রাজধানীর  মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে আগুনে পুড়ে যাওয়া রাসায়নিক গুদামের মূল ফটকের তালা ভাঙা হয়েছে। ভেতরে বিষাক্ত ধোঁয়া আছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এই মুহূর্তে ভেতরে প্রবেশ করা বিপজ্জনক বলছে তারা।

আজ বুধবার দুপুরে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. নজমুজ্জামান।

মো. নজমুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আমাদের সেফটি নিয়া কেমিক্যাল স্যুট পরে যে মেইন গেট ছিল মেইন গেটটা খুলে দিছি। তালাটা খুলে ভেতরের অবস্থা আমরা দেখছি যে কী অবস্থায় আছে। প্রচণ্ড ধোঁয়া ভেতরে আছে। এই মুহূর্তে কার্যক্রম চলমান এবং দীর্ঘ সময় লাগবে।’

রাসায়নিক গুদামের ভেতরে এখন অভিযান চালানো সম্ভব না বলে জানান নজমুজ্জামান। ভেতরে পরিস্থিতি নিরাপদ না বলে তিনি জানান। গুদাম তালাবদ্ধ থাকায় আগুন লাগার সময় ভেতরে কেউ ছিল না বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে একটি দল আসবে। বেলা  তিনটার পরে তারা দেখে কী করা যায় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।  অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজদের তালিকার বিষয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।  

পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। রাসায়নিক গুদামে  বিভিন্ন ‘টক্সিক গ্যাস’ তৈরি হয়েছে। এগুলো বাতাসের সঙ্গে মিশে গেছে। এই বিষাক্ত গ্যাসে মানুষ শ্বাস নিলে ত্বক, ফুসফুস ও হার্টের সমস্যা হতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিস আশঙ্কা করছে।  

আরও পড়ুনমিরপুরে আগুন: ১০ জনের লাশ শনাক্তের দাবি স্বজনদের২ ঘণ্টা আগে

মো.

নজমুজ্জামান বলেন, কেমিক্যাল বিষয়টা কিন্তু খুবই বিপজ্জনক। খুবই ডিফিকাল্ট। যে স্টোরেজ যে নীতিমালা আছে সেই নীতিমালা অনুযায়ী রাসায়নিক গুদামজাত না করলে  বিভিন্ন রাসায়নিক একসঙ্গে হয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিস আশঙ্কা করছে।  এ কারণে অগ্নিনির্বাপণের সময় লাগবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

শিয়ালবাড়ির একটি টিনশেড দোতলা রাসায়নিক গুদামে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন লাগে। গুদামে আগুন ধরে বিস্ফোরিত হয়ে পাশের চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চারতলা ভবনের দোতলা ও তিনতলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়। ১০ জনের মরদেহ শনাক্তের দাবি করেছেন স্বজনেরা।

শিয়ালবাড়ির ৩ নম্বর সড়কে টিনশেডের রাসায়নিক গুদাম ও চারতলা ভবনটি অবস্থিত। ভবনটির দোতলায় স্মার্ট প্রিন্টিং নামের একটি কারখানায় টি-শার্ট প্রিন্ট করা হয়। আর তিন ও চারতলায় আরএন ফ্যাশন নামের একটি পোশাক কারখানা আছে।

আরও পড়ুনপায়ে থাকা নূপুর দেখে বোনের লাশ শনাক্তের দাবি৫৪ মিনিট আগে

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: নজম জ জ ম ন চ রতল

এছাড়াও পড়ুন:

লোকজন বিয়ে করছে, আমি একটা প্রেমও করতে পারছি না: শ্রীলেখা

কথা ও কাজে কোনো রাখঢাক করেন না ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। স্পষ্টভাষী হিসেবে তার ‘সুখ্যাতি’ রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে বহু বছর ধরে সিঙ্গেল জীবনযাপন করছেন এই অভিনেত্রী। এবার মজার ছলে প্রেম-বিয়ে নিয়ে আফসোসের কথা জানালেন শ্রীলেখা।   

রবিবার (৩০ নভেম্বর) শ্রীলেখা তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে এ অভিনেত্রী লেখেন, “লোকজন কি সুন্দর বিয়ে করছে, আমি একটা প্রেম পর্যন্ত করে উঠতে পারছি না। সত্যি বুড়ো হয়ে গেলাম।” হ্যাশ ট্যাগে লিখেন, “আমার ভালোবাসার ধর্ম।”  

আরো পড়ুন:

আমার যদি কিছু হয়, তার দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকার নেবে, প্রশ্ন শ্রীলেখার

আমি অর্ধেক মরে বেঁচে আছি: শ্রীলেখা

শ্রীলেখার এ পোস্টে অনেকে মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ রসিকতায় মজেছেন। নীল নাওয়াজ লেখেন, “বয়স! এবার প্রস্তাবের বন্যা বইবে। তুমি শুধু ইনবক্স চেক করতে থাকো। আর আজ সন্ধ্যার মধ্যে কোনো এক নিউজ পোর্টাল খবর করবে—‘প্রেমিক খুঁজছেন শ্রীলেখা মিত্র।” পরামর্শ দিয়ে কৌশিক লেখেন, “প্রেম করতে চাওয়ার কন্ডিশন গুলো একবার বলো, তাহলে দেখবে সেখানেও খরা লেগে যাবে।” সংগীত লেখেন, “বাড়ির সামনে লাইন লেগে যাবে কিন্তু।” 

শ্রীলেখার সংসার ভাঙার পর অনেকের সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে শ্রীলেখার। এর আগে জানিয়েছিলেন, তার সঙ্গে প্রেম করতে হলে শর্তপূরণ করতে হবে। এ তথ্য জানিয়ে শ্রীলেখা মিত্র বলেছিলেন, “যদি কারো সঙ্গে প্রেম হয়, তাহলে প্রথম শর্ত—কুকুর ভালোবাসতে হবে। আমি তো দেখি না কেউ প্রেমেটেমে পড়ছে। কোথায় তারা? আর কুকুর বলতেও আমার কেমন জানি লাগে। ওরা আমার বাচ্চা, নাম ধরে ডাকি।” 

শিলাদিত্য স্যান্যলের সঙ্গে সংসার ভাঙার পর আর বিয়ে করেননি শ্রীলেখা। প্রেম করলেও বিয়ে করতে চান না এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, “প্রেমে পড়তে চাই, প্রেমে পড়ে উঠতে চাই। আমি বিয়ে করতে চাই না। আমার প্রাক্তন, আমি ও আমার মেয়েকে এখনো একটা ইউনিট মনে হয়। এই ইউনিটটা ভাঙতে চাই না।”

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত নিবন্ধ