এস আলম গ্রুপের মালিকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
Published: 15th, October 2025 GMT
ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে তিন দফায় ১০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার এ অনুমতি দেওয়া হয়।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো.
দুদক সূত্র জানায়, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ এম ট্রেডিংয়ের নামে ২০১৩ সালে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরে এই টাকা এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এস আলম এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। অনুসন্ধান শেষে গত জুলাইয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে এখন অভিযোগপত্র দিতে যাচ্ছে দুদক। এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪ ও ৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই ১৩ জনের বিরুদ্ধে আরও দুটি অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে।
যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের অনুমতি দিয়েছে কমিশন, তাঁরা হলেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান, শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার, সাবেক ইভিপি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রাশেদুল হক, সাবেক ব্যবস্থাপক ও করপোরেট ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক উপব্যবস্থাপক জুমারাতুল বান্না, মাররিন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মেসার্স এ এম ট্রেডিংয়ের মালিক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে চট্টগ্রামের একটি জাহাজভাঙা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে আট হাজার কোটি টাকা লেনদেন ও জাহাজভাঙার ব্যবসার নামে এলসি করে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বলেন, তিনি এখনো এ বিষয়ে কিছু জানেন না। জেনে পরে জানাতে পারবেন।
অন্যদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (মাহী বি চৌধুরী) নামে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। আজ দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম মামলা অনুমোদনের বিষয়টি জানিয়েছেন।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ ছাড়া এই রাজনীতিবিদ ২০ কোটি ৬৯ লাখ ২৫৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাবা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। বিএনপির আমলে ২০০২ সালের ২১ জুন মুন্সিগঞ্জ–১ আসনে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এ ছাড়া ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আবারও মুন্সিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত হন তিনি।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ১৩ জন র ব র দ ধ এস আলম গ র প র ফ ইন য ন স বদর দ দ জ ব যবস থ র চ লক
এছাড়াও পড়ুন:
মাওনায় কম দামে জমি—এ কথা বলে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের কাছ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা নেন তাঁরা
গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি বিক্রি করার কথা বলে সাবেক একজন অতিরিক্ত সচিবের কাছ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চারটি মুঠোফোন, একটি প্রাইভেট কার ও সাড়ে ৪৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সায়েদুল ইসলাম (৪১) ও মো. শাহীন কাজী (৪৪)। আজ শুক্রবার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক ওই অতিরিক্ত সচিব গত ৩১ মে দারুস সালাম থানায় প্রতারণার মামলা করেন। পরে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর সিআইডি আসামিদের ব্যাংক লেনদেন যাচাই, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ এবং ভুক্তভোগীর বর্ণনার ভিত্তিতে প্রতারক সায়েদুল ইসলাম ও শাহীন কাজীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চারটি মুঠোফোন, চারটি সিম, একটি প্রাইভেট কার এবং সাড়ে ৪৬ হাজার টাকা জব্দ করে। সিআইডির তদন্তে দেখা যায়, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে বায়নানামার কথা বলে অর্থ গ্রহণ করলেও জমিটি তাঁদের মালিকানায় ছিল না।
মামলা তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানান, আসামিরা সাবেক ওই সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এক পর্যায়ে তাঁর আস্থা অর্জন করেন। পরে তাঁরা গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় ২২ বিঘা জমি কিনতে তাঁকে প্রলুব্ধ করেন। এরপর দলিলপত্র তৈরি, ভূমি অফিসে যোগাযোগ, রেজিস্ট্রি প্রস্তুত—এমন নানা অজুহাতে প্রতারিত ব্যক্তির কাছ থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মোট ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর তাঁরা ভুক্তভোগীকে ২৬ মে জমি রেজিস্ট্রি (নিবন্ধন) করে দেবে বলে জানান। কিন্তু ওই দিন সকাল থেকেই প্রতারকদের ফোন বন্ধ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নিশ্চিত হন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
আজ সন্ধ্যায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতারণার শিকার সাবেক ওই অতিরিক্ত সচিব প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তিনি। এর সূত্রে সায়েদুল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তিনি জানান তাঁর ‘বস’ ফ্ল্যাটটি কিনবেন। সায়েদুল নিজেকে একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন। ফোন করে ও দেখা করে সায়েদুল তাঁর সঙ্গে আন্তরিকতা গড়ে তোলেন। সায়েদুল একদিন তাঁকে বলেন, শ্রীপুরের মাওনায় অনেক কম দামে ২২ বিঘা জমি বিক্রি হবে। দাম কম হওয়ায় তিনি (সায়েদুল) জমিটি বায়না করলেও ওই জমি কেনার তাঁর সামর্থ্য নেই। এখন জমিটি যদি সাবেক অতিরিক্ত সচিব কিনে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেন, তাতে বিপুলভাবে (সাবেক অতিরিক্ত সচিব) লাভবান হবেন তিনি। এ জন্য সায়েদুল একজনকে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে তাঁর সঙ্গে ভুক্তভোগীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু কথিত ওই ক্রেতা প্রতারক চক্রের সদস্য, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
ভুক্তভোগী বলেন, সায়েদুলের নামে করা বায়না ও জমির কাগজপত্রও তাঁকে দেওয়া হয়। সায়েদুলের মামা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত এবং তিনি বিদেশে আছেন, সেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকা ব্যয় হচ্ছে। টাকার জন্য বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যায় আছেন—এমন আকুতি করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা নেন সায়েদুল। তিনি কেমন যেন সায়েদুলের আচরণে ‘কনভিন্সড’ হয়ে গিয়েছিলেন। যেদিন জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা, সেদিন সায়েদুলকে ফোন করলে তিনি বলেন, তাঁর মা মারা গেছেন। লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। পরে আরেক দিন ফোন করলে সায়েদুল বলেন, তাঁর খালাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। সায়েদুল ও তাঁর সহযোগীদের কর্মকাণ্ডে সন্দেহ হওয়ায় সায়েদুলের দেওয়া জমির কাগজপত্র শ্রীপুরের এসি ল্যান্ডের (সহকারী কমিশনার-ভূমি) কাছে পাঠালে ওই কর্মকর্তা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে বলেন, এসব কাগজপত্র ভুয়া। এ সময় বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।