চতুর্থ তলার জানালার গ্রিল ভেঙে লাফিয়ে বাঁচেন নাজমুল
Published: 14th, October 2025 GMT
মোহাম্মদ নাজমুল। আজ মঙ্গলবার মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে যে পোশাক কারখানা ভবনে আগুন লাগে, সেখানে ‘কাটিং মাস্টার’ হিসেবে কাজ করতেন তিনি। এক বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করেন।
ঘটনার বিবরণে নাজমুল বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। ভবনের সামনের দিকে এসে জানালা খুলে দেখেন, বিপরীত পাশের রাসায়নিকের গুদাম ও একটি ‘ওয়াশ কারখানায়’ দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তাদের কারখানার ভেতরেও আগুনের ফুলকি এসে ধোঁয়া সৃষ্টি হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কাপড় দিয়ে নাক–মুখ বেঁধে ফেলেন। দৌড়ে পেছনের দিকে গিয়ে চারতলার জানালার গ্রিল ভাঙেন। পরে তিনিসহ চারজন সেখান দিয়ে পাশের টিনের ছাউনির ওপর লাফিয়ে পড়েন। এ সময় তিনি তিনতলা থেকে আরও চারজনকে জানালা ভেঙে ওই দিকে নামতে দেখেন।
নাজমুল জানান, তাঁদের এই কারখানা ভবনটি ৫ তলা। চার তলার ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে আরেকটি তলা করা হয়েছে। ভবনের নিচতলা খালি। দোতলায় একটি টি-শার্ট প্রিন্টিং কারখানা রয়েছে, নাম স্মার্ট প্রিন্টিং। আর নাজমুলদের পোশাক কারখানা তিন ও চারতলা মিলিয়ে। নাম আরএন ফ্যাশন। মালিক দুজন, নাম নজরুল ইসলাম ও রেজাউল ইসলাম। তাঁদের কারখানায় সাধারণত গেঞ্জি তৈরি করা হয়। পাঁচতলায় আরেকটা প্রিন্টিং কারখানা, নাম বিসমিল্লাহ ফ্যাশন। সেটার মালিক রাজীব নামের একজন। তাঁদের পোশাক কারখানার দুটি তলায় ২০ জনের মতো কর্মী আছেন। ভবনের মাঝামাঝি একটাই সিঁড়ি।
নাজমুল বলেন, চারতলা থেকে তিনিসহ চারজন নামতে পেরেছেন। বাকিরা হলেন আল মামুন, সোহেল ও জাহিদ। আর তিনতলা থেকে নেমেছেন নজরুল, নতুন কাজে যোগ দেওয়া একটা ছেলে, কারখানার পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং কিউসি সুরুজ নামের একজন ক্রেতার (বায়ার) প্রতিনিধি।
আরএন ফ্যাশনে ৫ হাজার হুডির ফরমাস ছিল ব্যবসায়ী কাজী রেমানুল হকের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁর পুরো অর্ডার আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।’
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই রাসায়নিক গুদামের মালিকের আরও গুদাম রয়েছে। ২০১৯ সালে গাবতলীর দিয়াবাড়িতে তাঁর আরেকটি রাসায়নিকের গুদামে আগুন লেগেছিল। শিয়ালবাড়ির ৪ নম্বর সড়কেও তাঁর আরেকটি গুদাম রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস বলেছে, ওই রাসায়নিক গুদাম বা পোশাক কারখানা কোনোটিরই অগ্নিনিরাপত্তা সনদ বা আগুন লাগলে তা সামলানোর কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
আরও পড়ুনবিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে পড়ে ‘বিষাক্ত গ্যাস’, কারখানার ছাদের দরজা ছিল তালাবন্ধ১ ঘণ্টা আগে.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
লোকজন বিয়ে করছে, আমি একটা প্রেমও করতে পারছি না: শ্রীলেখা
কথা ও কাজে কোনো রাখঢাক করেন না ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। স্পষ্টভাষী হিসেবে তার ‘সুখ্যাতি’ রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে বহু বছর ধরে সিঙ্গেল জীবনযাপন করছেন এই অভিনেত্রী। এবার মজার ছলে প্রেম-বিয়ে নিয়ে আফসোসের কথা জানালেন শ্রীলেখা।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) শ্রীলেখা তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে এ অভিনেত্রী লেখেন, “লোকজন কি সুন্দর বিয়ে করছে, আমি একটা প্রেম পর্যন্ত করে উঠতে পারছি না। সত্যি বুড়ো হয়ে গেলাম।” হ্যাশ ট্যাগে লিখেন, “আমার ভালোবাসার ধর্ম।”
আরো পড়ুন:
আমার যদি কিছু হয়, তার দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকার নেবে, প্রশ্ন শ্রীলেখার
আমি অর্ধেক মরে বেঁচে আছি: শ্রীলেখা
শ্রীলেখার এ পোস্টে অনেকে মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ রসিকতায় মজেছেন। নীল নাওয়াজ লেখেন, “বয়স! এবার প্রস্তাবের বন্যা বইবে। তুমি শুধু ইনবক্স চেক করতে থাকো। আর আজ সন্ধ্যার মধ্যে কোনো এক নিউজ পোর্টাল খবর করবে—‘প্রেমিক খুঁজছেন শ্রীলেখা মিত্র।” পরামর্শ দিয়ে কৌশিক লেখেন, “প্রেম করতে চাওয়ার কন্ডিশন গুলো একবার বলো, তাহলে দেখবে সেখানেও খরা লেগে যাবে।” সংগীত লেখেন, “বাড়ির সামনে লাইন লেগে যাবে কিন্তু।”
শ্রীলেখার সংসার ভাঙার পর অনেকের সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে শ্রীলেখার। এর আগে জানিয়েছিলেন, তার সঙ্গে প্রেম করতে হলে শর্তপূরণ করতে হবে। এ তথ্য জানিয়ে শ্রীলেখা মিত্র বলেছিলেন, “যদি কারো সঙ্গে প্রেম হয়, তাহলে প্রথম শর্ত—কুকুর ভালোবাসতে হবে। আমি তো দেখি না কেউ প্রেমেটেমে পড়ছে। কোথায় তারা? আর কুকুর বলতেও আমার কেমন জানি লাগে। ওরা আমার বাচ্চা, নাম ধরে ডাকি।”
শিলাদিত্য স্যান্যলের সঙ্গে সংসার ভাঙার পর আর বিয়ে করেননি শ্রীলেখা। প্রেম করলেও বিয়ে করতে চান না এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, “প্রেমে পড়তে চাই, প্রেমে পড়ে উঠতে চাই। আমি বিয়ে করতে চাই না। আমার প্রাক্তন, আমি ও আমার মেয়েকে এখনো একটা ইউনিট মনে হয়। এই ইউনিটটা ভাঙতে চাই না।”
ঢাকা/শান্ত