Samakal:
2025-11-30@12:30:48 GMT

বিপিএলের কাজ বরাদ্দে অনিয়ম

Published: 14th, May 2025 GMT

বিপিএলের কাজ বরাদ্দে অনিয়ম

বিসিবির বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকার বাইরে থেকে ভেন্ডরদের কাজ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বিপিএলে এডুটেকস লিমিটেড ও ইন্টারঅ্যাকটিভ লিমিটেডকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এডুটেকস বিপিএলের থিম সং তৈরি ও টুর্নামেন্টে ডিজের কাজ পেয়েছিল। আর ইন্টারঅ্যাকটিভকে কাজ দেওয়া হয় পাঁচ ক্যাটেগরিতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই দুটি কোম্পানি বিসিবির বিজ্ঞাপনে বেঁধে দেওয়া সময়ে তালিকাভুক্ত হয়নি। পরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন অনুযায়ী তিন বছরের ভেন্ডর তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যে তালিকায় না থাকলেও আটটি ক্যাটেগরিতে কাজ দেওয়া হয় দুটি প্রতিষ্ঠানকে। 

বিপিএল একাদশ আসরের বিভিন্ন কাজের জন্য ভেন্ডর তালিকাভুক্ত করার বিজ্ঞাপন অনুযায়ী এনলিস্টেড হওয়ার শেষ সময় ছিল ১৪ অক্টোবর। কোনো অজানা কারণে এক দিন বাড়িয়ে ১৫ অক্টোবর করা হয় বিজ্ঞাপন দিয়ে। সে অনুযায়ী ৬৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয় বিপিএলের কাজ পাওয়ার জন্য। এই তালিকা থেকে ডিজাইন, প্রিন্টিং, চিত্রকর্ম, বিজ্ঞাপন, ক্রিয়েটিং সার্ভিস, আইটি সাপোর্ট, ব্র্যান্ডিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, বিজ্ঞাপন তৈরির কাজগুলো দেওয়ার কথা। অথচ কাজ দেওয়া হয় নিবন্ধিত তালিকার বাইরের দুই কোম্পানিকে। এ দুই কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিতে মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। ২১ নভেম্বর এডুটেকস আর ৮ ডিসেম্বর ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রতিটি ক্যাটেগরির জন্য ১৫ হাজার টাকা জমা দেয় ওয়ান ব্যাংকে। 

অনিয়মতান্ত্রিক ভেন্ডর নিয়োগ এবং কাজ দেওয়ার পেছনে কার হাত আছে, জানতে চাওয়া হলে বিসিবির টেন্ডার অ্যান্ড পারচেজ কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যে তালিকা পেয়েছি, সেখানে এডুটেকস ও ইন্টারঅ্যাকটিভ আছে।' 

বিসিবির এ পরিচালক জানেন না দেওয়ার কথা। অথচ কাজ দেওয়া হয় নিবন্ধিত তালিকার বাইরের দুই কোম্পানিকে। এ দুই কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিতে মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। ২১ নভেম্বর এডুটেকস আর ৮ ডিসেম্বর ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রতিটি ক্যাটেগরির জন্য ১৫ হাজার টাকা জমা দেয় ওয়ান ব্যাংকে। অনিয়মতান্ত্রিক ভেন্ডর নিয়োগ এবং কাজ দেওয়ার পেছনে কার হাত আছে, জানতে চাওয়া হলে বিসিবির টেন্ডার অ্যান্ড পারচেজ কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যে তালিকা পেয়েছি, সেখানে এডুটেকস ও ইন্টারঅ্যাকটিভ আছে।' 

বিসিবির এ পরিচালক জানেন না নিয়মবহির্ভূতভাবে ভেন্ডর তালিকাভুক্তির বিষয়টি। এ ব্যাপারে বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'প্রশাসনিক বিভাগ তালিকা করে থাকে। তারা ভালো বলতে পারবে। আমাদের কাছে যে তালিকা আছে, তাতে কাজ পাওয়া দুটি কোম্পানি নিবন্ধিত।' তিনি নির্ধারিত সময়ের পরে ভেন্ডর তালিকাভুক্তির বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি।

গত সেপ্টেম্বরে টেন্ডার অ্যান্ড পারচেজ বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। এডুটেকস ও ইন্টারঅ্যাকটিভ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'আমরা সবাই মিলে বোর্ডে কয়েকটি ভেন্ডরকে তালিকাভুক্ত করেছি। যে দুই কোম্পানির কথা বলা হচ্ছে, তারা আগে থেকেই বিসিবিতে কাজ করত। এ কারণে কাজ পেয়েছে।' 

এ ব্যাপারে বিসিবি পরিচালকদের কাছে জানতে চাওয়া হলে দু'জন বলেন, ‘এই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছে প্রেজেন্টেশন দেওয়ার সময়। কীভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে, তা জানা নেই।' 

বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, সভাপতি তাঁর ক্ষমতাবলে কয়েকটি ভেন্ডর তালিকাভুক্ত করেছেন। যদিও বিসিবির গঠনতন্ত্রে সভাপতিকে অতীব জরুরি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, তিন কার্যদিবস থাকলে যে কোনো সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদন করতে হবে। ন্যূনতম সময় থাকলে তিনজন পরিচালকের উপস্থিতিতে জরুরি সভা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিপিএলের ভেন্ডর তালিকাভুক্তকরণ বা কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব প এল ত ল ক ভ ক ত কর ব প এল র অন য ম র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম ও তাঁর স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দ

সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মির্জা আজম ও তাঁর স্ত্রী দেওয়ান আলেয়ার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ আজ রোববার এই আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। দুদকের পক্ষে পৃথক দুটি আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান।

মির্জা আজমের বিষয়ে করা আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। নিজ নামে ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ টাকা এবং তাঁর মেয়ে আফিয়া আজমের নামে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। পরিবারের সদস্যসহ অন্যদের নামে ২০ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি দান করার মধ্য দিয়ে সম্পদসমূহ হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

মির্জা আজমের স্ত্রী দেওয়ান আলেয়ার আয়কর নথি চেয়ে করা আবেদনে বলা হয়, দেওয়ান আলেয়া তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নামের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৭২৫ কোটি ৭০ লাখ ৪২ লাখ ২৩২ টাকা জমা ও ৭২৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৭১৫ টাকা উত্তোলন করে অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। এসব অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ৪(২), ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায়  তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মির্জা আজম ও তাঁর স্ত্রীর শুরু থেকে সর্বশেষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ