ডিপ ফ্রিজ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার: দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যা, ধারণা পুলিশের
Published: 14th, October 2025 GMT
রাজধানীর কলাবাগানে ডিপ ফ্রিজ থেকে তাসলিমা নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার কলাবাগান থানায় নিহত তাসলিমার পরিবার মামলাটি করে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী নজরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকে নজরুল পলাতক।
তবে তাসলিমার পরিবারের দাবি, নজরুল তাঁর শ্বশুরের কাছে ১০ কাঠা জমি চেয়েছিলেন। জমি না পেয়ে তিনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। তাসলিমার বড় ভাই নাজমুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জমি লিখে না দেওয়ায় নজরুল তাঁর বোনকে আগেও নির্যাতন করেছেন।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নজরুল–তাসলিমা দম্পতির বাসার ডিপ ফ্রিজ থেকে তাসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
রাজধানীর কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক প্রথম আলোকে বলেন, তাসলিমার মাথা, চোখের ওপরেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত মনে হচ্ছে, দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। নিহতের পরিবার নজরুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছে। ওই নারীর স্বামী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, এই দম্পতির ১৭ ও ১৪ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। রোববার রাতে দুই মেয়ে আলাদা ঘরে ঘুমিয়েছিল। সকালে নজরুল ইসলাম দুই মেয়েকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলেন, তোমাদের মা আরেকজনের সঙ্গে চলে গেছে। এরপর তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে তাদের ফুফুর (নজরুলের বোন) বাসায় রেখে আসেন। পরে মেয়েরা মাকে ফোনে পায় না, বাবাকেও পায় না। এ নিয়ে সন্দেহ হলে তারা মামাদের বিষয়টি জানায়। পরে তাসলিমার ভাইয়েরা পুলিশকে জানালে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সেই বাসায় গিয়ে ডিপ ফ্রিজের ভেতরে তাসলিমার লাশ পায়।
পুলিশ বলছে, নজরুল এক সময় কাপড়ের ব্যবসা করলেও এখন কিছু করছেন না। একসময় তাঁর আদাবরে বাড়ি ছিল। সেই বাড়ি বিক্রির টাকা ব্যাংকে রেখে লাভের টাকায় তিনি সংসার চালাতেন।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: নজর ল ইসল ম কর ছ ন
এছাড়াও পড়ুন:
গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে গতকাল শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বৈশ্বিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ হয়। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই বিক্ষোভ হলো।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এ পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গতকাল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রধান সড়কগুলোতে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘গাজা, গাজা; প্যারিস তোমার সঙ্গে আছে’ এবং ‘প্যারিস থেকে গাজা, প্রতিরোধ’ স্লোগান দেন। তাঁরা ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে ইসরায়েলি ‘জাতিহত্যার’ নিন্দা জানান।
এক বিক্ষোভকারী আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখনো ন্যায়বিচার বা জবাবদিহি থেকে অনেক দূরে।’
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি, এটি (ইসরায়েলের যুদ্ধ) খারাপ। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা কেন এটি বুঝতে পারেন না?’
ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যান তুয়াইলোঁ বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাত সপ্তাহ পরেও কোনো কিছুরই সমাধান হয়নি।
প্রায় ৮০টি বেসরকারি সংস্থা, ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দল এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এগুলোর একটি ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রধান তুয়াইলোঁ যুদ্ধবিরতিকে ‘শুভংকরের ফাঁকি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক লাখ মানুষ এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ‘অপরাধের’ জবাবদিহি দাবি করেন। অবরুদ্ধ গাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষার দাবি জানান।
ইতালিতে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের নেতাদের নেতৃত্বে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
দেশটির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত মূল বিক্ষোভ সমাবেশে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ফ্রানচেসকা আলবানিজ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন।
আরও পড়ুনগাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ, লন্ডনে ৫০০ গ্রেপ্তার০৫ অক্টোবর ২০২৫আলবানিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিহত্যা চালাচ্ছে।
এ ছাড়া জেনেভা, লিসবনসহ ইউরোপের অন্যান্য শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৮৯ জন। এই সময়ে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
আরও পড়ুনগাজায় ইসরায়েলের হামলা চলছেই, নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭০ হাজার৬ ঘণ্টা আগেজাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যা, পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার বাস্তুচ্যুত করা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় এখনো জাতিহত্যা চালাচ্ছে। নতুন করে হামলা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
আরও পড়ুনগাজায় নিহতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হতে পারে: জার্মানির শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য২৬ নভেম্বর ২০২৫