জয়পুরহাটে দিনদুপুরে চাকরিজীবী দম্পতির বাড়ির তালা ভেঙে টাকা-স্বর্ণালংকার চুরি
Published: 15th, October 2025 GMT
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরশহরে দিনদুপুরে এক চাকরিজীবী দম্পতির বাড়িতে চুরি হয়েছে। চোরেরা ভবনের ছাদ দিয়ে বাসার ভেতরে ঢুকে তিনটি কক্ষের তালা ভেঙে টাকা, স্বর্ণালংকারসহ আট লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনের বেলায় পৌরশহরের তিন নম্বর ওর্য়াডের হাজিপাড়া মহল্লার চুরির এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিউলী পারভীন। তিনি পাশের বদলগাছী উপজেলার ঝাড়ঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁর স্বামী রায়হান উদ্দীন বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুপচাঁচিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের লাইনম্যান।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিউলী পারভীনের স্বামী রায়হান উদ্দীন কর্মস্থলে থাকেন। শিউলি পারভীন বাসায় একা থাকেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাসায় তালা দিয়ে বিদ্যালয়ে যান তিনি। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাসার মূল ফটকের তালা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখেন, তিনটি কক্ষের তালা ভাঙা ও দরজা খোলা আছে। তিনটি ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা। আলমারি ভাঙা। ভেতরে থাকা নগদ ২৪ হাজার টাকা ও পৌনে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নেই।
ভুক্তভোগী শিরিন পারভীন বলেন, ‘সকালে বাসায় তালা দিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। বিকেলে বাসায় ফিরে এসে দেখি তিনটি ঘরের তালা ভাঙা। ঘরের সবকিছু এলোমেলো। আলমারির ড্রয়ার ভাঙা আছে। আলমারি ও ড্রয়ারে থাকা ২৪ হাজার টাকা ও পৌনে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নেই। এ ঘটনায় রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
হাজিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ব্যবসায়ী শাহিনুর ইসলাম বলেন, সম্প্রতি পৌর এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে। চাকরিজীবী দম্পতির বাসায় দিনদুপুরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত তদন্ত ও চোরদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম গতকাল রাত ১০টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি জেলায় মিটিংয়ে ছিলাম। চুরির ঘটনাটি শুনেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: স বর ণ ল ক র এ ঘটন গতক ল
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগেতারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগেমহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে