গণপূর্তের কর্মকর্তা সরকারি বাসার দরজা-জানালা ‘খুলে নিয়ে গেছেন’
Published: 16th, October 2025 GMT
পাবনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক উপসহকারী প্রকৌশলী বদলির সময় সরকারি বাসার দরজা-জানালা খুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বাসাটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম ইব্রাহিম বিশ্বাস। তিনি ছয় মাস আগে পাবনা থেকে বদলি হয়েছেন। বর্তমানে রাঙামাটিতে কর্মরত।
স্থানীয় লোকজন ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসাটি একতলা হওয়ায় বেশ কিছু দিন সেখানে কেউ থাকতেন না। এতে ভবনটি কিছুটা বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। উপসহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহিম বিশ্বাস পাবনায় দায়িত্ব পালনকালে বাসাটিতে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিছু মেরামত ও রঙের কাজ করে তিনি সেখানে থাকতেন। ছয় মাস আগে রাঙামাটিতে তাঁর বদলি হয়। এ সময় তিনি বাসাটি ছেড়ে রাঙামাটিতে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি সরকারি বাসার কিছু আসবাবপত্র ও দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যান।
ইব্রাহিম বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওটা একটা পরিত্যক্ত বাসা ছিল। তাই দরজা-জানালা খুলে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আবার লাগানো হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, একতলা ভবনটির অবস্থা অনেকটা কঙ্কালের মতো। অবকাঠামো আছে, দরজা-জানালা কিছু নেই। ভবনের ভেতরটা পুরো ফাঁকা।
গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, ভবনটিতে ওঠার সময় ইব্রাহিম বিশ্বাস কিছু মেরামতের কাজ করেছিলেন। খরচের টাকা না পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে বদলির সময় দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যান। এতে পুরো ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে গেছে।
প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় শহরের ইছামতী নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি ও শিক্ষক মাহবুবুল আলম বলেন, জানামতে সরকারি সম্পদে খরচ করা যায়। কিন্তু নিয়ে যাওয়ার কোনো বিধান নেই। ওই কর্মকর্তা যে কাজ করেছেন, সেটি একটি অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান বলেন, সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বহীন আচরণ মেনে নেওয়ার মতো নয়। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার।
এ প্রসঙ্গে গণপূর্ত বিভাগ পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির বলেন, কোয়ার্টারটি পরিত্যক্ত ছিল। ইব্রাহিম বিশ্বাস যেসব জিনিস নিয়ে গেছেন, সেগুলো দ্রুতই আবার প্রতিস্থাপন করা হবে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: কর মকর ত গণপ র ত র সময় সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
বগুড়ায় বিসিএল প্রোপার্টির ৯ তলা ভবনের নির্মাণ শুরু
বগুড়ায় টিএমএসএসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিসিএল প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্টের নয় তলা আবাসিক ভবন ‘রাফসান-সানন্দা-মুন্নুজান টাওয়ার বাই বিসিএলের’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে শহরের সেউজগাড়ীর কৃষি ফার্ম সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ভবনটির নির্মাণের উদ্বোধন করা হয়।
আরো পড়ুন:
ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল ধসে নিহত বেড়ে ৫৪
ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল ধস: ধ্বংসস্তুপের নিচে এখনও আটকা ৯১ জন
বিসিএল প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট প্রায় এক যুগ ধরে বগুড়া শহরের বিভিন্ন প্রাইম লোকেশনে গ্রাহকের চাহিদা প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক ও গুণগতমান বজায় রেখে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে আসছে।
বিসিএল প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্টে পর্যন্ত ৭টি বহুতলভবনের ১৬২টি আবসিক ফ্ল্যাট গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং আরো প্রায় ২৩০টি আবাসিক ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিএমএসএসের প্রধান প্রকৌশলী, পরিচালক ও বিসিএল প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবিবুর রহমান।
হাবিবুর রহমান তার বক্তব্যে এই নয় তলা ভবনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা উল্লেখ করে জানান, ভবনটি আধুনিক স্থাপত্য নকশা ও সকল ধরনের বিল্ডিং কোড প্রতিপালন করে ভূমিকম্প সহনশীল মাত্রায় ডিজাইন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সাইজের (১৩৫০ বর্গফুট থেকে ১৭০০ বর্গফুটের) ৫১টি লাক্সারি এ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এছাড়া বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকবে সুবিশাল গাড়ি পার্কিং। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, লিফট, জেনারেটর, নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও ভবনের ছাদে থাকবে সুবিশাল কমিউনিটি হল, সুসজ্জিত বাগান, বসার জায়গা, কিডস জোনসহ সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই প্রকল্পের জমির মালিক ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও অন্যান্য জমির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/এনাম/বকুল