বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে হাসানাত আবদুল্লাহ তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক‌ পেইজে এক পোস্টে এই আহ্বান জানান। এর আগে হত ১৪ আগস্টও তিনি এ আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

শিক্ষা উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত লেখেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ইতিমধ্যে কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি কারো কাম্য নয়।”

আন্দোলন দমনের জন্য পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে মোতায়েন করা চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছি-পুলিশকে সাময়িক রাজনৈতিক প্রয়োজনে বা আন্দোলন দমনের অজুহাতে লাঠিয়াল ভূমিকায় নামানো হলে তা সরাসরি সংঘাত সৃষ্টি করবে এবং অপ্রত্যাশিত পরিণতি ডেকে আনবে।” 

পুলিশের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। জনগণের পুলিশে হতে চাইছে। সেই প্রচেষ্টায় আপনি (শিক্ষা উপদেষ্টা) বাধা হয়ে দাঁড়াবেন ন। সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করুন।” 

এর আগে গত রোববার (১২ অক্টোবর) শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, ও কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকরা।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়ার ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ করার বিষয়ে সম্মতি দেয় অর্থ বিভাগ। এরপর এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আপত্তি শুরু হয়। শিক্ষকেরা বলে আসছেন মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া বৃদ্ধি শিক্ষকদের জন্য ‘লজ্জার বিষয়’। তাঁরা মূল বেতনের অন্তত ২০ শতাংশ হারে (ন্যূনতম তিন হাজার টাকা) বাড়িভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা/রায়হান/ইভা 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর আহ ব ন জ ন শ ক ষকদ র র জন য হ সন ত

এছাড়াও পড়ুন:

খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্‌যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগে

তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগে

মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্‌যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ