নিবিড়ের কৃতিত্বের পেছনে কঠোর পরিশ্রম, প্রতিদিন পড়ালেখা করেছেন ১০-১২ ঘণ্টা
Published: 12th, July 2025 GMT
১৩০০ নম্বরের মধ্যেই ১২৮৫! অবাক হওয়ার মতো এমন অনন্য ফলাফল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী নিবিড় কর্মকার। নগরীর নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এমন অনন্য ফলাফল করেছে নিবিড়।
এমন সেরা ফলাফলের পেছনে বেশি বেশি পাঠ্যপুস্তক পড়া, অধ্যাবসায়, প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা পড়ালেখার ব্যস্ত থাকা, শিক্ষকদের গাইডলাইন অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করা, মনোবল না হারানো - মূলত এসব বিষয় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করে নিবিড়। আগামীতে প্রকৌশলী হয়ে দেশের সেবায় কাজ করার আশা তার।
নিবিড় চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকার জীবন কর্মকার ও রিপা রায়ের ছেলে। তার বাবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আর মা গৃহিণী। ছেলের এমন সাফল্যে আনন্দিত বাবা-মা।
নিবিড় কর্মকার বলেন, ‘এমন ভালো ফলাফল করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি পাঠ্যবইয়ে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতাম। প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা পড়ালেখা করতাম। গাইড বইয়ের চেয়ে পাঠ্যবইকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। আমি মনে করি এই ফলাফলের পেছনে পাঠ্যবইয়ে বাড়তি সময় দেওয়াটা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে সবচেয়ে বেশি। শিক্ষকরা আমাকে খুব ভালোভাবে গাইড করেছেন। মাঝেমধ্যে পরিচিত অন্য স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গেও পড়ালেখার নানা বিষয় শেয়ার করতাম।’ তিনি বলেন, ‘এই অর্জনের পেছনে মা-বাবার ভূমিকা অনেক বেশি। উনারা আমার প্রতি অনেক বেশি যত্নবান ছিলেন। কখনও পড়ালেখা নিয়ে দুশ্চিন্তা করলে সাহস দিতেন। নানা বিষয়েও সার্বক্ষণ নানা পরামর্শ দিতেন। মা-বাবার অনেক কষ্ট আর পরিশ্রমের ভালো প্রতিদান দিতে পেরে আমি আনন্দিত।’
নিবিড় বলেন, ‘এবার ভালো ফলাফল করে আগামীতে প্রকৌশলী বিষয়ে পড়ার প্রবল ইচ্ছা। বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশের জন্য, সমাজের জন্য কিছু করতে চাই।’
নিবিড়ের বাবা জীবন কর্মকার বলেন, ‘ছেলের এমন সেরা অর্জনে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এমন ফলাফলের মাধ্যমে আমাদের জীবন ধন্য করেছে নিবিড়। সবসময় তার পাশে থাকার চেষ্টা করেছি আমি ও তার মা। এবারের ফলাফল আগামীতে আরও ভালো কিছু করতে তাকে উৎসাহ যোগাবে।’ নিবিড়ের মা রিপা রায় বলেন, ‘সামান্য নম্বরের জন্য সে কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পায়নি। এতে ওর মতো আমাদেরও খুব মন খারাপ হয়েছিল। কিন্তু সেখানে চান্স না পেলেও নিবিড় যে মেধাবী এত ভালো ফলাফল করে তা প্রমাণ করেছে সে। তার এই ফলাফলে সে দিনের সব কষ্ট এখন নিমিষেই দূর হয়ে গেছে। নিবিড়কে নিয়ে আমরা গর্বিত। তার এমন সেরা ফলাফল নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামবাসীর জন্যও গর্বের ও আনন্দের।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘১৩০০ নম্বরের মধ্যে ১২৮৫ পাওয়া নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ভালো ফলাফল। মেধাবী শিক্ষার্থীর পক্ষেই এমন ফলাফল করা সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘তবে এমন ফলাফলকে দেশসেরা বলা যাবে না। কারণ কাউকে দেশসেরা হিসেবে কেবল মন্ত্রণালয় বা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করতে পারে। কারণ ঢাকা বা অন্য বোর্ডে আর কোনো শিক্ষার্থী যে এর চেয়ে বেশি নম্বর পায়নি সেটা আমরা নিশ্চিত করে বলবো কিভাবে? কারণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সবোর্চ্চ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করতেও নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে কোনো শিক্ষার্থী দেশসেরা সেটা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমন বিষয় তুলে ধরতে আগ্রহী নয়।’
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৪৯০ জন এবং ছাত্রী ৬ হাজার ৩৫৩ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২১৯টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১৬৪টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা এবার এসএসসিতে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ হাজার ৭২৫ জন ছাত্রী ও ৬১ হাজার ৬৬৩ জন ছাত্র। এবার ছাত্র পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ছাত্রী পাসের হার ৭২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: এসএসস আনন দ ত র জন য পর ক ষ এমন স
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত: রিজভী
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাসে ‘মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রুহুল কবির রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আজকে সর্বশেষ যতটুকু শুনেছি, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান রিজভী। আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এই স্থগিতের কথা আপনাদের জানালাম। কারণ, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল সারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার। আমাদের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেখান থেকে শুরু হতো। আগামীকাল এই রোড শো করে বিভিন্ন বিভাগে এসে একটি সভা হতো। সেই সভার পর আবারও তার পরদিন রোড শো করে আরেকটি বিভাগীয় শহরে সেই সভাটি হতো।’
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে এই মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, ‘বিজয় মাস’ উদ্যাপন শুরু কালুরঘাট থেকে১৯ ঘণ্টা আগেতারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যে আসলে তাঁর ফেরার কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। যথাসময়ে, মানে উপযুক্ত মনে হলে উনি আসবেন। তিনি (তারেক রহমান) তাঁর মায়ের জন্য, আমাদের চেয়ারপারসনের জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, প্রতিমুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি সব সময় কথা বলছেন।’
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মশাল রোড শো কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়া কথা বলেছেন, তবে এখনো সংকট কাটেনি১৫ ঘণ্টা আগেমহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে উদ্যাপন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুনখালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড়, বলছেন ‘মন মানে না’৩ ঘণ্টা আগে