অ্যাপল থেকে টিম কুকের বিদায়ের গুঞ্জন, কে হবেন নতুন সিইও
Published: 10th, October 2025 GMT
অ্যাপল কম্পিউটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের পর ২০১১ সাল থেকে অ্যাপলকে বেশ ভালোভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিম কুক। তাঁর নেতৃত্বেই অ্যাপল প্রায় চার লাখ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নিত্যনতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনেও পিছিয়ে নেই প্রতিষ্ঠানটি। এ বছর টিম কুক ৬৫ বছরে পা দেবেন। ৬৫তম জন্মদিন ঘনিয়ে আসতেই টিম কুক অ্যাপলের দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে প্রযুক্তিবিশ্বে। শুধু তা–ই নয়, পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে হবেন, তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অ্যাপলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিক কুকের কোনো উত্তরসূরির নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে টিক কুকের কোনো উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাপলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহীর নাম নিয়ে আলোচনায় হচ্ছে প্রযুক্তিবিশ্বে।
দীর্ঘদিন ধরেই টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে অ্যাপলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) জেফ উইলিয়ামসকে। প্রায় এক দশক ধরে কুকের অন্যতম সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার নেতৃত্বেই অ্যাপল ওয়াচ বাজারে বিপুল সাফল্য পেয়েছে। তবে ৬২ বছর বয়সী উইলিয়ামস গত জুলাইয়ে ঘোষণা দেন, আগামী বছর তিনি অবসর নেবেন। ফলে অ্যাপলের ভেতরে হঠাৎ করেই এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক মার্ক গুরম্যানের ধারণা, অ্যাপলের পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার দৌড়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন প্রতিষ্ঠানটির হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টারনাস। ২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেওয়া টারনাস দুই দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটির বাজারে আনা প্রায় প্রতিটি বড় পণ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। ৫০ বছর বয়সী টারনাস বর্তমানে অ্যাপলের চিপ তৈরির প্রকল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বয়স ও অভিজ্ঞতার এই মিশ্রণ টারনাসকে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার জন্য আদর্শ প্রার্থী করে তুলেছে। সম্প্রতি অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উদ্যোগ ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন নতুন করে হার্ডওয়্যার কেন্দ্রিক উদ্ভাবনে মনোযোগ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি অ্যাপলের পরবর্তী নেতৃত্বে দিতে পারেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে টারনাসই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার দৌড়ে টারনাস সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রেইগ ফেডেরিগি। ২০০৯ সাল থেকে অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত ফেডেরিগি নিয়মিতভাবে পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন এবং প্রযুক্তিবিষয়ক উপস্থাপনায় তিনি পরিচিত মুখ।
এ ছাড়া অ্যাপলের বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেগ জসউইয়াকও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৯৮৭ সাল থেকে অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত জসউইয়াক আইফোন ও আইপ্যাড উন্মোচনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যদিও তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কৌশলগত দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থাকায় তাকে অনেকেই টিম কুকের বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: ডেইলি মেইল
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: অ য পল র প কর মকর ত ট রন স
এছাড়াও পড়ুন:
বিপিএল নিলাম আজ, যা যা জানা প্রয়োজন
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১২তম আসরের খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া ‘প্লেয়ার্স অকশন’ বা খেলোয়াড় নিলাম আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। ছয় ফ্রাঞ্চাইজিদের নিয়ে হবে বিপিএলের পরবর্তী আসরের খেলোয়াড় নিলাম।
এই প্রক্রিয়া আগে ছিল, প্লেয়ার্স ড্রাফট। প্লেয়ার্স ড্রাফট ছিল অনেকটাই ভাগ্যের পরীক্ষা। সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করতো ভাগ্যের ওপর। নতুন করে বিপিএল শুরুর অপেক্ষায় থাকা বিপিএলে তাই পুরোনো দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বাদ। ড্রাফট বাদ দিয়ে নিলামের মাধ্যমে দল গোছানোর সুযোগ পাচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজিরা। সেখানে অবশ্য নির্দিষ্ট সীমানা ঠিক করে দিয়েছে বিসিবি।
নিলামের আগে যা যা জানা প্রয়োজন এক নজরে তা দেখে নেওয়া যাক,
নিলাম কবে, কখন, কোথায়:
৩০ নভেম্বর, বিকেল ৪টা, হোটেল র্যাডিসন
নিলামে অংশগ্রহণ করবে কারা:
ঢাকা ক্যাপিটালস, সিলেট টাইটান্স, রংপুর রাইডার্স, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
নিলামে কত ক্রিকেটার
বিসিবির পাঠানো চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা থেকে জানা গেছে, নিলামে উঠবেন ১৪৭ স্থানীয় ক্রিকেটার। বিদেশি ক্রিকেটার আছেন ২৬০ জন।
ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য
স্থানীয় ১৪৭ ও বিদেশি ২৬০ ক্রিকেটারের জন্য আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি এবং আলাদা আলাদা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দিয়েছে বিসিবি। স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য পারিশ্রমিকের ছয়টি ক্যাটাগরি করেছে বোর্ড। এ ক্যাটাগরির পারিশ্রমিক ৫০ লাখ। এরপর যথাক্রমে ৩৫, ২২, ১৮, ১৪ ও ১১ লাখ। বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য পাঁচটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ৩৫ হাজার ডলার। এরপর রয়েছে বি, সি, ডি এবং ই। পারিশ্রমিক যথাক্রমে ২৫, ২০, ১৫ ও ১০ হাজার ডলার।
কীভাবে হবে নিলাম
স্থানীয় ক্রিকেটারদের এ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকে মূল্য বাড়ানো যাবে ৫ লাখ টাকা। বি ক্যাটাগরির প্রতিটি ডাক মূল্য ৩ লাখ টাকা। এরপর সি ক্যাটাগরিতে ১ লাখ, ডি-ই-এফ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকের মূল্যা ৫০ হাজার টাকা। বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুসারে যথাক্রমে প্রতি ডাকে বাড়বে ৫ হাজার ডলার, ৩ হাজার ডলার, ২ হাজার ডলার, ১ হাজার ৫০০ ডলার এবং ১ হাজার ডলার।
সরাসরি চুক্তিতে স্থানীয় ক্রিকেটার
মেহেদী হাসান মিরাজ (সিলেট টাইটান্স), নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স), মোস্তাফিজুর রহমান (রংপুর রাইডার্স), নুরুল হাসান সোহান (রংপুর রাইডার্স), তাসকিন আহমেদ (ঢাকা ক্যাপিটালস), সাইফ হাসান (ঢাকা ক্যাপিটালস), হাসান মাহমুদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), সৌম্য সরকার (নোয়াখালী এক্সপ্রেস), শেখ মেহেদী হাসান (চট্টগ্রাম রয়্যালস), তানভীর ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস), নাজমুল হোসেন শান্ত (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) ও তানজিদ হাসান তামিম (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স)।
সরাসরি চুক্তিতে বিদেশি ক্রিকেটার
অ্যালেক্স হেলস (ঢাকা ক্যাপিটালস), উসমান খান (ঢাকা ক্যাপিটালস), আহমেদ আবরার (চিটাগং রয়্যালস), মোহাম্মদ নওয়াজ (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), শাহিবজাদা ফারহান (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), খাজা নাফি (রংপুর রাইডার্স), শাফিয়ান মুকিম (রংপুর রাইডার্স), সাইম আইয়ুব (সিলেট টাইটান্স), মোহাম্মদ আমির (সিলেট টাইটান্স), কুশল মেন্ডিস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) ও জনসন চার্লস (নোয়াখালী এক্সপ্রেস)।
স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্রয়সীমা
সর্বনিম্ন ১৪ জন স্থানীয় ক্রিকেটার ফ্রাঞ্চাইজিতে থাকতেই হবে। সর্বোচ্চ ১৬ জন স্থানীয় ক্রিকেটার রাখা হবে। সরাসরি সাইন করা বাদে দলগুলো স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য খরচ করতে পারবে সাড়ে চার কোটি টাকা। নিলাম থেকে অন্তত ১২ জন খেলোয়াড়কে কিনতেই হবে।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা নিয়মও আছে। এ এবং বি ক্যাটাগরি থেকে ২ জন স্থানীয় ক্রিকেটার থাকতেই হবে। সি এবং ডি ক্যাটাগরির খেলোয়াড় থাকতে হবে ৬ জন। ই এবং এফ ক্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড় থাকতে হবে ৪ জন।
বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য পৃথক নিময়
যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো বিদেশি ক্রিকেটার রেজিস্ট্রি করে বিপিএলে অংশ নিতে পারবে। নিলাম থেকে দলগুলোকে অন্তত ২ জন বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে হবে। সরাসরি সাইন করা খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক মিলিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করতে পারবে।
পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশনা
খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা দিয়েছে বিসিবি। মাঠে নামার আগেই ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন ক্রিকেটাররা। আরো ৫০ শতাংশ টাকা পেয়ে যাবেন ফাইনাল লিগ খেলার আগে এবং বাকি ২৫ শতাংশ টাকা পাবেন টুর্নামেন্ট শেষ হবার ৩০ দিনের মধ্যে।
পরবর্তী আসরের জন্য..
বিপিএলের পরের আসরে যারা অংশগ্রহণ করবে তারা স্কোয়াড থেকে দুজন খেলোয়াড়কে রিটেইন করতে পারবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। নতুন করে যদি কোনো দল আসে তারা আগেভাগেই সরাসরি সাইনে দল বাছাই করতে পারবে।
নিলাম পরিচালনা করবেন
বিপিএলে নিলাম পরিচালনা করবেন রাফে নিজাম। এর আগেও তিনি বিপিএলে কাজ করেছেন।
ঢাকা/ইয়াসিন