রাকসু নির্বাচন: একটি ভোটের জন্য ১৪ সেকেন্ড বরাদ্দ
Published: 15th, October 2025 GMT
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে একজন ভোটারকে মোট ২৩টি পদ, হল সংসদ নির্বাচনে ১৫টি পদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের পাঁচটি পদ মিলিয়ে মোট ৪৩টি ভোট দিতে হবে।
এসব ভোট দিতে ভোটারের জন্য বরাদ্দ থাকবে ১০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতিটি ভোট দিতে গড়ে প্রায় ১৪ সেকেন্ড করে সময় পাবেন একজন ভোটার।
আরো পড়ুন:
রাকসু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বুথ
১৭ ঘণ্টার মধ্যেই রাকসুর ফল প্রকাশ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়ানো ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া ভোটাররা নির্দিষ্ট ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদানের পাশাপাশি সঠিক রঙের ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নয়টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রের ৯৯০ বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটিতে থাকবে ছয় রঙের ব্যালট বাক্স। ছয়টি আলাদা ব্যালটে ভোট দিতে হবে। এছাড়া নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ২ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ভোটগ্রহণ শেষে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে ভোট গণনা এবং কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এবারের রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২৪৭ জন প্রার্থী।
সার্বিক বিষয়ে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড.
তিনি আরো জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ১০০টি সিসি ক্যামেরা। সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও গোছানো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন।
পুনর্বিন্যাস্ত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষে সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ঢাকা/ফাহিম/মেহেদী
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৩, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ১৯১ জন। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে সরকার।
ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, বন্যায় ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৮ হাজার মানুষকে সরকার পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিএমসির মুখপাত্র প্রদীপ কডিপিল্লি বলেছেন, বন্যায় সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া আরও ৭ লাখ ৯৮ হাজার মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় কুরুনেগালা জেলায় শনিবার বিকেলে বন্যায় প্লাবিত একটি বৃদ্ধাশ্রমের ১১ জন বাসিন্দাও আছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার বন্যায় আটকে পড়া ৬৯ বাসযাত্রীকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। তাঁদের মধ্যে একজন জার্মান পর্যটকও আছেন। তাঁরা অনুরাধাপুরা জেলায় আটকা পড়েছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন যাত্রী জানান, নৌবাহিনীর নাবিকেরা রশি ব্যবহার করে বন্যার পানি পার করিয়ে নিকটস্থ একটি বাড়ির ছাদে উঠতে তাঁদের সাহায্য করেছিলেন।
ডব্লিউ এম শান্থা নামের ওই যাত্রী বলেন, ‘আমরা খুব ভাগ্যবান ছিলাম…আমরা যখন ছাদে ছিলাম, তখন এর একটি অংশ ধসে পড়ে।…ওই সময় তিনজন নারী পানিতে পড়ে যান। কিন্তু তাঁদের আবার ছাদে উঠতে সাহায্য করা হয়েছিল।’
প্রাথমিকভাবে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁদের উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু পাখার বাতাসে ছাদটি উড়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়। পরে নৌবাহিনীর নৌকার সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুনশ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ৮০ জনের বেশি নিহত২১ ঘণ্টা আগে