হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা-বাগানের লাগোয়া গেলানীছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ বুধবার দুপুরে চুনারুঘাট সদর উপজেলা ভূমি অফিসের তহশিলদার আবদুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় এ মামলা করেন।

মামলায় বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে গেলানীছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশের ক্ষতি করছেন। তাঁদের এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে আশপাশের চা-বাগানের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

মামলার আসামিরা হলেন উপজেলার দেউন্দি বদরগাজী গ্রামের জসিম উদ্দিন ও আরব আলী, কাঁঠালবাড়ী গ্রামের মিন্টু মিয়া, মোজাম্মেল মিয়া, মিজান মিয়া ও মিশুক মিয়া, বদরগাজী গ্রামের খয়ের মিয়া, আবদুল্লাহপুর গ্রামের ফরহাদ মিয়া, সাব্বির মিয়া, রাহাদ মিয়া ও রমজান আলী, দেউন্দি বদরসারী গ্রামের তানভীর মিয়া, দেউন্দি বহুলা ঢিলা গ্রামের আলী হায়দার, বদরগাজী গ্রামের সাহেব আলী, একই গ্রামের রুবেল মিয়া, বহুলা ঢিলা গ্রামের এলাল মিয়া, দেউন্দিগাংপাড় গ্রামের এক্কাছ মিয়া, তেতৈয়াবাড়ি সুজন মিয়া ও তাহির তালুকদার। তাঁদের অধিকাংশই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে রমজান মিয়া পাইকপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য।

আরও পড়ুনএবার চুনারুঘাটে চা-বাগানের ছড়া থেকে লুট হচ্ছে সিলিকা বালু১৩ অক্টোবর ২০২৫

সম্প্রতি আসামিরা চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্ডি চা–বাগানের পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া গেলানী ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিলেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বালু তোলা বন্ধে তৎপর হয় উপজেলা প্রশাসন।

এলাকাবাসী অভিযোগ, একটি স্পটে মামলা হলেও উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় সুতাং ছড়া, গাজীপুর ইউনিয়নের ইছালিয়া ছড়া, আহাম্মদাবাদ ইউনিয়নে নালুয়া চা–বাগান থেকে নেমে আসা সুতাং ছড়া, ছয়শ্রী অংশ, আমু চা–বাগান থেকে নেমে আসা সুতাং ছড়া ঘনশ্যামপুর ও কালিশিরী অংশ, মিরাশি ইউনিয়নের করাঙ্গী নদী ও রানীগাঁও ইউনিয়নের জিবদর ছড়াসহ ১০ থেকে ১৫টি ছড়া থেকে এখনো অবৈধ বালু তুলছে বিভিন্ন সিন্ডিকেট।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মামলার তথ্য নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা বৃদ্ধি করবে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: উপজ ল র দ দ উন দ

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্‌যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগে

তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগে

মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ