দায় অস্বীকার করিনি, কিন্তু প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিয়েছে? প্রশ্ন যুবদল সভাপতির
Published: 12th, July 2025 GMT
পুরোনো ঢাকার মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় পরিবারের দেওয়া তিন আসামির নাম বাদ দিয়ে নতুন তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। এ সময় তিনি জানতে চান, কোনো ঘটনা ঘটলে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক বছরে হাজারো নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে কিন্তু প্রশাসন কি তাদের বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে?
শনিবার (১২ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।
আবদুল মোনায়েম মুন্না অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আমরা জানতে চাই, কারা, কী উদ্দেশ্যে তিন আসামিকে বাদ দিয়ে নতুন করে অন্য তিনজনকে আসামি করল?’’
দুই দিন আগের ঘটনা কেন শুক্রবার প্রচার হলো, এর পেছনে কারা জড়িত, সেটিও খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লাল চাঁদের বড় বোনের মেয়ে বীথি আক্তারের বরাত দিয়ে যুবদল সভাপতি বলেন, ‘‘পরিবার জানিয়েছে, তারা আসামি হিসেবে নাম দিয়েছে এমন তিনজনকে মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, তাদের মামলার প্রধান আসামি করা হয়নি। এর কারণ বোধগম্য নয়।’’
একটি সুযোগসন্ধানী বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিলেকটিভ প্রতিবাদ করে বিএনপির বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘‘গতকাল খুলনায় যুবদলের বহিষ্কৃত একজন নেতাকে গুলি করে ও রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা জাতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ লক্ষ করা যাচ্ছে না। চাঁদপুরে খুতবা দেওয়ার সময় একজন ইমামের ওপর নারকীয় কায়দায় প্রাণনাশের লক্ষ্যে হামলা করা হয়েছে। রগ কেটে হত্যা করা একটি বিশেষ সংগঠনের দীর্ঘদিনের সহিংস রাজনৈতিক চর্চার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গতকালের দুটো ঘটনায় তারা জড়িত ছিল।’’
বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘‘আমরা দায় অস্বীকার করিনি। কোনো ঘটনা ঘটলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। গতকাল ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে হাজারো নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছি। কিন্তু প্রশাসন কি তাদের বিষয়ে যথাযথ আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে?’’ জানতে চান যুবদল সভাপতি।
ঢাকা/তারা//
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব যবস থ ক র কর
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগেতারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগেমহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে