নকআউট পর্বের শেষ পাঁচটি ম্যাচের সবগুলোতেই জিতেছে। স্নায়ুর লড়াইয়ের তারা এতটাই সাবলীল যে ওই ম্যাচগুলোতে ১৮টি গোল দিয়েছে প্রতিপক্ষের জালে, নিজেদের গোলপোস্ট অক্ষত রেখেই! তাই আজ ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে হারানোর সাধ্য কি আছে চেলসির?
অপটার ইঙ্গিত বিশ্বমুকুট পরার অপেক্ষায় প্যারিসের দলটি। ৬৪.
৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতোই দুটি ইউরোপিয়ান দল ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে এবং প্রথমবারের মতোই ফ্রান্সের কোনো ক্লাব বড় কোনো আসরে ইংলিশ ক্লাবের সামনে পড়েছে। তবে এসব অনেক ‘প্রথম’কেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিয়েছে দেম্বেলে, দুয়োদের ক্লাব। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তারা ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে ৫ গোল দিয়েছে। লিগ ওয়ান, কোপ দি ফ্রান্স জয়ের পর এই মৌসুমে চতুর্থ শিরোপা জয়ের কাছাকাছি পিএসজি। লুইস এনরিকের পিএসজি এই মুহূর্তে যে ফর্মে রয়েছে, তাতে ফাইনালে আজও গোলবন্যা হতে পারে। বিশেষ করে, আগের ম্যাচেই তারা যেভাবে রিয়াল মাদ্রিদকে অসহায় বানিয়ে দিয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে ক্লাব বিশ্বকাপে গত তিন ম্যাচে ১০ গোল দিয়েছে তারা। এই আসরে একবারই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন আশরাফ হাকিমিরা। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব বোটাফিগোর কাছে একটি ম্যাচ হেরে গিয়েছিলেন। তবে ফাইনালের পথে তারা মেসির মায়ামি, হ্যারি কেনদের বায়ার্ন মিউনিখ, সিমিওনের অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছেন। ভারী ভারী নামের এই তালিকায় আজকের চেলসি বেশ সহজ প্রতিপক্ষ বলা যায়। তার পরও ফাইনাল বলে কথা, আক্রমণাত্মক কৌশল থেকে নিশ্চয়ই আজ সরে আসবেন না পিএসজির স্প্যানিশ কোচ। ৪-৩-৩ ফরমেশনে আক্রমণ ভাগে কাভারতাস্খেলিয়া, দেম্বেলে আর দুয়েকে দিয়েই শুরুর একাদশ সাজাবে পিএসজি। তাদের দুর্দান্ত মাঝমাঠে থাকবেন রুইজ, ভিতিনহা আর ফার্নান্দেজ। গোলপোস্টের চেনা সেনানী দেন্নারোমা।
চেলসির কোচ এঞ্জো মারেসকা অবশ্য কিছুটা রক্ষণাত্মক ৪-২-৩-১ ফরমেশনে মাঠ সাজাতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের সামনে তাঁর ভরসা ইংলিশ স্ট্রাইকার লিয়াম দিলাপ। রক্ষণে দেয়াল তাঁর কুক্কুরেলা, কোলউইল, চালোভা আর গুস্তোকে নিয়ে। ক্লাব বিশ্বকাপে ফাইনালে আসার পথে ইউরোপিয়ান ক্লাবের চেয়ে বেশি ব্রাজিলিয়ান দলকে হারিয়ে এসেছে চেলসি। পালমেইরাস, ফ্লুমেনেন্সিকে হারানোর আত্মবিশ্বাস দিয়েই আজ তাদের লড়তে হবে প্যারিসের দুর্দান্ত দলটির সঙ্গে।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ক ল ব ব শ বক প চ লস প এসজ ক ল ব ব শ বক প প এসজ র চ লস র ফ ইন ল
এছাড়াও পড়ুন:
এক আর্জেন্টাইনের হ্যাটট্রিকে মেসিদের বড় জয়, প্রথমবার কাপ ফাইনালে ইন্টার মায়ামি
ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ ফাইনালে উঠেছে ইন্টার মায়ামি। আজ প্লে-অফের ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল মেসির দল।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ লিগে ৩০টি দল ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সে ভাগ হয়ে খেলে। দুই অংশের চ্যাম্পিয়নরা খেলে এমএলএস কাপ ফাইনাল। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মায়ামি এর আগে তিনবার প্লে-অফে খেললেও কনফারেন্স সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। এবার সেমি ও ফাইনাল জিতে নাম লিখিয়েছে কাপ ফাইনালেই।
চেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আজকের কনফারেন্স ফাইনালে মায়ামি জিতেছে তাদেও আলেন্দের নৈপুণ্যে। ২৬ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন হ্যাটট্রিক করেছেন। একটি গোল করেছেন আরেক আর্জেন্টাইন মাতেও সিলভেত্তি। অন্য গোলটি তালেসকো সেগোভিয়ার। মেসি তাঁর রোজারিওর ছেলে সিলভেত্তির গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন।
আর্জেন্টাইনময় ম্যাচটিতে আলেন্দে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ১৪তম মিনিটে। এই গোলে অ্যাসিস্ট ছিল আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পলের। ২৪তম মিনিটে আলেন্দে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন হেডে, তাঁকে বক্সে দুর্দান্ত এক ক্রস দেন জর্দি আলবা। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে নিউইয়র্ক সিটির জাস্টিন হাক এক গোল শোধ করে দিলে মায়ামি বিরতিতে যায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।
৬৭তম মিনিটে মেসি বক্সের মধ্যে ঘেরাওয়ে পড়লে বল বাড়ান ফাঁকায় থাকা সিলভেত্তির দিকে। ১৯ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বল জালে জালে পাঠাতে ভুল করেননি। মায়ামি জয়ের বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হয় ৮৩তম মিনিটে।
এ সময় বক্সের ভেতর আলবার ব্যাক পাস পেয়ে সেগোভিয়া গোল করে ব্যবধান ৪-১ করে ফেলেন। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ইয়ানিক ব্রাইটের সহায়তায় নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আলেন্দে। মায়ামি মাঠ ছাড়ে ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়ে।
আগামী ৬ ডিসেম্বর এমএলএস কাপ ফাইনালে মায়ামি খেলবে ওয়েস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে সান ডিয়েগো ও ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের মধ্যকার জয়ী দলের বিপক্ষে।