সি এবং ডি ক্যাটাগরির খেলোয়াড় থাকতে হবে ৬ জন। ই এবং এফ ক্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড় থাকতে হবে ৪ জন।
বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য পৃথক নিময়
যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো বিদেশি ক্রিকেটার রেজিস্ট্রি করে বিপিএলে অংশ নিতে পারবে। নিলাম থেকে দলগুলোকে অন্তত ২ জন বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে হবে। সরাসরি সাইন করা খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক মিলিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করতে পারবে।
পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশনা
খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা দিয়েছে বিসিবি। মাঠে নামার আগেই ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন ক্রিকেটাররা। আরো ৫০ শতাংশ টাকা পেয়ে যাবেন ফাইনাল লিগ খেলার আগে এবং বাকি ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন টুর্নামেন্ট শেষ হবার ৩০ দিনের মধ্যে।
পরবর্তী আসরের জন্য..
বিপিএলের পরের আসরে যারা অংশগ্রহণ করবে তারা স্কোয়াড থেকে দুজন খেলোয়াড়কে রিটেইন করতে পারবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। নতুন করে যদি কোনো দল আসে তারা আগেভাগেই সরাসরি সাইনে দল বাছাই করতে পারবে।
নিলাম পরিচালনা করবেন
বিপিএলে নিলাম পরিচালনা করবেন রাফে নিজাম। এর আগেও তিনি বিপিএলে কাজ করেছেন।
ঢাকা/ইয়াসিন