চাকসুর ভোটের দিন ১১ বার যাওয়া-আসা করবে শাটল ট্রেন, থাকবে বিশেষ বাস
Published: 14th, October 2025 GMT
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বুধবার। ভোটের দিন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১১ বার করে চট্টগ্রাম নগর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা–যাওয়া করবে শাটল ট্রেন। এ ছাড়া চলাচল করবে ৩০টি বাস। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যাবে সকাল সাড়ে সাতটায়। এটি বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছাবে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে। একই স্টেশন থেকে ৮টায় একটি ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ষোলশহর স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৯টা, সোয়া ১০টা, বেলা সাড়ে ১১টা ও বেলা পৌনে একটায় ট্রেন ছাড়বে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে বেলা আড়াইটা, বেলা সাড়ে তিনটা, বিকেল ৫টা, রাত সাড়ে ৮টা ও রাত সাড়ে ১০টা ১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ট্রেন ছেড়ে যাবে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যাবে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে। সেটি ৯টা ১০ মিনিটে ষোলশহরে পৌঁছাবে। এরপর সকাল ৯টা ৫ মিনিট, সকাল সাড়ে ১০টা, বেলা ১১টা ৫ মিনিট, বেলা ১টা, বেলা ২টা, বেলা ৩টা ৩৫ মিনিট, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট, রাত ৯টা ৪৫ মিনিট ও রাত পৌনে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেড়ে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, নির্বাচনের দিন সকাল নয়টায় নিউমার্কেট থেকে পাঁচটি ভাড়া বাস এবং ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্স থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পাঁচটি বাস ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হবে। সকাল ১০টায় আরও পাঁচটি বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। বেলা তিনটা ও বিকেল চারটায় ক্যাম্পাস থেকে পাঁচটি করে বাস ষোলশহরের উদ্দেশে ছাড়বে। সর্বশেষ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ক্যাম্পাস থেকে পাঁচটি বাস নিউমার্কেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
চাকসুর নির্বাচন কমিশনের প্রধান মনির উদ্দিন বিশেষ ট্রেন ও বাসের সময়সূচি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চাকসু নির্বাচনে ভোটারদের সুবিধার্থে যাতায়াতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন ও বাস চলাচল করবে। শিক্ষার্থীরা যাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হয় সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ‘ভোটারদের জন্য নির্দেশিকা’তে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন ভোটারদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। ভোটাররা কেবল নির্ধারিত হলে ভোট দিতে পারবেন। প্রতিটি ভোটকক্ষে সর্বোচ্চ ৫০০ শিক্ষার্থী ভোট দেবেন। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর পরিচয় যাচাই শেষে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে—এর মধ্যে চারটি কেন্দ্রীয় সংসদ (চাকসু) এবং একটি নিজ হল সংসদের জন্য।
ব্যালটে নির্ধারিত প্রতীকের পাশে বৃত্ত ভরাট করতে হবে ভোটারদের। ব্যালট নির্দিষ্ট বাক্সে ফেলার পর ভোটারকে কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে। কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, রোভার স্কাউট ও নিরাপত্তা কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গণনা করা হবে ওএমআরে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি সপ্তম ছাত্র সংসদ নির্বাচন। প্রায় সাড়ে তিন দশক পর চাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন হচ্ছে। গতকাল ছিল চাকসুর নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন। আগামীকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চাকসু নির্বাচনের ভোট হবে। এরপর শুরু হবে গণনা।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
ফ্রিল্যান্সিং করে ২২ বছরের তানিয়ার মাসে আয় লাখ টাকা
অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল তানিয়া খলিলের (২২)। বিয়ের বছরখানেক পরই মা হন তিনি। এরই মধ্যে সংসার আর শিশুসন্তান সামলিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন ফ্রিল্যান্সার। নিজে ফ্রিল্যান্সিং শিখে অন্যদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁর মাসে আয় প্রায় এক লাখ টাকা।
তানিয়ার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বাজারপাড়া এলাকায়। ২০২১ সালে মাটিরাঙ্গা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী ইব্রাহিম খলিল পেশায় ফ্রিল্যান্সার। সেই সুবাদে তানিয়ারও এ জগতে চলা শুরু। ২০২৩ সালের শুরুতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খাগড়াছড়ি সদরে চলে আসেন। সেখানেই এখন দুজন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালান।
তানিয়া জানান, বিয়ের পর পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এর মধ্যেও ঘরে বসে কিছু করতে চাইতেন। এরপর স্বামী ইব্রাহিম খলিল তাঁকে ফ্রিলান্সিং শেখার জন্য উৎসাহ দিতে থাকেন। তিনিও সে সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল, সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।—তানিয়া খলিল, ফ্রিল্যান্সারতানিয়া খলিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি প্রথমে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শেখা শুরু করি। রং, লে আউট, টাইপোগ্রাফি—সবই আমার কাছে নতুন ছিল। নিজের আগ্রহ থাকায় দ্রুত শিখে ফেলি। কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকে ফ্রিল্যান্সিং বাজারের জন্য তৈরি করে ফেলতে সক্ষম হয়েছি।’
ফ্রিল্যান্সিং শেখার মধ্যেই ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম কাজ পেয়েছেন তানিয়া। লোগো ডিজাইন করে সে মাসে তিনি ১৩ ডলার আয় করেছিলেন। এর পর থেকে আর থেমে থাকতে হয়নি তাঁকে। সেই স্মৃতি মনে করে তানিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম আয় আমাকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনে হয়েছিল সত্যিই কিছু করার সামর্থ্য আছে আমার।’
তানিয়া বলেন, লোগো ডিজাইনের পর ব্র্যান্ড আইডেনটিটি, বিজনেস কার্ড, লেটারহেড তৈরিসহ নানান ধরনের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। গ্রাহকদের খুশি করতে পারায় দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম বাড়ে তাঁর। এরপর একের পর এক কাজ আসতে থাকে। আয়ও সমানতালেই বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি ফাইভারের পাশাপাশি আপ ওয়ার্কে ফ্রিল্যান্সের কাজ করেন।
সম্প্রতি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের দোতলায় প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের বিশাল কক্ষে সারিবদ্ধভাবে ল্যাপটপ নিয়ে বসে রয়েছেন কয়েকজন তরুণী। তানিয়া তাঁদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। একটু শুনতেই বোঝা গেল তানিয়া তরুণীদের গ্রাফিক ডিজাইন কীভাবে করতে হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।তানিয়ার জন্য এসব কাজ অবশ্য খুব একটা সহজ ছিল না। সময়মতো কাজ জমা দেওয়া, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, সন্তানকে দেখাশোনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই ছিল চ্যালেঞ্জের। তানিয়া বলেন, ‘পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। আমার স্বামী এখনো আমার সবচেয়ে বড় সহযোগী।’
খাগড়াছড়ি শহরে নারীদের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তানিয়া খলিল। সম্প্রতি তোলা