উইন্ডোজ ১১ থেকে বিদায় নিচ্ছে ৪০ বছরের পুরোনো ‘ব্লু স্ক্রিন অব ডেথ’ পর্দা
Published: 12th, July 2025 GMT
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ চালুর সময় কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে মনিটরের পর্দায় ভেসে উঠে নীল রঙের ‘ব্লু স্ক্রিন অব ডেথ’ (বিএসওডি) পর্দা। পর্দায় থাকা কোডের মাধ্যমে উইন্ডোজ জানিয়ে দেয় কোন কোন সমস্যার কারণে কম্পিউটার চালু হচ্ছে না। চার দশক আগে চালু হওয়া পরিচিত এই নীল পর্দা আর দেখা যাবে না উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটার ও ল্যাপটপে। তার বদলে দেখা যাবে কালো রঙের নতুন নকশার পর্দা।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, নতুন পর্দাটি উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমের ‘রিলিজ প্রিভিউ’ চ্যানেলের ব্যবহারকারীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এটি সব ব্যবহারকারীর জন্য চালু হবে। উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটারের পর্দায় আগের মতো বিরক্ত মুখের ইমোজি বা কিউআর কোডের বদলে দেখা যাবে কারিগরি ত্রুটির সংক্ষিপ্ত তথ্য। এর ফলে সমস্যার উৎস বুঝতে সময় কম লাগবে এবং দ্রুত সমাধান করা যাবে।
মাইক্রোসফটের তথ্যমতে, শুধু ব্লু স্ক্রিন অব ডেথ পর্দার রং পরিবর্তনই নয়, উইন্ডোজের ত্রুটি ব্যবস্থাপনায় ‘কুইক মেশিন রিকভারি’ সুবিধাও যুক্ত করা হবে। এর ফলে অপারেটিং সিস্টেম চালু হতে ব্যর্থ হলে উইন্ডোজের ‘রিকভারি এনভায়রনমেন্ট’–এর মাধ্যমে ত্রুটি সমাধানের চেষ্টা করবে সুবিধাটি। ‘উইন্ডোজ রেজিলিয়েন্স ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো উইন্ডোজকে আরও স্থিতিশীল, নির্ভরযোগ্য ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা।
উল্লেখ্য, গত বছর সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইকের একটি ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যার হালনাগাদের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক উইন্ডোজ কম্পিউটার অচল হয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ত্রুটি নির্ণয়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে কাজ শুরু করে মাইক্রোসফট। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, নতুন এই পর্দা ও কিউএমআর প্রযুক্তি ‘উইন্ডোজ ১১ ২৪এইচ২’ সংস্করণের অংশ হিসেবে এ বছরের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে গতকাল শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বৈশ্বিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ হয়। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই বিক্ষোভ হলো।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এ পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গতকাল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রধান সড়কগুলোতে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘গাজা, গাজা; প্যারিস তোমার সঙ্গে আছে’ এবং ‘প্যারিস থেকে গাজা, প্রতিরোধ’ স্লোগান দেন। তাঁরা ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে ইসরায়েলি ‘জাতিহত্যার’ নিন্দা জানান।
এক বিক্ষোভকারী আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখনো ন্যায়বিচার বা জবাবদিহি থেকে অনেক দূরে।’
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি, এটি (ইসরায়েলের যুদ্ধ) খারাপ। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা কেন এটি বুঝতে পারেন না?’
ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যান তুয়াইলোঁ বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাত সপ্তাহ পরেও কোনো কিছুরই সমাধান হয়নি।
প্রায় ৮০টি বেসরকারি সংস্থা, ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দল এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এগুলোর একটি ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রধান তুয়াইলোঁ যুদ্ধবিরতিকে ‘শুভংকরের ফাঁকি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক লাখ মানুষ এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ‘অপরাধের’ জবাবদিহি দাবি করেন। অবরুদ্ধ গাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষার দাবি জানান।
ইতালিতে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের নেতাদের নেতৃত্বে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
দেশটির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত মূল বিক্ষোভ সমাবেশে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ফ্রানচেসকা আলবানিজ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন।
আরও পড়ুনগাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ, লন্ডনে ৫০০ গ্রেপ্তার০৫ অক্টোবর ২০২৫আলবানিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিহত্যা চালাচ্ছে।
এ ছাড়া জেনেভা, লিসবনসহ ইউরোপের অন্যান্য শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৮৯ জন। এই সময়ে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
আরও পড়ুনগাজায় ইসরায়েলের হামলা চলছেই, নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭০ হাজার৬ ঘণ্টা আগেজাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যা, পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার বাস্তুচ্যুত করা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় এখনো জাতিহত্যা চালাচ্ছে। নতুন করে হামলা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
আরও পড়ুনগাজায় নিহতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হতে পারে: জার্মানির শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য২৬ নভেম্বর ২০২৫