রাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণে প্রস্তুত কেন্দ্র, সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠন
Published: 15th, October 2025 GMT
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ উপলক্ষে আজ বুধবার সন্ধ্যার আগেই ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন। সন্ধ্যার আগে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল প্রতিটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে।
আজ সন্ধ্যার আগে জামাল নজরুল একাডেমিক ভবন ও স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ভবন পরিদর্শন করছিলের রাকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান, অধ্যাপক আমিনুল হক ও অধ্যাপক পারভেজ আজহারুল হক। এ সময় মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করলাম। সব কেন্দ্রও প্রস্তুত হয়েছে।’ অধ্যাপক আমিনুল হক বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি থাকবে। একজন শিক্ষার্থী ভোট দিতে সময় পাবেন ১০ মিনিট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনের একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন মাদার বখশ হলের শিক্ষার্থীরা। এই কেন্দ্রে ভোটার ১ হাজার ৮৭১ জন। ভেতরে তিনটি সারি করা হয়েছে। এই সারিতে একসঙ্গে ৬০ জন শিক্ষার্থী ভোট দিতে পারবেন। সাদা কাপড় মুড়িয়ে বুথ করা হয়েছে।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ ও নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হল রয়েছে ১৭টি। এর মধ্যে ছাত্র হল ১১টি এবং ছাত্রী হল ৬টি। ভোট গ্রহণ শেষে রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভোট গণনা করা হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে।
ভোট গ্রহণ যে ৯টি ভবনে হবে, সেগুলো হলো সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মমতাজউদ্দিন ও ড.
সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনে ভোট দেবেন দুটি হলের ভোটাররা। জুলাই-৩৬ হলের ২ হাজার ৪৭২ শিক্ষার্থী ১২৮ নম্বর কক্ষে এবং রোকেয়া হলের ২ হাজার ১৭৩ শিক্ষার্থী ভোট দেবেন ১২২ নম্বর কক্ষে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভবনের ১৪৬ নম্বর কক্ষে তাপসী রাবেয়া হলের ১ হাজার ২৪১ শিক্ষার্থী, ১১৯ নম্বর কক্ষে বেগম খালেদা জিয়া হলের ১ হাজার ২৭৫ শিক্ষার্থী এবং ১২৩ নম্বর কক্ষে রহমতুন্নেসা হলের ১ হাজার ৭৬৬ শিক্ষার্থী ভোট দেবেন।
মমতাজউদ্দিন ভবনের ১৫৬ নম্বর কক্ষে ভোট দেবেন মন্নুজান হলের ছাত্রীরা। এখানে ভোটারসংখ্যা ২ হাজার ৩৭৮। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনের ১৫০ নম্বর গ্যালারিতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১ হাজার ৯৬৩ ভোটার ভোট দেবেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসু ভবনে ভোট দিতে পারবেন দুটি হলের ভোটাররা। এর মধ্যে ১৩৩ নম্বর কক্ষে ভোট দেবেন শেরেবাংলা ফজলুল হক হলের ৯৯৩ জন এবং ২০৮ নম্বর কক্ষে মতিহার হলের ১ হাজার ৮৭১ শিক্ষার্থী ভোট দেবেন।
জাবির ইবনে হাইয়ান ভবনের ১৩৩ নম্বর কক্ষে শহীদ হবিবুর রহমান হলের ২ হাজার ৪৪৬ শিক্ষার্থী এবং ১০১ নম্বর কক্ষে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১ হাজার ৩০৪ শিক্ষার্থী ভোট দিতে পারবেন। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনে দুটি হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দেবেন। এর মধ্যে টিচার্স লাউঞ্জ কক্ষে ভোট দেবেন মাদার বখশ হলের ১ হাজার ৮৭৪ শিক্ষার্থী। একই ভবনের ১০৫ নম্বর কক্ষে ভোট দেবেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ১ হাজার ৮৬১ শিক্ষার্থী।
জামাল নজরুল ভবনের সিএসএলের ১২৫ নম্বর কক্ষে বিজয়-২৪ হলের ১ হাজার ৫২৯ শিক্ষার্থী এবং ১১৬ নম্বর কক্ষে নবাব আবদুল লতিফ হলের ১ হাজার ১১৩ শিক্ষার্থী ভোট দিতে পারবেন। জুবেরী ভবনে ভোট দিতে পারবেন দুই হলের শিক্ষার্থীরা। ভবনের হলরুমে (পূর্বে) ভোট দেবেন সৈয়দ আমীর আলী হলের ১ হাজার ২৩৩ শিক্ষার্থী। হলরুম (পশ্চিমে) ভোট দেবেন শাহ মখদুম হলের শিক্ষার্থীরা। এখানে ভোটার ১ হাজার ৪০৯ জন।
ভোট পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কমিটিরাকসু, হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার জন্য এ কমিটি কাজ করবে। আজ দুপুরে এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এম রফিকুল ইসলাম। তিনি ১৯৬৮ সালে শাহ্ মখদুম হল ছাত্র সংসদে সহসাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মামনুনুল কেরামত, ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নূরুল হোসেন চৌধুরী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক এম নজরুল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ জাবিদ হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান, আইন বিভাগের অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দিকা, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন, ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শেহনাজ ইয়াসমিন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ জানান, নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার জন্য উপাচার্য এই কমিটি গঠন করেছেন।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব ভ গ র অবসরপ র প ত হল র শ ক ষ র থ র হল র ১ হ জ র ভ ট গ রহণ ন দ রন থ প রস ত ত ম হ ম মদ ল ইসল ম প রব ন রব ন দ অবস থ নজর ল ভবন র
এছাড়াও পড়ুন:
গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে গতকাল শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বৈশ্বিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ হয়। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই বিক্ষোভ হলো।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এ পর্যন্ত উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গতকাল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রধান সড়কগুলোতে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘গাজা, গাজা; প্যারিস তোমার সঙ্গে আছে’ এবং ‘প্যারিস থেকে গাজা, প্রতিরোধ’ স্লোগান দেন। তাঁরা ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে ইসরায়েলি ‘জাতিহত্যার’ নিন্দা জানান।
এক বিক্ষোভকারী আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখনো ন্যায়বিচার বা জবাবদিহি থেকে অনেক দূরে।’
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি, এটি (ইসরায়েলের যুদ্ধ) খারাপ। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা কেন এটি বুঝতে পারেন না?’
ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যান তুয়াইলোঁ বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাত সপ্তাহ পরেও কোনো কিছুরই সমাধান হয়নি।
প্রায় ৮০টি বেসরকারি সংস্থা, ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দল এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এগুলোর একটি ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রধান তুয়াইলোঁ যুদ্ধবিরতিকে ‘শুভংকরের ফাঁকি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিক্ষোভের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক লাখ মানুষ এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ‘অপরাধের’ জবাবদিহি দাবি করেন। অবরুদ্ধ গাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষার দাবি জানান।
ইতালিতে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের নেতাদের নেতৃত্বে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
দেশটির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত মূল বিক্ষোভ সমাবেশে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ফ্রানচেসকা আলবানিজ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন।
আরও পড়ুনগাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ, লন্ডনে ৫০০ গ্রেপ্তার০৫ অক্টোবর ২০২৫আলবানিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিহত্যা চালাচ্ছে।
এ ছাড়া জেনেভা, লিসবনসহ ইউরোপের অন্যান্য শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৮৯ জন। এই সময়ে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
আরও পড়ুনগাজায় ইসরায়েলের হামলা চলছেই, নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭০ হাজার৬ ঘণ্টা আগেজাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এত বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যা, পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার বাস্তুচ্যুত করা, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় এখনো জাতিহত্যা চালাচ্ছে। নতুন করে হামলা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
আরও পড়ুনগাজায় নিহতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হতে পারে: জার্মানির শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য২৬ নভেম্বর ২০২৫