ক্যানসার জীবনের ‘শেষ’ নয়, দরকার মানসিক দৃঢ়তা
Published: 13th, October 2025 GMT
‘অনেকেই ভাবেন, ক্যানসারের চিকিৎসা মানেই ভয়। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আধুনিক চিকিৎসায় এখন এ চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম এবং রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবার ও সমাজের সহায়তা পেলে রোগীরা দ্রুত সেরে ওঠেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মানসিক দৃঢ়তা।’
এ কথা বলেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা.
স্তন ক্যানসার সচেতনতার মাস অক্টোবর। এ উপলক্ষে শনিবার (১১ অক্টোবর) এসকেএফ অনকোলজি আয়োজন করে ‘বিশ্বমানের ক্যানসার-চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনা। নাসিহা তাহসিনের উপস্থাপনায় এতে অতিথি হিসেবে ছিলেন ডা. এ টি এম কামরুল হাসান। তিনি বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারের বর্তমান অবস্থা, রোগনির্ণয়, ডায়াগনসিস ও চিকিৎসাসুবিধা বিষয়ে কথা বলেন। পর্বটি সরাসরি প্রচারিত হয় প্রথম আলো ডটকম এবং প্রথম আলো, এসকেএফ অনকোলজি ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে।
শুরুতেই উপস্থাপক জানান, বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যানসার সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসারের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি কম গুরুতর নয়। প্রতিবছর দেশে ১৩ হাজারের বেশি নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং এর মধ্যে ৭ হাজারের বেশি নারী প্রাণ হারান। তবে আশার খবর হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা গেলে স্তন ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার প্রায় ৯৯ শতাংশ।
উপস্থাপক জানতে চান, স্তন ক্যানসার কেন নারীদের জন্য এত বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে? উত্তরে ডা. এ টি এম কামরুল হাসান বলেন, বিশ্বব্যাপী তো বটেই, বাংলাদেশেও স্তন ক্যানসারের হার বাড়ছে। এর মূল কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, দেরিতে বিয়ে ও সন্তান ধারণ, সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো ও জিনগত প্রভাব। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অনেকেই প্রাথমিক লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসায় কতটা সফলতা পাওয়া যায়, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. এ টি এম কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যানসার সম্পূর্ণরূপে নিরাময় সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশেই অত্যাধুনিক কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও সার্জারির ব্যবস্থা রয়েছে। আগে যেসব চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হতো, এখন সেগুলো দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। তাই সময়মতো রোগ শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
স্তন ক্যানসার শনাক্তের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি সম্পর্কে ডা. এ টি এম কামরুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপে সেলফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন। তারপর চিকিৎসকের পরামর্শে ম্যামোগ্রাম বা আলট্রাসনোগ্রাম। এ পরীক্ষাগুলো বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও শারীরিক উপসর্গ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।
ক্যানসার চিকিৎসার সময় মানসিক সমর্থনের গুরুত্ব সম্পর্কে ডা. এ টি এম কামরুল হাসান বলেন, শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক চিকিৎসাও সমান জরুরি। রোগীর আত্মবিশ্বাস, পরিবার ও বন্ধুদের ভালোবাসা, কর্মক্ষেত্রে সহায়তা—এসব রোগমুক্তিতে ভূমিকা রাখে। ক্যানসারকে জীবনের ‘শেষ’ নয়, ‘একটি যাত্রা’ হিসেবে দেখতে হবে।
বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারের বর্তমান অবস্থা, রোগনির্ণয়, ডায়াগনসিস ও চিকিৎসাসুবিধা বিষয়ে পরামর্শ দেন ডা. এ টি এম কামরুল হাসানউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: সবচ য়
এছাড়াও পড়ুন:
কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হলো বুক অলিম্পিয়াড
‘বই পড়ি, স্বপ্ন আঁকি’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াড। আজ রোরবার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) দুপুর ১২টায় কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে মুক্ত আসরের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াড কমিটির আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চমাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক জি এম মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বই স্বপ্নকে বড় করে। একটি ভালো বই একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাচেতনা এবং ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি ভালো বই একজন মানুষের জীবনও বদলে দিতে পারে। নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে উঠলে মননশীলতা বাড়ে, যুক্তিবোধের বিকাশ ঘটে এবং ব্যক্তি থেকে সমাজ সবাই উপকৃত হয়।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ক্যাপ্টেন জিয়াউল হাসান মাহমুদ, কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন, বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, প্রধান সমন্বয়ক আয়শা জাহান নূপুর, যোগাযোগবিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক আবুল বাশার মিরাজ, সদস্য ইয়াতুননেসা রুমা, গবেষক জয়াশিস বনিক, এখন টিভি কুমিল্লা জেলার ব্যুরো চিফ খালেদ সাইফুল্লাহ, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রহমান, ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধি খালেদ বিন নজরুল, বাবুই প্রকাশনের প্রকাশক কাদের বাবুসহ কুমিল্লার বিভিন্ন বিশিষ্টজন।
নিজ নিজ বক্তব্যে অতিথিরা বইপাঠের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন বলেন, ‘বই পড়লে কাজে লাগবেই। একজন মানুষ যত বেশি পড়বে, তত বেশি আলোকিত হবে। জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমই হলো বই।’
আরও পড়ুনএবার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা, বার্ষিক পরীক্ষাও বন্ধ২ ঘণ্টা আগেআবু সাঈদ বলেন, ‘কুমিল্লা জেলার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কলেজভিত্তিক বুক অলিম্পিয়াডের সূচনা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। একই ধারায় সারা দেশে বইপাঠের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সেরা ও বিজয়ী ১০ জনকে সনদ ও বই প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনকে সফল করতে সহযোগিতা করে স্বপ্ন’ ৭১ প্রকাশন, বইচারিতা, কাঠবেড়ালি প্রকাশন ও শব্দঘর।
আরও পড়ুনবিগ ফোর-এর জায়গায় কি উচ্চশিক্ষার নতুন গন্তব্যে জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন১০ ঘণ্টা আগেবিজয়ী সেরা ১০ জন হলেন যথাক্রমে লোকমান হোসাইন, নুসরাত জাহান মিমি, জাবেদ ব্যাপারী, জান্নাত আক্তার, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জুথী ভূষণ বিশ্বাস, আবির হোসেন তন্ময়, হাসিবুর ইসলাম, চাঁদনী রানী, সাগর চন্দ্র দে।