সীতাকুণ্ডে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি হামলায় আহত ৪, ফাঁকা গুলি
Published: 9th, May 2025 GMT
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফাঁকা গুলি ছুড়েছে একটি পক্ষ। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াতের আহত তিন নেতাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপিরও এক কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জামায়াতের তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন উপজেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কুতুব উদ্দিন শিবলী, ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা মোহাম্মদ আলী ও আবদুস সালাম।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে একই সময়ে জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপি ও জামায়াতের পৃথক দুটি সভা ছিল। জঙ্গল সলিমপুর এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জামায়াতের নেতা শহিদুল ইসলামের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে সলিমপুর ইউনিয়ন জামায়াত। ওই বিদ্যালয়ের কিছুটা দূরে একটি মাদ্রাসায় বিএনপির একটি প্রস্তুতি সভা ছিল। সে সভায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে মুখোমুখি হলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলা করে।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার সময় ফাঁকা গুলি ছোড়ার শব্দ শুনেছেন তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াতের আহত তিন নেতাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিএনপির এক কর্মী আহত হওয়ার খবর পেলেও তাঁরা ঘটনাস্থলে পাননি। এ ঘটনা থানায় কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানান তিনি।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
বিএসএফের বিবৃতি: ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে ছোড়া’ গুলিতে নিহত হয়েছে
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে শনিবার বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। নিহত বাংলাদেশির পরিচয় সেই বিবৃতিতে না থাকলেও বিএসএফ জানিয়েছে ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ গুলি চালানোর কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিহত হয়েছে ওই বাংলাদেশি।
বিএসএফ বলেছে, “পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় অবৈধ চোরাচালান চেষ্টা করার সময় বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলা চালায়। ঘটনাটি ঘটে ৩২ ব্যাটালিয়নের অধীনে বিওপি মাটিয়ারিতে।...চোরাকারবারিরা গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হলে, জওয়ানরা আত্মরক্ষায় গুলি চালায়, চোরাচালানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। অভিযানে একজন বাংলাদেশি চোরাকারবারি নিহত হয়, অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি কাটার, চারটি ধারালো অস্ত্র, ৯৬ বোতল ফেনসিডিল এবং দুই বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
বিএসএফের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২৯ নভেম্বর বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটেরি দিকে ৩২ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা সীমান্ত বেড়ার কাছে ৬-৭ জন ভারতীয় চোরাকারবারিকে প্লাস্টিকের বান্ডিল বহন করতে দেখে। তারা বেড়ার ওপারে এই বান্ডিলগুলো ছুঁড়ে মারছিল একং অন্য দিকের বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা সেগুলো সংগ্রহ করছিল। জওয়ান তাদের থামাতে সতর্কতামূলক এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায়, কিন্তু এতে কোনো কজা হয়নি। চোরাকারবারীদের চোরাচালান থেকে আটকানোর উদ্দেশ্যে, জওয়ান তাদের দিকে এগিয়ে যায়। এই সময় ভারতীয় বাহিনী লক্ষ্য করে যে, বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা ধারালো অস্ত্র (দা) নিয়ে সজ্জিত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে সীমান্তরক্ষীদের এক জন অস্ত্র থেকে ফাঁকা গুলি ভর্তি ম্যাগাজিনটি সরিয়ে ফেলে এবং তাজা গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিন প্রবেশ করায়। এই পদক্ষেপের ফলে পাচারকারীরা আক্রমণাত্মক এবং উস্কানিমূলক প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাদের মধ্যে একজন বিএসএফ সদস্যকে দা দিয়ে আঘাত করে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ট্রিগারটি চাপ দেওয়া হয়, যার ফলে একটি তাজা গুলি একজন বাংলাদেশি চোরাকারবারিকে আঘাত করে।
গুলির শব্দ শুনে এবং তাদের দলের একজনকে পড়ে যেতে দেখে, অন্য চোরাকারবারীরা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে। পিছু হটার সময়, তারা তাদের আহত সহযোগীকে প্রায় ৫০-৬০ মিটার টেনে টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু জলমগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর তাকে এবং তার বান্ডিলগুলো ফেলে রেখে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর, এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় একটি কাটার, চারটি ধারালো অস্ত্র, ৯৬ বোতল ফেনসিডিল এবং দুই বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
আহত বাংলাদেশি পাচারকারীকে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কৃষ্ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারকৃত সমস্ত জিনিসপত্র সহ তার মৃতদেহ কৃষ্ণগঞ্জ পুলিশের কাছে আরও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় থানায় একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।
বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিএসএফ বারবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে বাংলাদেশি পাচারকারীদের অনুপ্রবেশ এবং আক্রমণের বিষয়টি উত্থাপন করেছে। দুর্ভাগ্যবশত, অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের কারণে, এই অপরাধীদের মনোবল বেড়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানা গেছে, গুলিতে নিহত বাংলাদেশির নাম শহীদ হোসেন (৩৮) । চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের ৭০ নম্বর প্রধান খুঁটি (মেইন পিলার) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শহীদ হোসেনের বাড়ি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামে।
ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ