প্রধান বা বিশেষ অতিথি আর বইলেন না, এগুলো জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে: রিজওয়ানা হাসান
Published: 12th, July 2025 GMT
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘জনগণের সঙ্গে প্রশাসকদের মনস্তাত্ত্বিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক দূরত্ব টিকিয়ে রেখে সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে না। সরকারি বা বেসরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি এগুলো আর বইলেন না। আমরা যখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপে যাই, তখন তাঁরা এগুলো বলেন না। সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতিকে তাঁরা ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট; বলেন। এই বিশেষণগুলো আমাদের একটি অন্য গ্রহে নিয়ে যায়। জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে। এই দূরত্বটা আমাদের অবশ্যই কাটিয়ে আসতে হবে।’
আজ শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকার সাভার উপজেলা চত্বরে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ঢাকা জেলার পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে ‘বেটার ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট ইনিশিয়েটিভস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এ ছাড়া সাভার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ শনিবার এক দিনে বিভিন্ন প্রজাতির এক লাখ গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ যাঁরা গরমের মধ্যে এখানে বসে আছেন, একটি গাছ লাগানোর জন্য। আমি নই, তাঁরাই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।’
রিজওয়ানা হাসান জানান, একটি দেশ গত ৫৩-৫৪ বছর একইভাবে চলে এসেছে, সেটি মাত্র দেড়-দুই বছরে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায় না। তবে পরিবর্তনটা শুরু হয়েছে। মানুষ এখন আর অন্যায় সহজে মেনে নিচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় জনগণ সংগঠিত হয়ে প্রতিবাদের ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছে কোনো ধরনের অপশাসনের চেষ্টা তারা মেনে নেবে না।
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ধর্মেও গাছ রোপণের কথা বলা হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত গাছ না কেটে উন্নয়ন করা যায়, সে পর্যন্ত ভাবতে হবে। আর একটি গাছ কাটা হলে বিপরীতে তিনটি গাছ লাগাতে হবে। নদী ও পরিবেশদূষণ রোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকার তখনই ব্যর্থ হয়, যখন জনগণও ব্যর্থ হয়। সরকারের ব্যর্থতা মানে জনগণেরও ব্যর্থতা, জনগণের ব্যর্থতা মানে সরকারেরও ব্যর্থতা।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও প্রধান বক্তা হিসেবে সাভার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুবকর সরকার উপস্থিত ছিলেন।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: অন ষ ঠ ন র জওয় ন জনগণ র সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছি : সাখাওয়াত
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থাপিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির অন্যতম দফা হলো স্বাস্থ্যসেবা। এই স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, “আগামী দিনে যদি জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে, তাহলে স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ সংস্কার করা হবে। প্রতিটি পরিবারের প্রধানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি করে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের সব সদস্য বিনামূল্যে চিকিৎসা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করতে পারবেন। নির্ধারিত যে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে। এভাবেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে।”
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের মিশনপাড়া হোসিয়ারি কমিউনিটি কেন্দ্রের সামনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত “সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প”-এর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সাখাওয়াত আরও বলেন, “বাংলাদেশের অনেক মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে যায়। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। জনগণের এই কষ্ট কমাতে এবং দেশের টাকা দেশে রাখতেই বিএনপি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে। উন্নত দেশের মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে সব ধরনের রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পে আগত সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের সুযোগ পান। সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে চলমান থাকবে।
অনুষ্ঠানৈ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডাঃ মজিবুর রহমান, বরকত উল্লাহ, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, মহানগর ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল আরিফ, ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরা সরদার, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ রানা, ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন, সহ সাধারণ সম্পাদক মাসুম, ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান চুন্নু সাউদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল হোসেন, সদস্য আব্দুর রশিদ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাজাদা আলম রতন, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন, মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ শিবলী, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুলতানাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন নেতৃবৃন্দ।