রাকসু নির্বাচনের ফলাফল সর্বোচ্চ ১৭ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে: নির্বাচন কমিশন
Published: 15th, October 2025 GMT
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এরপর বিকেল পাঁচটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কেন্দ্রীয়ভাবে ফলাফল গণনা শুরু হবে। ১৭টি কেন্দ্রের ফলাফল সর্বোচ্চ ১৭ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে রাকসুর নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনের প্রস্তুতির সবশেষ নিয়ে আজ বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম। পরে নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, তাঁরা আনন্দের সঙ্গে জানাতে চান, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তাঁদের মূল লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। তাই প্রতিটি ধাপে নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে তাঁরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।
এবারের রাকসু নির্বাচনে ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটার ৮৬০ জন প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলে উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি ভোটকেন্দ্রে। কেন্দ্রীয় রাকসুর ২৩টি পদে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ। সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে মোট ৫৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটারের ৩৯ দশমিক ১০ শতাংশ নারী, ৬০ দশমিক ৯০ পুরুষ।
নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ২১২ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৭ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং অবশিষ্ট শিক্ষকেরা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ৯১ জন কর্মকর্তা পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।
রাকসু নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই হাজার পুলিশ সদস্য, ছয় প্লাটুন বিজিবি ও ১২ প্লাটুন র্যাব পুরো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। প্রতিটি ধাপে পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। নির্বাচনপ্রক্রিয়ার প্রতিটি কার্যক্রম সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ভোটগ্রহণে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে। অভিজ্ঞ-বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গণনা ও ফলাফল প্রস্তুত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রশ্নোত্তর
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রাকসুর অন্যতম নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ।
রাকসু নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার মানুষের প্রভাব পড়তে পারে—এমন আলোচনার বিষয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, রাকসু নির্বাচন ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে স্থানীয়দের বিষয়টি নিয়ে তাঁরা যথাযথভাবে প্রশাসনের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার আলোচনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু তার নিজস্ব ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহরে অবস্থিত। এখানকার জনগোষ্ঠী যাঁরা আছেন, তাঁরাও এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সময় সহযোগিতা করেন, সংশ্লিষ্ট থাকেন। ফলে স্থানীয়-অস্থানীয়—এ ধরনের কোনো বিভেদ তাঁরা করছেন না। সবাই এখানে নির্বাচনকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য ইতিবাচকভাবে সহযোগিতা করছেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা প্রসঙ্গে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। এর জবাবে এই অধ্যাপক বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তাঁরাই প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কাজটি শুরু করেছিলেন। যদিও বিশেষ কারণে তাঁরা সবার শেষে নির্বাচন করছেন। তাঁরা মনে করেন না, এতে করে কোনো ক্ষতি হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা, সেগুলো তাঁদের অনেক শিক্ষা দিয়েছে। তাঁরা এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, সতর্ক আছেন। ফলাফল প্রকাশে তাঁরা স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত সময় নেবেন না।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ১৭টি হলের জন্য ১৭টি ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে। ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটারের প্রত্যেকে ছয় পৃষ্ঠার ব্যালটে ভোট দেবেন। তাঁরা হিসাব করে দেখেছেন, সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সাত ঘণ্টা ভোটগ্রহণ হলে প্রত্যেক ভোটার ১০ মিনিট করে সময় পেলেও এই সময়েই ভোট সম্পাদন করতে পারবেন। চারটায় ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পর পাঁচটার মধ্যে তাঁরা গণনা শুরু করবেন। ১৭টি কেন্দ্রের ফল তাঁরা সর্বোচ্চ ১৭ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
ভোট দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ উঠে যাওয়া নিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। রাকসুর ক্ষেত্রে এ ধরনের বিতর্ক এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—জানতে চান সাংবাদিক। নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, তাঁরা শুধু অমোচনীয় কালির ওপর নির্ভর করছেন না। তাঁরা থ্রিডি লেভেলের (ত্রিমাত্রিক পর্যায়) নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছেন। যে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র নিয়ে আসবেন, প্রথমে সেটির অথেন্টিসিটি যাচাই করা হবে। শুধু পরিচয়পত্র হলেই হবে না, তাঁর ভোটার আইডির জন্য একটি ইউনিক আইডি দেওয়া হয়েছে। সেটিও যাচাই করা হবে। এরপর তাঁর ছবিযুক্ত ভোটার আইডি আছে। সেটি তাঁরা মিলিয়ে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করবেন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ তৈরি হলে একটি বিশেষ গোপনীয় কিউআর কোডও আছে। পুরো প্রক্রিয়াকে তাঁরা বলছেন, থ্রি ডাইমেনশনাল সিকিউরিটি (ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা)। এটিকে অগ্রাহ্য করে কোনো অবস্থাতেই ভোট জালিয়াতি করার সুযোগ নেই।
ডাকসুর ব্যালট নীলক্ষেতে ছাপানো নিয়ে নির্বাচনের পরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাকসুর ব্যালট ছাপানোর ক্ষেত্রে বিতর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হয়। অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, তাঁরা এমন কোনো সংস্থা থেকে ব্যালট পেপার তৈরি করেননি। এই বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে যাদের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের আট ধরনের সিকিউরিটি চেক (নিরাপত্তা যাচাই) করে এই দায়িত্বটি দেওয়া হয়েছে। সবাইকে তাঁদের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন নিয়ে আমরা অনেক ধরনের ভিত্তিহীন ও অগ্রহণযোগ্য কিছু কথাবার্তা শুনেছি। কিন্তু আমরা বলতে চাই, কোনো অবস্থাতেই ভোটারসংখ্যার অতিরিক্ত কিংবা ভোটারসংখ্যার কম ব্যালট পেপার ছাপানোর কোনো আইন পৃথিবীতে কোথাও নেই। ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটারের জন্য ২৮ হাজার ৯০১টি ব্যালটই ছাপানো হয়েছে। এর বাইরে কেন্দ্রে একটিও কম যাবে না, একটিও বেশি যাবে না।’
সাংবাদিকদের জন্য রাকসুর নির্বাচন কমিশনের ইস্যু করা কার্ডের মান নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে দুঃখপ্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: নজর ল ইসল ম কর মকর ত ২৮ হ জ র র ফল ফল ব যবস থ র জন য ব তর ক কর ন ন জন প র করব ন ধরন র করছ ন
এছাড়াও পড়ুন:
গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে গতকাল শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বৈশ্বিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ হয়। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই বিক্ষোভ হলো।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এ পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গতকাল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রধান সড়কগুলোতে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘গাজা, গাজা; প্যারিস তোমার সঙ্গে আছে’ এবং ‘প্যারিস থেকে গাজা, প্রতিরোধ’ স্লোগান দেন। তাঁরা ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে ইসরায়েলি ‘জাতিহত্যার’ নিন্দা জানান।
এক বিক্ষোভকারী আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখনো ন্যায়বিচার বা জবাবদিহি থেকে অনেক দূরে।’
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি, এটি (ইসরায়েলের যুদ্ধ) খারাপ। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা কেন এটি বুঝতে পারেন না?’
ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যান তুয়াইলোঁ বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাত সপ্তাহ পরেও কোনো কিছুরই সমাধান হয়নি।
প্রায় ৮০টি বেসরকারি সংস্থা, ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দল এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এগুলোর একটি ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রধান তুয়াইলোঁ যুদ্ধবিরতিকে ‘শুভংকরের ফাঁকি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক লাখ মানুষ এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ‘অপরাধের’ জবাবদিহি দাবি করেন। অবরুদ্ধ গাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষার দাবি জানান।
ইতালিতে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের নেতাদের নেতৃত্বে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
দেশটির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত মূল বিক্ষোভ সমাবেশে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ফ্রানচেসকা আলবানিজ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন।
আরও পড়ুনগাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ, লন্ডনে ৫০০ গ্রেপ্তার০৫ অক্টোবর ২০২৫আলবানিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিহত্যা চালাচ্ছে।
এ ছাড়া জেনেভা, লিসবনসহ ইউরোপের অন্যান্য শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৮৯ জন। এই সময়ে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
আরও পড়ুনগাজায় ইসরায়েলের হামলা চলছেই, নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭০ হাজার৬ ঘণ্টা আগেজাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যা, পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার বাস্তুচ্যুত করা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় এখনো জাতিহত্যা চালাচ্ছে। নতুন করে হামলা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
আরও পড়ুনগাজায় নিহতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হতে পারে: জার্মানির শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য২৬ নভেম্বর ২০২৫