দৈনিক ১২ ঘণ্টা, সপ্তাহে ছয় দিন কাজের দিকেই কি যাচ্ছে যুক্তরাজ্য
Published: 13th, October 2025 GMT
একজন মানুষের দৈনিক কতক্ষণ বা সপ্তাহে কত ঘণ্টা কাজ করা উচিত? আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নীতি অনুযায়ী সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা। ওভারটাইমসহ তা হতে পারে সর্বোচ্চ ৬০ ঘণ্টা। কিন্তু কেমন হয় যদি দৈনিক ১২ ঘণ্টা করে সপ্তাহে ৭২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়? কাজের এমন নীতি আগে বহাল ছিল এবং তা হয়তো আবারও ফিরে আসছে। জানা যাক এই ’৯৯৬’ কর্মসংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা সম্পর্কে।
‘৯৯৬’ কী?
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা, সপ্তাহে ৬ দিন কাজ; এটিই পরিচিত ‘৯৯৬’ হিসেবে। ২০১০ সালের দিকে চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু হওয়া এই ‘৯৯৬’ কর্মসংস্কৃতি সব সময়ই ছিল বিতর্কিত। ২০১৯ সালে গিটহাবের মাধ্যমে ‘অ্যান্টি-৯৯৬’ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর, চীনের প্রযুক্তি খাতে এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। ২০২১ সালে চীনের সর্বোচ্চ আদালত ৯৯৬ সংস্কৃতিকে অবৈধ ঘোষণা করলেও বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো এই সংস্কৃতি অনুসরণ করে। এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালিতে। এখন প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাজ্য কি এর কবলে পড়তে পারে?
আরও পড়ুনবাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে চাকরি, নবমসহ বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগ১১ অক্টোবর ২০২৫যুক্তরাষ্ট্রে স্বচ্ছতার সঙ্গে গ্রহণ
যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম আইন অনেকটাই নিয়োগকর্তার নিয়ন্ত্রণে। ফলে সেখানে ৯৯৬ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নতুন এআই ও টেলিহেলথ স্টার্টআপগুলোয় কমপক্ষে ৭০ ঘণ্টার কাজ প্রত্যাশা করা হয়। কেউ যদি স্বেচ্ছায় আরও বেশি সময় দিতে রাজি হন, তাঁদের জন্য বেতন ও শেয়ার বৃদ্ধি করা হয়।
আরও পড়ুনবাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৯৬তম বিএমএ কোর্স, আবেদনের সুযোগ যাদের০৯ অক্টোবর ২০২৫আইনি ফাঁক ও উদ্যোক্তাদের প্ররোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কোনো কর্মঘণ্টার বৈধ সীমা নেই। ২০২২ সালে ইলন মাস্ক টুইটার কর্মীদের জানিয়েছিলেন, ‘চরম কঠোর’ কর্মসংস্কৃতিতে অংশ নিতে হবে। এর পর থেকে কিছু ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা ৯৯৬ ধারার কাজকে ‘বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার একমাত্র উপায়’ হিসেবে প্রচার করছেন।
যুক্তরাজ্য যা হতে পারে
ব্রিটেনে সপ্তাহে গড়ে ৪৮ ঘণ্টার সীমা থাকলেও একটি বড় ফাঁক রয়েছে। তা হলো, কর্মীরা স্বেচ্ছায় চুক্তি সই করলে সীমার বাইরে কাজ করতে পারেন। এটি কিছু প্রতিষ্ঠানকে ইউরোপীয় মানদণ্ডের বাইরে যেতে উদ্বুদ্ধ করছে। ইতিমধ্যেই লন্ডনের কিছু স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা সাত দিন কাজের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, বিশ্বের সেরা প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে এটি অপরিহার্য।
আরও পড়ুনএআই বাড়াচ্ছে কাজের চাপ, চীনের ‘৯৯৬’ সংস্কৃতি কি ফিরছে১২ অক্টোবর ২০২৫৯৯৬-এর প্রসার স্পষ্ট করছে যুক্তরাজ্য কি কর্ম ও জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করবে, না সিলিকন ভ্যালির অনুপ্রেরণায় এই ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতি গ্রহণ করবে.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: য ক তর ষ ট র য ক তর জ য
এছাড়াও পড়ুন:
গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে গতকাল শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বৈশ্বিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ হয়। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই বিক্ষোভ হলো।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এ পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গতকাল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রধান সড়কগুলোতে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘গাজা, গাজা; প্যারিস তোমার সঙ্গে আছে’ এবং ‘প্যারিস থেকে গাজা, প্রতিরোধ’ স্লোগান দেন। তাঁরা ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে ইসরায়েলি ‘জাতিহত্যার’ নিন্দা জানান।
এক বিক্ষোভকারী আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখনো ন্যায়বিচার বা জবাবদিহি থেকে অনেক দূরে।’
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি, এটি (ইসরায়েলের যুদ্ধ) খারাপ। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা কেন এটি বুঝতে পারেন না?’
ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যান তুয়াইলোঁ বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাত সপ্তাহ পরেও কোনো কিছুরই সমাধান হয়নি।
প্রায় ৮০টি বেসরকারি সংস্থা, ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দল এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এগুলোর একটি ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রধান তুয়াইলোঁ যুদ্ধবিরতিকে ‘শুভংকরের ফাঁকি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক লাখ মানুষ এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ‘অপরাধের’ জবাবদিহি দাবি করেন। অবরুদ্ধ গাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষার দাবি জানান।
ইতালিতে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের নেতাদের নেতৃত্বে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
দেশটির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত মূল বিক্ষোভ সমাবেশে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ফ্রানচেসকা আলবানিজ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন।
আরও পড়ুনগাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ, লন্ডনে ৫০০ গ্রেপ্তার০৫ অক্টোবর ২০২৫আলবানিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিহত্যা চালাচ্ছে।
এ ছাড়া জেনেভা, লিসবনসহ ইউরোপের অন্যান্য শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৮৯ জন। এই সময়ে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
আরও পড়ুনগাজায় ইসরায়েলের হামলা চলছেই, নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭০ হাজার৬ ঘণ্টা আগেজাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যা, পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার বাস্তুচ্যুত করা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় এখনো জাতিহত্যা চালাচ্ছে। নতুন করে হামলা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
আরও পড়ুনগাজায় নিহতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হতে পারে: জার্মানির শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য২৬ নভেম্বর ২০২৫