সামাজিকমাধ্যমে হঠাৎ সরব মঞ্জুর অনুসারীরা
Published: 7th, July 2025 GMT
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ সরব হয়ে উঠেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারীরা। গত তিন দিন ধরে নজরুল ইসলাম মঞ্জু আবারও দলে ফিরছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নও পাচ্ছেন, দাবি করে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিতে দেখা যাচ্ছে তার অনুসারীদের।
তবে খুলনা মহানগর বিএনপির বর্তমান নেতারা বলছেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তারাও ফেসবুক পোস্ট দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
খুলনা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সম্পর্ক ৪৬ বছরের। ১৯৭৯ সালে ছাত্রদল থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন মঞ্জু। ১৯৮৭ সাল থেকে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৯৯২ সাল থেকে ১৭ বছর সাধারণ সম্পাদক, ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন তিনি।
দীর্ঘ চার দশক ধরে খুলনা বিএনপি এবং নজরুল ইসলাম মঞ্জু যেন এক নামেই জড়িয়ে ছিলেন। অবশ্য তার বিরুদ্ধে দলের মধ্যে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নিজের লোকদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ছিল প্রতিপক্ষের।
নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ছন্দপতন ঘটে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। ৯ ডিসেম্বর খুলনা মহানগর বিএনপির তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বাদ পড়েন মঞ্জু ও তার অনুসারীরা। ১২ ডিসেম্বর দলের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ ডিসেম্বর শোকজ করা হয় তাকে। ২৫ ডিসেম্বর তাকে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মঞ্জুর চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এমন পরিণতি মানতে পারেননি অনুসারীরা। এক দিন পর থেকেই শুরু হয় গণপদত্যাগ। কিছু দিন রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় ছিলেন মঞ্জু ও তার অনুসারীরা। এর মধ্যে খুলনা মহানগর বিএনপি, ৫ থানা ও ৩১টি ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সব জায়গা থেকেই মঞ্জুর অনুসারীরা বাদ পড়েন।
বাদ পড়ার ৬ মাস পরেই রাজনীতিতে কর্মসূচিতে সরব হন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেন্দ্রীয় বড় কর্মসূচির প্রতিটিতেই পৃথক ব্যানার ও মিছিল নিয়ে যোগ দেন মঞ্জুসহ তার অনুসারীরা। জাতীয় দিবসগুলো বড় পরিসরে পালন হচ্ছে। গত ৩০ মে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আলাদাভাবে পালন করেছেন তার অনুসারীরা।
গত কয়েকমাস ধরে খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে নানা জ্বল্পনা চলছে। মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন খুলনা মহানগর বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। এরই মধ্যে গত ৪ জুলাই নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে পোস্ট দেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে ছবি দেওয়ার হিড়িক পড়ে অনুসারীদের মাঝে। সেখানে মঞ্জুকে নিয়ে নানা প্রত্যাশা, দলে ফেরা এবং তার নির্বাচনী আসন খুলনা-২-তে মনোনয়নলাভের বার্তা ছিল।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ চায় তার মতো যোগ্য দক্ষ সংগঠক দলকে নেতৃত্ব দিক। কিংবা জনগণের নিকট বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে তিনি তাদের জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করুক।’
তবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সমকালকে বলেন, এখনই সবকিছু বলার সময় হয়নি। দল থেকে কোনো সিদ্ধান্ত হলে, সেটাই দলের নেতারাই ঘোষণা দিবেন।
সার্বিক বিষয় নিয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘ফেসবুকে আমরাও আলহামদুলিল্লাহ লেখা দেখছি। কেউ বলছে, ছেলে আমেরিকায় চাকরি পেয়েছে, তাই লিখছে। কেউ বলছে, মনোনয়ন পাচ্ছে। দল থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। তার প্রত্যাবর্তন বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ব এনপ ত র অন স র র ব এনপ র স ড স ম বর র জন ত ফ সব ক
এছাড়াও পড়ুন:
ফ্রিল্যান্সিং করে ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় লাখ টাকা
অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল তানিয়া খলিলের (২২)। বিয়ের বছরখানেক পরই মা হন তিনি। এরই মধ্যে সংসার আর শিশুসন্তান সামলিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন ফ্রিল্যান্সার। নিজে ফ্রিল্যান্সিং শিখে অন্যদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁর মাসে আয় প্রায় এক লাখ টাকা।
তানিয়ার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বাজারপাড়া এলাকায়। ২০২১ সালে মাটিরাঙ্গা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী ইব্রাহিম খলিল পেশায় ফ্রিল্যান্সার। সেই সুবাদে তানিয়ারও এ জগতে চলা শুরু। ২০২৩ সালের শুরুতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খাগড়াছড়ি সদরে চলে আসেন। সেখানেই এখন দুজন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালান।
তানিয়া জানান, বিয়ের পর পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এর মধ্যেও ঘরে বসে কিছু করতে চাইতেন। এরপর স্বামী ইব্রাহিম খলিল তাঁকে ফ্রিলান্সিং শেখার জন্য উৎসাহ দিতে থাকেন। তিনিও সে সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল, সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।—তানিয়া খলিল, ফ্রিল্যান্সারতানিয়া খলিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি প্রথমে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শেখা শুরু করি। রং, লে আউট, টাইপোগ্রাফি—সবই আমার কাছে নতুন ছিল। নিজের আগ্রহ থাকায় দ্রুত শিখে ফেলি। কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকে ফ্রিল্যান্সিং বাজারের জন্য তৈরি করে ফেলতে সক্ষম হয়েছি।’
ফ্রিল্যান্সিং শেখার মধ্যেই ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম কাজ পেয়েছেন তানিয়া। লোগো ডিজাইন করে সে মাসে তিনি ১৩ ডলার আয় করেছিলেন। এর পর থেকে আর থেমে থাকতে হয়নি তাঁকে। সেই স্মৃতি মনে করে তানিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।’
তানিয়া বলেন, লোগো ডিজাইনের পর ব্র্যান্ড আইডেনটিটি, বিজনেস কার্ড, লেটারহেড তৈরিসহ নানান ধরনের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। গ্রাহকদের খুশি করতে পারায় দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম বাড়ে তাঁর। এরপর একের পর এক কাজ আসতে থাকে। আয়ও সমানতালেই বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি ফাইভারের পাশাপাশি আপ ওয়ার্কে ফ্রিল্যান্সের কাজ করেন।
সম্প্রতি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের দোতলায় প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের বিশাল কক্ষে সারিবদ্ধভাবে ল্যাপটপ নিয়ে বসে রয়েছেন কয়েকজন তরুণী। তানিয়া তাঁদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। একটু শুনতেই বোঝা গেল তানিয়া তরুণীদের গ্রাফিক ডিজাইন কীভাবে করতে হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।তানিয়ার জন্য এসব কাজ অবশ্য খুব একটা সহজ ছিল না। সময়মতো কাজ জমা দেওয়া, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, সন্তানকে দেখাশোনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই ছিল চ্যালেঞ্জের। তানিয়া বলেন, ‘পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। আমার স্বামী এখনো আমার সবচেয়ে বড় সহযোগী।’
খাগড়াছড়ি শহরে নারীদের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তানিয়া খলিল। সম্প্রতি তোলা