বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ‘তথ্যবিশেষজ্ঞ’ পদে জনবল নিয়োগ দেবে। কক্সবাজারের ফিল্ড হাসপাতাল এলাকায় এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশের সবচেয়ে বড় মানবিক সংগঠন বিডিআরসিএস ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বর্তমানে সংস্থাটি জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থার সহযোগিতায় কক্সবাজারে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও মানসিক সহায়তা প্রকল্প পরিচালনা করছে।

এই প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত তথ্যবিশেষজ্ঞ এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স সেন্টারের (ইপিআরসি) অধীনে মহামারি-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং জনস্বাস্থ্য বার্তা প্রচারের দায়িত্বে থাকবেন।

আরও পড়ুনএআই বাড়াচ্ছে কাজের চাপ, চীনের ‘৯৯৬’ সংস্কৃতি কি ফিরছে৭ ঘণ্টা আগে

প্রার্থীর তথ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য বা যোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তথ্য ব্যবস্থাপনা বা জনস্বাস্থ্য যোগাযোগে অন্তত ৪ থেকে ৬ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

আরও পড়ুন এ সপ্তাহে (৩ থেকে ৯ অক্টোবর) দেখে নিন সেরা ১০ সরকারি চাকরি১০ অক্টোবর ২০২৫

চুক্তিভিত্তিক এই পদে মাসিক বেতন ৮৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে, কর্মদক্ষতা ও অর্থের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

একনজরে

সংস্থা: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

পদ: তথ্যবিশেষজ্ঞ

কর্মস্থল: ফিল্ড হাসপাতাল, কক্সবাজার

বেতন: ৮৫,০০০-৯০,০০০ টাকা

চুক্তির মেয়াদ: প্রাথমিকভাবে এক বছর (নবায়নযোগ্য)

বয়সসীমা: ৪০ বছর

শিক্ষাগত যোগ্যতা: তথ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য বা যোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর

অভিজ্ঞতা: ৪-৬ বছর

আবেদন: https://hotjobs.

bdjobs.com/jobs/bdrcs/bdrcs557.htm

আরও পড়ুনবাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে চাকরি, নবমসহ বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগ১১ অক্টোবর ২০২৫

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: জনস ব স থ য

এছাড়াও পড়ুন:

গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে গতকাল শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বৈশ্বিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ হয়। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই বিক্ষোভ হলো।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এ পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

গতকাল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রধান সড়কগুলোতে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘গাজা, গাজা; প্যারিস তোমার সঙ্গে আছে’ এবং ‘প্যারিস থেকে গাজা, প্রতিরোধ’ স্লোগান দেন। তাঁরা ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে ইসরায়েলি ‘জাতিহত্যার’ নিন্দা জানান।

এক বিক্ষোভকারী আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখনো ন্যায়বিচার বা জবাবদিহি থেকে অনেক দূরে।’

আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি, এটি (ইসরায়েলের যুদ্ধ) খারাপ। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা কেন এটি বুঝতে পারেন না?’

ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যান তুয়াইলোঁ বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাত সপ্তাহ পরেও কোনো কিছুরই সমাধান হয়নি।

প্রায় ৮০টি বেসরকারি সংস্থা, ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দল এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এগুলোর একটি ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রধান তুয়াইলোঁ যুদ্ধবিরতিকে ‘শুভংকরের ফাঁকি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক লাখ মানুষ এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ‘অপরাধের’ জবাবদিহি দাবি করেন। অবরুদ্ধ গাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষার দাবি জানান।

ইতালিতে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের নেতাদের নেতৃত্বে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

দেশটির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত মূল বিক্ষোভ সমাবেশে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টার ফ্রানচেসকা আলবানিজ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন।

আরও পড়ুনগাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ, লন্ডনে ৫০০ গ্রেপ্তার০৫ অক্টোবর ২০২৫

আলবানিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিহত্যা চালাচ্ছে।

এ ছাড়া জেনেভা, লিসবনসহ ইউরোপের অন্যান্য শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৮৯ জন। এই সময়ে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

আরও পড়ুনগাজায় ইসরায়েলের হামলা চলছেই, নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭০ হাজার৬ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যা, পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার বাস্তুচ্যুত করা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় এখনো জাতিহত্যা চালাচ্ছে। নতুন করে হামলা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

আরও পড়ুনগাজায় নিহতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হতে পারে: জার্মানির শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য২৬ নভেম্বর ২০২৫

সম্পর্কিত নিবন্ধ